মহানগর ওয়েবডেস্ক: বড় কঠিন সময় এখন। একটি অদৃশ্য জীবাণু কয়েক মাসের মধ্যে পাল্টে দিয়েছে চেনা পৃথিবীটাকে। সামাজিক নৈকট্য যেখানে মানবিক গুণ বলে বিবেচিত হতো এখন তা দোষাবহ। পরস্পরের বাড়ি গিয়ে সামাজিকতা হয়তো বন্ধই হয়ে গেল, অন্তত করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত। এখন সভ্যতার মূল স্লোগান ‘তফাৎ যাও’।

সারা পৃথিবী জুড়ে আপাতত পারস্পরিক নৈকট্য ঠেকানোর জন্য নানাবিধ আইন রচিত হচ্ছে। দীর্ঘদিনের অভ্যাস বদল শুধু উপদেশে হয় না, আদেশ জারি করতে হয় এই সত্য উপলব্ধি করেই সমস্ত দেশের সরকার নতুন নতুন আইন তৈরি করতে শুরু করেছে। উদ্দেশ্য একটাই, ঘনিষ্টতা কমানো। ঘনিষ্টতার নানা ধরন, নানান ক্ষেত্র। তাই আইন প্রণেতাদেরও খেয়াল রাখতে হচ্ছে খুঁটিনাটি বিভিন্ন দিকে। তারই এক নমুনা পাওয়া গেল ইংল্যান্ডে জারি হওয়া নতুন আইনে।

মারাত্মক ছোঁয়াচে রোগ এই কোভিড–১৯। কে যে গোপনে বহন করে চলেছে এই ভাইরাস তা দেখে বোঝার উপায় নেই। এক বাড়িতে থাকলে তবু সম্ভাবনা আছে জানার কিন্তু অন্য বাড়ি, অন্য জায়গা সবই আজ সন্দেহের তালিকায় প্রবেশ করেছে। তাই ইংল্যান্ডের নতুন আইনে বাড়ির লোকের সঙ্গেই একমাত্র শারীরিক মিলনকে ছাড় দেওয়া হয়েছে, বাড়ির বাইরে অন্য কারও সঙ্গে যৌন মিলন কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ১ জুন থেকে লাগু হয়েছে এই নতুন নিয়ম।

এতদিন পর্যন্ত অতিথি সমাগমে দোষী হতেন অতিথি, এখন যাঁর কাছে গেছেন এবং যিনি গেছেন দু’জনকেই দোষী সাব্যস্ত করা হবে। সোমবার পার্লামেন্টে যে আইনটি পেশ করা হয়েছে তাতে লেখা রয়েছে, ”পারস্পরিক মেলামেশা বা একসঙ্গে কোনও ক্রিয়াকলাপ চালানোর জন্য দুই বা ততোধিক মানুষ একটি জায়গায় মিলিত হলে তাকে সমবেত হওয়া বলা হয়।” এই সমবেত হওয়াকেই নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই আইনে স্পষ্ট ভাষায় বলে দেওয়া হয়েছে, একই বাড়িতে বসবাস করে না এমন দুই ব্যক্তির মধ্যে অন্তত দেড় মিটারের ব্যবধান রাখতে হবে।

এত কিছু জানানোর পরও যদি কেউ বুঝতে না চায় সরকারি আইনটি ঠিক কী বলতে চেয়েছে তাদের জন্য চাঁছাছোলা ভাষায় পরিস্কার লিখে দেওয়া হয়েছে, অন্য বাড়ি থেকে এসেছে বা থাকে এমন কারও সঙ্গে দৈহিক মিলন করা আইনত নিষিদ্ধ। এছাড়া খেলা, শেষকৃত্যে উপস্থিত হওয়া, মারামারি লাগালে পালানো ছাড়া দুজন মানুষ দেড় মিটারের মধ্যে থাকতে পারবে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here