kolkata news

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: অনলাইন সার্ভিসের মতো পুলিশ এখন ‘অন ফোন’-এ। উত্তর ২৪ পরগনার বারাসত জেলা পুলিশ গত ২৪ তারিখ হেল্প লাইন নম্বর চালু করে জেলাবাসীর জন্য। নম্বরটি হল 6292212378। বারাসত পুলিশ জেলার সুপার অভিজিৎ ব্যানার্জীর দাবি, গত চার দিন ৩০০ ফোন পেয়েছেন এই সহয়তা নম্বরে। তার মধ্যে ২৫০টি ফোন ছিল এই সময়ে গুরুত্বপূর্ণ। সেগুলির সবই হল পুলিশের সাধারণত যে কাজ তার বাইরে। পুলিশ সুপারের দাবি, আপৎকালীন এই সময় জন্য তারা যে সহয়তা নম্বর চালু করেছেন, সেটা চুরি বা জিনিষ খোয়া যাওয়ার অভিযোগ জানানোর জন্য নয়। বরং বিপদের সময় মানুষের পাশে থাকার জন্য। সেই কারণে দোলতলা পুলিশ লাইনে পুলিশ কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে চলছে পুলিশ ‘হেল্প লাইন’।

দোলতলা পুলিশ লাইনে এখন শুধু রিজার্ভ কর্মীদের হাজিরা দিয়েই ছাড় মিলছে না। জরুরি অবস্থায় নিরন্ন মানুষের জন্য খাবার প্যাকেটজাত করা হচ্ছে। তাতে চাল, ডাল, আটা, আলু দেওয়া হচ্ছে। আর এক দল পুলিশকর্মী তৈরি করছেন হ্যান্ড স্যানিটাইজার। তবে পুলিশের হেল্প লাইন-এ সব চেয়ে বেশি ফোন আসছে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সহায়তা চেয়ে। বারাসত জেলার পুলিশ সুপার অভিজিৎ ব্যানার্জীর দাবি, মূলত অন্তঃসত্ত্বা মহিলার পরিবার হাসপাতালে যাওয়ার জন্য আ্যাম্বুল্যান্স পাচ্ছে না। তাদের হেল্প লাইনে ফোন করলেই,  তারা ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট দিন অন্তর যাঁদের ডায়ালেসিস দরকার তাদের পরিবার ফোন করলেই পুলিশ তারও ব্যবস্থা করে দিচ্ছে। আাবার রানাঘাটে এক যুবক লকডাইনের মাঝে আটকে পড়েছিলেন। তিনিও পুলিশ হেল্প লাইন-এ ফোন করে বাড়ি ফিরেছেন।

পুলিশ সুপারের দাবি, শহরের প্রবীণ নাগরিক ও যাদের সন্তান বিদেশে থাকে তাদের পরিবারও এই পুলিশ হেল্প লাইনে সাহায্য চেয়েছেন বাজার করে দেওয়ার জন্য। সেটাও পুলিশ করে দিয়েছে। তবে জিনিস কিনতে যে দাম পড়েছে, সেটা তাদের মিটিয়ে দিতে হয়েছে। শনিবার পুলিশ হেল্প লাইনের মধ্যমে তিনজনকে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে চিকিৎসার জন্য। বারাসত হৃদয়পুরের শুভম ভট্টাচার্য। তার মা-কে প্রতি শনিবার ও বুধবার ডায়ালেসিস করাতে হয়। লকডাউনের শুরুতে বুধবার কোনওরকমে একটি টোটো করে বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন মাকে। তারপর স্যোশাল মিডিয়ায় পুলিশ হেল্প লাইন দেখে শনিবার সকাল ১১টায় সাহায্য চেয়ে ফোন করেন। বেলা ৩টায় তার চাহিদা মতো সময়ে আ্যম্বুল্যান্স পৌঁছে যায় তার বাড়ির দরজা। কড়া পুলিশের কথা অনেক শুনেছেন শুভম। কিন্তু এমন বন্ধু পুলিশ দেখে অভিভূত তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here