মহানগর ওয়েবডেস্ক: রাজস্থানে কংগ্রেসের সংকট কেটে যাওযার বদলে ক্রমাগত আরও ঘনীভূত হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলটের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বিদ্রোহ করা উপ মুখ্যমন্ত্রী শচিন পাইলটের একরোখা মনোভাবে দল ও সরকার দুই যথেষ্ট বিপদের সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতার খুব সামান্যই ওপাশে থাকা গেহলট সরকার যে মাত্র কয়েকজন বিধায়কের সমর্থন হারালেই শাসন ক্ষমতা হারাবে সেকথা জেনেই বিক্ষুব্ধ শচিন দাবি করেছিলেন তার সঙ্গে ৩০ জন বিধায়ক রয়েছেন।

রবিবার রাতে নিজের বাসভবনে দলীয় বিধায়কদের নিয়ে বৈঠক করে গেহলট জানিয়ে দেন তার সমর্থনে ১০৯ জন বিধায়কের স্বাক্ষর করা চিঠি রয়েছে। কংগ্রেসের হাইকম্যান্ডের পক্ষ থেকেও জানানো হয় পাইলটের সঙ্গে খুব বেশি হলে ১৬ জন বিধায়ক থাকতে পারেন। এরই মধ্যে উপ মুখ্যমন্ত্রীর শিবির থেকে একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয় যেখানে দেখা গিয়েছে রাজস্থানের ১৫ জন বিধায়ক একটি জায়গায় বসে রয়েছেন। যদিও সেখানে শচিন পাইলটকে দেখা যায়নি।

কর্নাটক ও মধ্যপ্রদেশের সরকার পাঁচিল টপকানো বিধায়কদের জন্যই হাতছাড়া হওয়ায় রাজস্থানের ব্যাপারে ক্রমাগত জল মেপে চলেছে কংগ্রেস হাইকম্যান্ড। সোমবার সন্ধ্যায় একটি পরিমার্জিত হিসেব করে তারা দেখেছেন বিদ্রোহী নেতার সঙ্গে রয়েছেন ১০ থেকে ১২ জন বিধায়ক। এই হিসেবের কথা পাইলট শিবিরের কাছে পৌঁছলে তার ১৫ জন বিধায়কের ভিডিও প্রকাশ করে।

এদিকে গেহলটের বাসভবনের বৈঠকে উপস্থিত থাকা দলীয় বিধায়কদের মধ্যে ১২ জনকে সকাল থেকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানা গিয়েছে দলীয় সূত্রে। কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কোনওরকম ঝুঁকি না নিয়ে বিধায়কদের একটি রিসর্টে নিয়ে তুলেছে। বিজেপি’র হাত থেকে রক্ষা করতেই এই ব্যবস্থা বলে জানানো হয়েছে দলের পক্ষ থেকে। কারণ কংগ্রেস সরকারকে বিধানসভায় সমর্থন জানানো সিপিআই(এম) সহ কয়েকটি দলের বিধায়ক রবিবার দাবি করেছিলেন যে গেহলটের থেকে সমর্থন প্রত্যাহারের জন্য বিজেপি’র পক্ষ থেকে তাদের ১৫ কোটি টাকা করে দেওযার প্রস্তাব দেওযা হয়েছে।

শচিন পাইলটের অনুগামীদের পক্ষ থেকে অবশ্য গতকালই জানানো হয়েছিল যে কংগ্রেসের বিক্ষুব্ধ নেতা বিজেপির সঙ্গে আলোচনা করলেও দলে যোগ দেওয়ার বিষয়ে কোনও কথা বলেননি। পাইলট গতকাল নিজেও একটি সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমকে বিজেপি’তে যোগদানের সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছিলেন। যদিও অশোক গেহলট ১০১ জন বিধায়কের সমর্থন না পেলে তার সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাবে এবং সরকারের পতন ঘটবে। এই অবস্থায় গোটা পরিস্থিতি যথেষ্ট জটিল ও বহুবিধ সম্ভাবনা তৈরি করে রেখেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here