kolkata news

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্দেশ দিয়েছিলেন ধর্ষণ বা গণধর্ষণের মতো ঘটনায় ৭ দিনের মধ্যে চার্জশিট জমা দিতে হবে পুলিশকে। মুখ্যমন্ত্রীর সেই নির্দেশ মেনেই ইকবালপুরে ১২ বছরের নাবালিকাকে গণধর্ষণ কাণ্ডের তদন্তে নেমে সাত দিনের মাথায় চার্জশিট জমা করল কলকাতা পুলিশ। চার্জশিটে ধৃতদের বিরুদ্ধে পকসো আইনে অভিযোগ আনা হয়েছে। শুক্রবার ইকবালপুর থানার পুলিশ এই চার্জশিট জমা দিয়েছে বলে জানিয়েছে লালবাজার। এই ঘটনা তদন্তে নেমে অভিযোগ জমার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্ত চার জন যুবককে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে খবর, পর্ণশ্রী থানায় গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, তার ১২ বছরের নাবালিকাক কন্যাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এরপরেই একটি মিসিং জিডি করে ওই নাবালিকার খোঁজ শুরু করে পর্ণশ্রী থানার পুলিশ। রাতভর খুঁজেও সন্ধান পাওয়া যায়নি ওই নাবালিকার। পুলিশ সূত্রে খবর, শুক্রবার সকাল সাড়ে এগারোটা নাগাদ নিখোঁজ নাবালিকা নিজেই নিজেই পর্ণশ্রী থানায় থানায় ফিরে এসে গোটা ঘটনাটির কথা পুলিশকে। চার যুবক তাকে একবালপুরের একটি স্থানে নিয়ে নিয়ে গিয়ে মদ্যপান করিয়ে গণধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ করে নাবালিকা। তার অভিযোগের ভিত্তিতে গণধর্ষণের মামলা রুজু করে পর্ণশ্রী থানার পুলিশ।

অভিযোগ পাওয়া মাত্রই শুক্রবার দুপুরে অভিযুক্তদের সন্ধানে তল্লাশি শুরু করে পর্ণশ্রী থানার পুলিশ। এরপরই পর্ণশ্রী এবং ইকবালপুর এর বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে চার অভিযুক্তকেই গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতদের মধ্যে দুজনের বাড়ি পর্ণশ্রী, বাকি দুজন একবালপুর এলাকার বাসিন্দা। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের নাম অমরজ্যোতি চৌপাল, মনোজ শর্মা, ঋত্বিক রাম এবং বিকাশ মল্লিক। ধৃতদের প্রত্যেকেরই বয়স ২১ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে বলে জানা গিয়েছে। সূত্রের খবর, পুলিশি জেরায় নিজেদের অপরাধ কবুল করেছে চার জন অভিযুক্তই। লালবাজার সূত্রের খবর, পর্ণশ্রী থানায় প্রাথমিক অভিযোগ দায়ের হলেও ঘটনাস্থল যেহেতু ইকবালপুর থানা এলাকায়, তাই নিয়ম অনুযায়ী মামলাটি পর্ণশ্রী থানা থেকে স্থানান্তর করা হয় একবালপুর থানায়।

অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের পর জোর তৎপরতার সঙ্গে তথ্য প্রমাণ সংগ্রহ করে পুলিশ। খতিয়ে দেখা হয় ঘটনাস্থল। সাহায্য নেওয়া হয় কলকাতা পুলিশের ফরেনসিক বিভাগেরও। এছাড়াও পরীক্ষা করা হয় ঘটনাস্থলের আশেপাশের একাধিক সিসিটিভি ফুটেজ। শারীরিক পরীক্ষা করানো হয় ধৃত অভিযুক্তদের এবং অভিযোগকারিণীর। সবেতেই গণধর্ষণের প্রমাণ মিলেছে বলে দাবি পুলিশের। কিছুদিন আগেই ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে গোপন জবানবন্দি দেয় অভিযোগকারিণী নাবালিকা। শুক্রবার জমা দেওয়া চার্জশিটে ধৃত চারজনের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৬-ডি, ৩৪, ৩৪২, ৩৬৬-এ, ৫০৬ ধারায় এবং পকসো আইনের ৬ নম্বর ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here