kolkata news

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, ভাঙড়: লকডাউনের জেরে দিল্লি-সহ গোটা দেশে পরিযায়ী শ্রমিকদের করুণ ছবি ফুটে উঠেছে। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে তার বিপরীত ছবি দেখা গেল ভাঙড়ের বানতলা চর্মনগরীতে। করোনার আতঙ্ক, লকডাউনের অসুবিধা, বাড়ি ফেরার তাগিদ থাকলেও খানিকটা স্বস্তিতে আছেন পরিযায়ী শ্রমিকরা। কারণ দু’বেলা দুমুঠো খাওয়ার কোনও অসুবিধা হচ্ছে না তাদের। খোদ পুলিশ আধিকারিকের তত্ত্বাবধানে ভিনরাজ‍্যের কয়েক হাজার শ্রমিক দিনরাত খাবার পাচ্ছেন।

কলকাতার ঢিল ছোড়া দূরত্বে ভাঙড়ের বানতলায় এশিয়ার বৃহত্তম চর্মনগরী। এই মূহূর্তে বানতলায় ছোট, বড় প্রায় সাড়ে ৬০০ চামড়ার কারখানা আছে। প্রতিটি কারখানায় ম্যানেজার, সুপারভাইজার, নিরাপত্তারক্ষী, দারোয়ান মিলিয়ে তিন থেকে চার জন কর্মী আছেন। এছাড়া ভিনরাজ্য থেকে ট্রাকে করে কাঁচা চামড়া বা চর্মজাত সামগ্রী নিয়ে এসেছে এমন গোটা পঞ্চাশ ট্রাক আটকে আছে। প্রশাসন সূত্রে খবর, সব মিলিয়ে আড়াই থেকে তিন হাজার ভিন জ্যের শ্রমিক বানতলায় আটকে আছেন। শ্রমিকদের বেশিরভাগ বিহার, ওড়িশা, উত্তরপ্রদেশ, ছত্তিশগড়ের বাসিন্দা। স্থানীয় শ্রমিকরা ঘরে ফিরতে পারলেও ভিনরাজ্যের শ্রমিকরা আটকে আছেন।

ভিনরাজ‍্যের আটকে পড়া শ্রমিকদের বন্ধু এখন পুলিশ। কলকাতা লেদার কমপ্লেক্স থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারি স্বরূপকান্তি পাহাড়ির ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় শ্রমিকদের খাওয়ানোর জন্য প‍্যান্ডেল করা হয়েছে। এই কাজে যোগ্য সহায়তা করছেন তাড়দহ গ্রাম পঞ্চায়েতের উপ প্রধান রাকেশ রায় চৌধুরী। মূলত, বানতলা লাগোয়া বেদেরআইট কলোনি ও সোনাঠিকারি গ্রামে কয়েকশো পরিবার আছেন হিন্দিভাষী। যাদের বেশিরভাগ বিহার, ওড়িশা, ঝাড়খন্ডের বাসিন্দা। তাঁদের জন্য প্রতিনিয়ত খাবার রান্না করে খাওয়াছে পুলিশ। ইতিমধ্যে পরিযায়ী শ্রমিকদের কীভাবে খাওয়ানো হচ্ছে, তা পরিদর্শন করে গিয়েছেন  কলকাতা পুলিশের পূর্ব ডিভিশনের উপ নগরপাল গৌরব লাল-সহ এসিপি বিশ্বজিৎ রায়। শুক্রবার পরিদর্শনে আসেন দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার আইএনটিটিইউসি’র সভাপতি শক্তিপদ মণ্ডল।

এর পাশাপাশি বানতলার চারপাশে ভোজেরহাট, কাটাতলা, উসপাড়া,  কোলেরাইট গ্রামেও প্রচুর হিন্দিভাষী শ্রমিক ঘরভাড়া করে আছেন। তারাও লকডাউনের জেরে আটকে পড়েছেন। কলকাতা লেদার কমপ্লেক্স থানার পুলিশ এই দুঃসময়ে শ্রমিকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে তাঁদের সুবিধা-অসুবিধা এবং খাবারের সংস্থান করছে বলে জানা গিয়েছে। বানতলার পাঁচ নম্বর প্লটের একটি কারখানায় দশ বছর ধরে সুপারভাইজারের কাজ করছেন বিহারের বাসিন্দা উমেশ রাম। তিনি বলেন, এতদিন আছি কোনওদিন থাকা-খাওয়ার জন্য কোনও কষ্ট হয়নি। পুলিশের দেওয়া খাবার খেয়ে বেঁচে আছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here