নিজস্ব প্রতিবেদক, ইসলামপুর: মাধ্যমিকের ফর্ম ফিলাপের ফিজ কমনোর দাবিতে ছাত্র আন্দোলনের ১০ মাস পর হঠাৎ শনিবার উত্তর দিনাজপুর আলতাপুর হাইস্কুলের দুই ছাত্রের বাড়িতে হানা দিল পুলিশ। মাধ্যমিকের ফর্ম ফিলাপে স্কুল কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত ফিজের থেকে বেশি টাকা নিচ্ছে এই অভিযোগ তুলে ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে উত্তর জিনাজপুরের  আলতাপুর হাইস্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা। ১০ মাস কেটে যাওয়ার পর হঠাৎ শনিবার আলতাপুর হাইস্কুলের দুই ছাত্রের বাড়িতে হানা দেয় পুলিশ। চোর ধরার মত শনিবার ভোর রাতে ওই দুই ছাত্রের বাড়িতে ঢোকে পুলিশ। গ্রেফতার করে ১৬ বছরের এক ছাত্রকে, এছাড়াও অপর এক ছাত্রকে না পেয়ে ছাত্রের বাবাকে গ্রেফতার করে করনদিঘী থানার পুলিশ। এরপরেই ইসলামপুর আদালত থেকে তার জামিন হয়ে যায়। ছাত্রের পরিবারের অভিযোগ, পুলিশ ঘটনা সাজাতে ছাত্রের বয়স ১৮ দেখিয়েছে। ধৃতদের দুজনের বিরুদ্ধে ৫২৩ ধারা মামলা রুজু হয়। আদালতে জামিন পাওয়ার পরেই তাদের বাড়িতে নিয়ে আসে পরিবারের লোকজন।

পুলিশ সুত্রে জানা গিয়েছে, স্কুল কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করেছিল। যদিও স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ছাত্রদের বিরুদ্ধে স্কুলের তরফে কোনওরকম এফআইআর পর্যন্ত করা হয়নি। ধৃত একাদশ শ্রেণীর ছাত্র গোপাল পালের অভিযোগ, জাতীয় সড়ক অবরোধের দায়ে পুলিশ রাত দুটোর সময় বাড়িতে ঢুকেই কলার ধরে টেনে নিয়ে যায়। থানায় এনে ফের জেরার মুখে অনেকক্ষন বসিয়ে রাখে। প্রায় ৮ ঘন্টা হাজত বাসের পর ইসলামপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালত থেকে একাদশ শ্রেণীর ছাত্র গোপাল পালের জামিন হয়েছে। গোপাল পাল জানিয়েছে, ‘দিন পাঁচেক আগে এক সিভিক পুলিশ তার বাড়িতে এসেছিল। মৌখিকভাবে বলেছিল আমার বিরুদ্ধে তাদের কাছে লিখিত অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু আমরা শতাধিক ছাত্র ছাত্রী অবরোধে অংশ নিয়েছিলাম। স্কুলের শিক্ষকরা জানিয়েছিলেন ফিজ কমানো হয়েছে। সাময়িক সময়ের পর পথ অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। কিন্তু কেন আমাদের দুজনকে পুলিশ গ্রেফতার করবে? এই কথা থানায় জানতে চাইতেই অকথ্য ভাষায় ধমকির শিকার করা হতে হয় ।’

এদিকে গোপাল পালের বাড়ি থেকে ঢিল ছোড়া দুরত্বে আরেক ছাত্র প্রদীপ পালের বাড়িতেও পুলিশ হানা দেয়। একাদশ শ্রেনীর ছাত্র প্রদীপকে না পেয়ে বাবা সনাতন পালকেই পুলিশ তুলে নিয়ে যায়। এই ঘটনায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে গ্রামে। শনিবার ইসলামপুর আদালত ধৃত ছাত্র ও অভিভাবক দুজনকেই মুক্তি দিয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here