জনতা-পুলিশ খণ্ডযুদ্ধে অগ্নিগর্ভ চুঁচুড়া, চলছে বনধ

0
180

নিজস্ব প্রতিবেদক, চুঁচুড়া: ফের পুলিশের গুলি চালানো নিয়ে উত্তেজনা ছড়াল। এবার ঘটনাস্থল হুগলির চুঁচুড়া। শুক্রবার রাতে পুলিশের গুলি চালানোর প্রতিবাদে শনিবার সকাল থেকেই বনধ চলছে চুঁচুড়ার রবীন্দ্রনগরে। এর উপর এদিন সকালে টায়ার পুড়িয়ে, আগুন জ্বালিয়ে জিটি রোড অবরোধ করে রবীন্দ্রনগরের বাসিন্দারা। পুলিশ অবরোধ তুলতে গেলে পুলিশ কর্মীদের ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখায় স্থানীয়রা। তারপর কমিশনারেট হুমায়ুন কবীরের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী অবরোধ তুলতে গেলে জনতা-পুলিশ খণ্ডযুদ্ধ বেধে যায়। পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট বৃষ্টি শুরু করে এলাকাবাসী। পুলিশও জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পাল্টা লাঠিচার্জ করে এবং কাঁদানে গ‍্যাসের শেল ফাটায়। সবমিলিয়ে, শনিবার সকালে ফের অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে চুঁচুড়ার রবীন্দ্রনগর এলাকা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাত সাড়ে বারোটা নাগাদ চন্দননগর কমিশনারেটের অতিরিক্ত কমিশনার যশপ্রীত সিংয়ের নেতৃত্বে বিরাট পুলিশ বাহিনী দুষ্কৃতীদের ধরতে রবীন্দ্রনগরে অভিযান চালায় এবং শূন্য গুলি চালায়। এই ঘটনায় এলাকার পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। যদিও গুলি চালানোর ব্যাপারে পুলিশের সাফাই, কয়েকজন দুষ্কৃতীকে গ্রেফতার করতেই এলাকার মানুষ পুলিশকর্মীদের হাত থেকে তাদের ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য টানা-হ্যাঁচড়া শুরু করে। মহিলারাও রাস্তায় বেরিয়ে বিক্ষোভ দেখান। পরিস্থিতি সামাল দিতেই পুলিশকর্মীরা শূন্যে গুলি ছুড়তে বাধ্য হন। যদিও এলাকাবাসীর পাল্টা অভিযোগ, দুষ্কৃতী দমন করতে গিয়ে পুলিশ এলাকার নিরীহ পুরুষদের মারধর করে। এলাকার মহিলাদেরও হেনস্তা করা হয়। অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। এই ঘটনার প্রতিবাদে রাতেই পুলিশকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় মহিলারা। তখনই পুলিশ গুলি ছোড়ে। যার ফলে এলাকার পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে।

তারপর পুলিশি অত্যাচারের প্রতিবাদে শনিবার সকাল থেকে রবীন্দ্রনগর এলাকায় ১২ ঘন্টা বনধের ডাক দেয় স্থানীয় বাসিন্দারা। ওই বনধে এলাকার প্রায় সমস্ত মানুষই সামিল হয়েছে। সকাল থেকেই এলাকার সমস্ত বাজার-দোকান বন্ধ। যান চলাচলও খুব কম। যদিও শান্তিপূর্ণভাবে বনধ পালিত হয়নি। পুলিশি অত্যাচারের প্রতিবাদে এদিন সকালে বিরাট মিছিল করে রবীন্দ্রনগরের সাধারণ মানুষ। রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে, জিটি অবরোধ করে বিক্ষোভেও সামিল হয়। পুলিশ অবরোধ তুলতে গেলেই এলাকার পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। যদিও আপাতত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে পুলিশের দাবি। তবে এই ঘটনায় ফের প্রশ্নের মুখে হুগলির জেলা সদরের আইন-শৃঙ্খলা।

প্রসঙ্গত, বছর খানেক ধরেই হুগলির চুঁচুড়া, ব্যান্ডেল সহ বিভিন্ন এলাকায় দুষ্কৃতী তাণ্ডব অব্যাহত। গত কয়েকমাসে এই সমস্ত অঞ্চলে বেশ কয়েকজন নেতা ও দুষ্কৃতী খুন হয়েছে। এই ঘটনায় পুলিশের ভুমিকা প্রশ্নের মুখে। বেশ কয়েকবার পুলিশ আধিকারিক বদল করেও কোনও সুরাহা হয়নি। তাই এবার দুষ্কৃতী দমন করতে ধরপাকড় শুরু করেছে পুলিশ। কিন্তু সেটা করতে গিয়েও গুলি চালিয়ে জনতার বিক্ষোভের মুখে পড়লেন পুলিশকর্মীরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here