আসানসোলে অপহৃত ছাত্রী খুনের কিনারা করল পুলিশ, গ্রেফতার অভিযুক্ত ছয়

0

নিজস্ব প্রতিবেদক, আসানসোল: টিউশন পড়তে গিয়ে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিল আসানসোলের ছাত্রী৷ মুক্তিপণ দাবি করে এসএমএস আসে ফোনে৷ পুলিশকে গোটা ঘটনাটি জানাতে বারন করা হয় ছাত্রীর পরিবারকে৷ তবুও অপহৃত ছাত্রীর পরিবারের তরফে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করা হয়৷ সেই মতো তদন্ত শুরু করে পুলিশ৷ এরপরেই চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে আসানসোলে ছাত্রী খুনের ঘটনার কিনারা করল পুলিশ৷ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ইতিমধ্যেই ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়৷ এদের মধ্যে একই পরিবারের চারজন রয়েছে৷ পরিকল্পনা করেই খুন করা হয়েছে ওই ছাত্রীকে প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছে পুলিশ৷ পুলিশের দাবি, আকাশ শাহ ও বিজয় প্রসাদ ওই ছাত্রীর পূর্ব পরিচিত বন্ধু৷ তারাই প্রথমে ফোন করে ডাকে ওই ছাত্রীকে৷ সেখানে বিজয়ের বাড়িতে তাকে রাখা হয়৷ ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে পুরুষের পোষাক পরানো হয়৷ এরপর  সুযোগ বুঝে চেলিডাঙায় আকাশের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়৷

সেখানে উপস্থিত ছিল আকাশের মা দীপিকা শাহ, দিদি আলিশা শাহ, জামাইবাবু প্রবীন রায়৷ এখান থেকেই মুক্তিপণ চাওয়ার পরিকল্পনা করা হয়৷ পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ১২ তারিখ ঝাড়খন্ড গিয়ে ওই ছাত্রীর মোবাইল থেকেই মুক্তিপণ চেয়ে এসএমএস করা হয়৷ পুলিশ সেই সূত্র ধরেই ঝাড়খন্ডে খোঁজ করে৷ কিন্তু তারপরই ওই মোবাইল বন্ধ হয়ে যায়৷ এদিকে পুলিশ মোবাইলের সূত্র ধরে বিজয়কে আটক করে৷ এরপরই সম্ভবত ভয় পেয়ে সেই রাতেই শ্বাসরোধ করে হাতের শিরা কেটে খুন করা হয় ছাত্রীটিকে৷ চেলিডাঙায় আকাশের বাড়িতে খুন করা হয় তাকে৷ এরপরই যোগাযোগ করা হয় দীপিকা শাহের পরিচিত আপকার গার্ডেনের সুপ্রিয় বক্সীর সঙ্গে৷

গভীর রাতে তার গাড়িতেই ওই এলাকার একটি ডাস্টবিনে ওই ছাত্রীর দেহ ফেলে দেওয়া হয়৷ সেই রাতেই আসানসোল থেকে পালিয়ে যায় আকাশের দিদি আলিশা ও তার জামাই বাবু প্রবীন৷ তাদেরকে কলকাতার বিষ্ণুপুর থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়৷ এদিকে পুলিশ অভিযুক্ত দের গ্রেফতার করলেও পুলিশের ভূমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে এদিন আসানসোলের ভগৎ সিং মোড়ে মৃতদেহ রেখে অবরোধ করে পরিবারের লোক ও এলাকার সাধারণ মানুষ৷ পুলিশের অনুরোধে আধ ঘন্টা পর অবরোধ উঠে যায়৷

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here