kolkata news

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, বীরভূম: পাড়ার ভেতরে কলেজে কোয়ারেন্টিন সেন্টার করার প্রতিবাদ করে এলাকায় বাঁশ বেঁধে ব্যারিকেড করে দেয় স্থানীয় বাসিন্দারা। ব্যারিকেড সরাতে এলে পুলিশকে লক্ষ্য করে হয় ইটবৃষ্টি। রবিবার সন্ধ্যায় ঘটনাটি ঘটেছে বীরভূমের সিউড়ি পুরসভার বারুইপাড়ায়। আহত হয়েছেন দু’জন পুলিশকর্মী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের ব্যাপক লাঠিচার্জ করে। শূন্যে রবার বুলেট ছোড়া হয়। এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে।

সিউড়ি পুর এলাকার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যেই রয়েছে বীরভূম মহাবিদ্যালয়। গত দু’দিন আগে খবর রটে যায়, বারুইপাড়ার মধ্যে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় পাড়ার ভিতরের ওই কলেজে হবে কোয়ারেন্টিন সেন্টার। যা নিয়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায় পাড়ায়। স্থানীয় বাসিন্দারা একজোট হয়ে পাড়ায় ঢোকার সমস্ত রাস্তা বাঁশ দিয়ে বেঁধে,  বোল্ডার ফেলে ব্যারিকেড করে দেয়। ফলে পাড়ায় বহিরাগতদের ঢোকা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায।

রবিবার বিকেলে সিউড়ি থানার আইসি চন্দ্রশেখর দাসের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী ব্যারিকেড সরাতে ওই পাড়ায় ঢোকে। খবর রটে যায়, পুলিশ পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে কলেজ বিল্ডিংয়ে ঢুকছে। পুলিশের গাড়ির সামনে বিক্ষোভ শুরু করে এলাকাবাসী। মুহূর্তেই তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। পাড়ার মহিলা ও পুরুষরা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ,  পাড়ার বাসিন্দাদের সঙ্গে কোনও আলোচনা না করেই পুলিশ পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে কলেজে ঢুকছে। পাড়ার মধ্যেই কলেজ। যদি কোয়ারেন্টিন সেন্টার হয়, তা হলে মুহূর্তে সংক্রমণ পাড়ায় ছড়িয়ে পড়বে। আমরা তাই কলেজে কোয়ারেন্টিন সেন্টার করতে দেব না।

পুলিশের সঙ্গে এই নিয়ে বচসা চলাকালীনই পুলিশ জানিয়ে দেয় ওই কলেজে কোনও কোয়ারেন্টিন সেন্টার করার পরিকল্পনা এখনও প্রশাসনের নেই। এদিকে ওই সময়ই পাড়ার গলির মুখ থেকে উত্তেজিত জনতা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট ছুডতে থাকে। তাতে দু’জন পুলিশকর্মী আহত হন। মূহূর্তে রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে এলাকা। ক্ষুব্ধ জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে।

এর পরেই পুলিশ বাহিনী বাঁশের ব্যারিকেড সরিয়ে পাড়ার মধ্যে ঢুকতে থাকে। কলেজের ঢোকার মুখে বাঁদিকে বিশাল জমায়েত পুলিশের পথ আটকায়। পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট ছুডতেই পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দিতে শূন্যে এক রাউন্ড রবার বুলেট চালায়। মুহূর্তেই ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় জনতা। এরপরেই পুলিশ কলেজের সমানে পর্যন্ত সমস্ত ব্যারিকেড সরিয়ে রাস্তা পরিষ্কার করে দেয়।

এ প্রসঙ্গে জেলা পুলিশ সুপার শ্যাম সিংহ বলেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা না বলে কোথাও কোয়ারেন্টিন সেন্টার করা হয় না। ওই এলাকায় এখনই কোনও সেন্টার করার পরিকল্পনাই করা হয়নি। অথচ রাস্তা অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। আমরা রাস্তা পরিষ্কার করে দিয়েছি। কোনও গুলি চালানো হয়নি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here