bengali news

 

মহানগর ডেস্ক: দ্বিতীয়দফায় এলোপাথাড়ি ব্যাটিং শুরু করেছে করোনা৷ প্রতিদিন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে সংক্রমণ৷ এককথায় যাকে বলা যায়, সুনামির  মতো আছড়ে পড়ছে অতিমারীর ঢেউ৷ পশ্চিমবঙ্গ সহ গোটা দেশেই দৈনিক সংক্রমণ সব মাত্রা ছাড়িয়ে গিয়েছে গত কয়েকদিনে৷ তাই এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে বিধানসভা নির্বাচন উপলক্ষ্য রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং সভা-সমাবেশে জমায়েতের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির আবেদন জানিয়ে মামলা দায়ের হল কলকাতা হাইকোর্টে৷ সব দলের মিটিং, মিছিল, জনসংযোগযাত্রা, রোড শো থেকে শুরু করে লোক ভিড় করার উদ্দেশ্যে সব রকমের রাজনৈতিক কর্মসূচি অবিলম্বে নিষিদ্ধ করা হোক৷ কোনও দলের নেতা সভা-সমিতিতে উপস্থিত তাদের অনুগামী-সমর্থকদেরকে মাস্ক পরার আবেদন করছেন না৷ করোনার বাড়বাড়ন্ত রুখতে কোনওভাবেই স্বাস্থ্যবিধি মানছে না কোনও দলই৷ শনিবার এই মর্মে জনস্বার্থ মামলা রুজু হল কলকাতা হাইকোর্টে৷ সোমবার এই মামলার শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে উচ্চ আদালত সূত্রে খবর৷

উল্লেখ্য ইতিমধ্যেই মাত্র দুদিন আগে করোনার দ্বিতীয়দফা মোকাবিলায় সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে ভার্চুয়াল বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি৷ গতকাল কলকাতায় দলীয় প্রচারে এসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ অবশ্য বলেছেন, লকডাউন জারির ব্যাপারটা রাজ্য সরকারগুলোর ওপর নির্ভর করছে৷ যে রাজ্যে করোনা পরিস্থিতি যেমন, সেই অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকার পদক্ষেপ করবে৷ কেন্দ্র সরকার এই দায়িত্ব রাজ্য সরকারের হাতে ছেড়ে দিতে ইচ্ছুক বলে জানান শাহ৷ এদিকে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ পুরোদমে আছড়ে পড়ার অশনি সংকেতকে সামনে রেখে রাজ্যের সবকটা রাজনৈতিক দলকে চিঠি লিখে সাবধান-সতর্ক করেছে ওয়েস্টবেঙ্গল ডক্টরস ফোরাম৷ এই সংস্থার তরফে বলা হয়েছে, এবার করোনা আরও সর্বগ্রাসী এবং অতি ভয়ঙ্কর চেহারা নিতে চলেছে৷ করোনা এখন আরও বেশি শক্তিশালী রূপ নিচ্ছে৷ প্রতিদিন সংক্রমণ নতুন করে রেকর্ড করছে৷ নিজেই নিজের রেকর্ড ভাঙছে অতিমারী এই ভাইরাস৷ যার প্রাদুর্ভাবে ফের নাকাল হতে হবে রাজ্য তথা দেশবাসীকে৷

অথচ করোনার এই ভ্রুকূটির তোয়াক্কা না করেই সব রাজনৈতিক দলের নেতানেত্রীরা ভোটের খেলায় মেতে রয়েছেন৷ করোনা নিয়ে তাঁদের বিন্দুমাত্র মাথাব্যথা দেখা যাচ্ছে না৷ প্রতিদিন মিটিং-মিছিল, পদযাত্রা, সভা-সমাবেশ, রোড শোয়ে লাগামছাড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে৷ করোনার প্রকোপ রোধে ভোট উপলক্ষে সব রাজনৈতিক দলের জমায়েতের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হোক, এই আবেদনের নিরিখে হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হল৷ উল্লেখ্য, রাজ্যে বিধানসভা ভোট ৮ দফায় হওয়ার কথা৷ আজ শনিবার চতুর্থদফা ভোট হচ্ছে৷ অর্থাৎ এখনও চার দফা বাকি রয়েছে৷ নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ হবে ২৬ এপ্রিল৷ ফলাফল ঘোষণা হবে ২ মে৷ তারপরেও নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে হবে বিজয়োৎসব এবং বিজয় সমাবেশ৷ সেইসব অনুষঙ্গেও মানুষের জমায়েত হতেই থাকবে৷ কোনও ক্ষেত্রেই করোনাবিধি বা স্বাস্থ্যবিধি চরমভাবে উপেক্ষিত হবে, এটা বলাই বাহুল্য৷ সুতরাং নির্বাচনী প্রক্রিয়া উপলক্ষে রাজনৈতিক দলগুলোর আনন্দোৎসব দীর্ঘদিন চলমান থাকলে রাজ্যে করোনার মড়ক লেগে যাবে৷ উজাড় হবে গ্রাম থেকে শহর৷ উল্লেখ্য ভোটপার্বণে স্বাস্থ্যবিধি ভীষণ রকমের উপেক্ষিত হচ্ছে বলে নির্বাচন কমিশনকেও চিঠি লিখেছিল বাংলার চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস ফোরাম৷ তারই পরিপ্রেক্ষিতে সংগঠনটির কাছে তথ্য চায় কমিশন৷ শুক্রবার ফোরামের তরফে বিস্তারিত তথ্য দিয়ে কমিশনকে সবকিছু জানায় ফোরাম৷

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here