FotoJet-2

ডেস্ক: লোকসভা জয়ের লক্ষ্যে ‘চৌকিদার’ অস্ত্রে লাগাতার শান দিচ্ছেন নরেন্দ্র মোদী। রাহুল গান্ধীর ‘চৌকিদার চোর হ্যা’-র পাল্টা দিয়ে ‘ম্যায় ভি চৌকিদার’ প্রচারের ঝড় তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী। তবে ‘চৌকিদার’ যে এতটাই মরিয়া হয়ে উঠেছেন যে বাথরুমকেও তিনি টেনে আনছেন ভোট প্রচারে। সোমবার নির্বাচনী প্রচারে মহারাষ্ট্রে যান মোদী। সেখানে গিয়ে তিনি নিজেকে ‘টয়লেট চৌকিদার’ বলে আখ্যা দেন। বলেন, দেশের মহিলাদের নিরপত্তার স্বার্থেই নাকি তিনি ‘টয়লেট চৌকিদার’ হয়েছেন। তবে নারী সুরক্ষার জন্য বাস্তবে তিনি কী পদক্ষেপ নেবেন, তা খোলসা করেন বলেননি মোদী।

বস্তুত, নির্বাচন জয়ের চেষ্টায় শেষ কামড় দিতেই মোদী এহেন প্রচারের রাস্তা বেছে নিয়েছেন বলে মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। চলতি লোকসভা ভোটে দেশ জুড়ে নারী সুরক্ষা অন্যতম ইস্যু হতে চলেছে। আর এই কথা মাথায় রেখেই এদিন নিজেকে ‘টয়লেট চৌকিদার’ বলেছেন মোদী। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, ‘আমি গর্বের সঙ্গে টয়লেট চৌকিদার। টয়লেটে চৌকিদারী করে আমি দেশের কোটি কোটি মহিলাদের সম্মান রক্ষা করব।’ কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তোপ দেগে মোদী বলেন, দু’দিন আগেই একজন কংগ্রেসের নেতা আমায় ‘টয়লেটের চৌকিদার’ বলেছিলেন। এই ধরনের মন্তব্য কি সাফাইকর্মীদের প্রতি অসম্মান নয়? সভায় উপস্থিত জনগণের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করেন মোদী।

ভোটের মুখে কৃষক সমস্যা নিয়েও কেন্দ্র যে অস্বস্তিতে রয়েছে তাও স্পষ্ট হয়ে যায় এদিন মোদীর কথায়। কংগ্রেস ও এনসিপি’র জোটকে নিশানায় নিয়ে তিনি দাবি করেন, শরদ পাওয়ার নিজে কৃষক হলেও এখন চাষিদের সমস্যা ভুলে গিয়েছেন। তবে কর্মসংস্থান, বা মূল্যবৃদ্ধির প্রসঙ্গ নিতে তাঁকে ‘টুঁ’ শব্দ করতে শোনা যায়নি। কিন্তু মোদী নিজেকে ‘টয়লেট চৌকিদার’ বলার পর একটা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রী নিজে তো সশরীরে সুলভ শৌচালয় পাহারা দিতে আসবেন না। তা হলে নিজেকে ‘টয়লেট চৌকিদার’ বলার পিছনে যৌক্তিকতা কোথায়? আর দেশের নারীদের সুরক্ষা দিতে মোদী যদি সুলভের বাইরে ‘চৌকিদারী’ না করেন, তবে এমন ‘দুর্ভল চৌকিদার’-এর প্রতিশ্রুতি আদতে কতটা কার্যকর হবে?

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here