news bengali

মহানগর ওয়েবডেস্ক: বিজেপি সরকারের দ্বিতীয় পর্বের প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী দেশের জনসাধারণের প্রতি একটি খোলা চিঠি লিখলেন। স্বাভাবিক ভাবেই চিঠির মূল বিষয়বস্তু বিগত ছ’বছরে সরকারের সাফল্য। অর্থনীতি থেকে সামাজিক সমস্ত ক্ষেত্রই তিনি ছুঁয়ে গিয়েছেন তাঁর ”দেশের উদ্দেশে” লেখা চিঠিতে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, ১৩০ কোটি ভারতীয় সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশের অর্থনীতির মরা গাঙে জোয়ার এনে সারা পৃথিবীকে বিস্মিত করে দেবে।

প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, সবাই ভেবেছিল করোনাভাইরাস ভারতে প্রবেশ করলে সারা পৃথিবীর সংকট ঘনিয়ে উঠবে। কিন্তু দেশের মানুষ প্রমাণ করে দিয়েছে যে সম্মিলিত শক্তি ও ক্ষমতায় ভারতীয়রা যে কোনও ক্ষমতাধর ও উন্নত দেশের থেকে অগ্রণী। এই অভূতপূর্ব সঙ্কটে এমন কেউ নেই যে কোনও অসুবিধে বা অস্বস্তির মধ্যে পড়েনি। দেশের পরিযায়ী শ্রমিক, হস্তশিল্পী, ছোট ব্যবসার কারিগর, হকার সহ প্রত্যেকেই প্রচণ্ড কষ্টের মধ্যে রয়েছেন। আমরা একত্রিত ও দৃঢ়বদ্ধ হয়ে তাদের কষ্টের উপশম করব।

কিছুদিন আগেই সুপার সাইক্লোন পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশায় তাণ্ডব চালায়। মোদী তাঁর চিঠিতে এই দুই রাজ্যের মানুষের ধৈর্যের প্রশংসা করে লিখেছেন, তাদের সাহস অন্যদের অনুপ্রাণিত করবে। বর্তমানে সারা বিশ্বে একটিই আলোচনা প্রাধান্য পাচ্ছে, ভারত সহ গোটা পৃথিবী এই অর্থনৈতিক মন্দার হাত থেকে কীভাবে ঘুরে দাঁড়াবে। যে ভাবে ভারত ঐক্যবদ্ধ হয়ে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করে উদাহরণ স্থাপন করেছে, সেই একই ভাবে অর্থনীতির মন্দা থেকেও লড়াইয়ের মধ্যে দিয়ে দেশ উঠে দাঁড়াবে। আমাদের শ্রমিকদের পরিশ্রম ও দক্ষতায় উৎপাদন এমন উৎকর্ষতা স্পর্শ করবে যে আমরা আমদানীর ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে স্বনির্ভরতার পথে এগিয়ে যেতে পারব।

আগামীর এই স্বপ্ন দেখা যে সম্ভব হয়েছে দেশের মানুষের সঠিক ভোটাধিকার প্রয়োগের কারণে, সে কথা মনে করিয়ে দিয়ে মোদী লিখেছেন, গত বছরের নির্বাচন দেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে এক স্বর্নোজ্বল অধ্যায়। বহুযুগ পর পুরো মেয়াদের জন্য একটি দলকে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়ে দেশের মানুষ এক নতুন উৎসাহ সঞ্চারিত করেছে। ২০১৪ থেকে ২০১৯ সময়কালের মধ্যে ভারতের অবস্থান ধীরে ধীরে উন্নত হয়েছে। দরিদ্রের মর্যাদা বেড়েছে, বিনামূল্যে গ্যাস ও বিদ্যুৎ, শৌচাগার এবং সকলের জন্য বাসস্থানের দিকে অনেকটাই এগিয়ে যাওয়া গিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর চিঠিতে অবশেষে এসেছে প্রতিরক্ষার প্রসঙ্গ। তিনি দেশবাসীকে সার্জিকাল স্ট্রাইক ও বিমান আক্রমণের কথা মনে করিয়ে দিয়ে জানিয়েছেন যে এই দুই অভিযানের মধ্যে দিয়ে ভারত তার ক্ষমতা প্রমাণ করে দিয়েছে। তিন তালাকের মতো ভয়ঙ্কর আইনের বিলোপ, রাম মন্দির নিয়ে শতাব্দী প্রাচীন বিতর্কের অবসান, সেনা বাহিনীর সর্বাধিনায়কের পদ সৃষ্টি এই সবই ছিল দীর্ঘদিনের দাবি যা পূরণ হয়েছে মোদী সরকারের দ্বিতীয় দফার প্রথম বছরেই। চিঠিতে তিনি জিএসটি এবং মিশন গগনায়ন–এর উল্লেখ করে লিখেছেন, আরও অসংখ্য সিদ্ধান্ত এই মাত্র কয়েক বছরে নেওয়া হয়েছে যা দেশের উন্নয়নে গতি এনেছে।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here