PMModitoAK2-239295281_6

ডেস্ক: দেশজুড়ে চলছে ভোটের আবহ। সরগরম রাজনীতি। নেতা, মন্ত্রীদেরও ব্যস্ততা তুঙ্গে। সকলেই নির্বাচনী প্রচারের শেষ মুহূর্তে জনসংযোগ ঝালিয়ে নিতে তত্পর। এরই মাঝে অন্য মুডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দিল্লিতে নিজের বাসভবনে বলি-অভিনেতা অক্ষয় কুমারের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাত্কারে দেখা গেল তাঁকে। যদিও এই সাক্ষাত্কারের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী পরোক্ষে জনসংযোগে সামিল হয়েছেন বলেই রাজনৈতিক মহলের দাবি। তবে তাঁর এই সাক্ষাত্কারে কোনো রাজনৈতিক প্রসঙ্গ ছিল না, পুরোটাই ছিল অরাজনৈতিক। এককথায়, বলিউড খিলাড়ি-র সামনে নিজের ফেলে আসা জীবনের আয়না তুলে ধরেন মোদী।

পাঁচবছর দেশ শাসন করার পর ফের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে সামিল হয়েছেন নরেন্দ্র মোদী। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর গদিতে বসার কথা তিনি প্রথমজীবনে কল্পনাও করেননি। ব্যক্তিজীবনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অকপট নরেন্দ্র মোদী অক্ষয় কুমারকে জানান, মিশনের ভাবধারায় অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন তিনি। সন্ন্যাস হতে চেয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার কথা কল্পনাও করেননি। কিন্তু ভাগ্যের চাকা অন্যদিকে মোড় নিল। তাই তিনি যখন প্রধানমন্ত্রী হন, তাঁর মা প্রতিবেশীদের মধ্যে লাড্ডু বিতরণ করেন। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরই নরেন্দ্র মোদী দেশের সমস্ত জনগণকে ব্যাঙ্ক ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার জন্য জন-ধন যোজনা চালু করেন। অথচ প্রথমজীবনে নরেন্দ্র মোদীরই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ছিল না। পুরোনো স্মৃতিচারণা করে তিনি বলেন, ‘আমি যখন স্কুলে পড়তাম, দেনা ব্যাঙ্কের কর্মীরা স্কুলে এসে আমার একটি পিগি অ্যাকাউন্ট খুলে দেন। কিন্তু সেখানে পর্যাপ্ত টাকা থাকত না। পরে ব্যাঙ্কের আধিকারিকেরা আমাকে ডেকে নিয়ে গিয়ে অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করে দিতে বলেন। ৩২ বছর পর ওই ব্যাঙ্কের আধিকারিকেরাই আমাকে এসে জানান, আমার একটি অ্যাকাউন্ট ছিল। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর বেতন ওই অ্যাকাউন্টেই জমা পড়ত। তখন আমি অ্যাকাউন্টে জমা পড়া সমস্ত টাকা তুলে নিতে চেয়েছিলাম। ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষই অনেক বুঝিয়ে আমাকে নিরস্ত করেন।’ তিনি অ্যাকাউন্টে জমা পড়া ২১ লক্ষ টাকা তুলে নিয়ে জনগণের মধ্যে বিলিয়ে দিতে চেয়েছিলেন বলেও সাক্ষাত্কারে জানিয়েছেন।

দেশকে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে বর্তমানে পরিবারের থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন নরেন্দ্র মোদী। কিন্তু সেটা নিয়ে তাঁর কোনো আক্ষেপ নেই। তাই অক্ষয় কুমার যখন জিজ্ঞাসা করেন, ‘আপনার কি কখনও মনে হয় না যে, আপনার মা, ভাই এবং পরিবারের সকলেই আপনার সঙ্গে থাকুন?’ এর প্রত্যুত্তরে মোদীর অকপট জবাব, ‘অনেক ছোটো বয়সেই আমি সবাইকে ছেড়েছি।’ ছোটো বয়স থেকে অনেক চড়াই-উতরাই পার করলেও সহজে রাগ প্রকাশ করেন না নরেন্দ্র মোদী। তাঁর মতে, রাগ কেবল মানুষের জীবনে নেতিবাচক আবহ তৈরি করে। রাগ ত্যাগ করে শৃঙ্খলাপরায়ণ হয়ে উঠলেই জীবনে উন্নতি সম্ভব। রাগ নিয়ন্ত্রণের গোপন সূত্রটিও এদিন বলিউড খিলাড়িকে জানিয়েছেন মোদী। তিনি জানান, কোনো বিষয়ে তাঁর রাগ বা দুঃখ হলে তা একটি কাগজে লেখেন এবং ওই লেখার মাধ্যমেই আবেগের বহিঃপ্রকাশ করেন। পরে সেই লেখাটি দেখে নিজের ভুলও বোঝা যায় বলে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here