ডেস্ক: কলকাতা হাইকোর্টের স্থগিতাদেশের পরও শুক্রবার রথযাত্রা কেন্দ্রিক সভা করেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। অনুমতি ছাড়াই সভা করার কারণে এবার প্রশাসনের জটে ফাঁসলেন বিজেপি নেতারা। পুলিশ সূত্রে খবর, বিজেপি কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয়, সভাপতি দিলীপ ঘোষ, রাজু ব্যানার্জী ও রাহুল সিনহার নামে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে কোচবিহারের কোতয়ালি থানায়। রথযাত্রার ভবিষ্যৎ অবশ্য ১৪ ডিসেম্বরই চূড়ান্ত হবে বলে জানা গিয়েছে। যদিও অমিত শাহ গতকালই হুমকি দিয়ে রেখেছেন, পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী রাজ্যে বেরোবে রথ।

এই অভিযোগ দায়ের হওয়ার পরই অবশ্য পালটা হুমকি দিয়েছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি। দিলীপবাবু বলেন, ওরম মামলা অনেক দায়ের হয়েছে, আমরা এসবে ভয় পাই না। কৈলাসের হুমকি, প্রয়োজন পড়লে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্তও যাবেন তারা। শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টে বিশ্বনাথ সমাদ্দারের ডিভিশন বেঞ্চের রায়ের পর, ১৪ ডিসেম্বরের আগে রথের চাকা গড়ানোর অবকাশ থাকছে না। আদালতের পক্ষ থেকে সাফ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ১২ ডিসেম্বরের মধ্যে বিজেপির তিন প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠকে বসতে হবে রাজ্যের মুখ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব ও ডিজিকে। এরপর ১৪ ডিসেম্বরের মধ্যে রাজ্যকে রথযাত্রা নিয়ে চূড়ান্ত ফয়সালা তথা দিনক্ষণ জানাতে হবে।

গতকাল আদালতে শুনানি চলার সময় বিচারপতির তিরস্কারের মুখে পড়তে হয় রাজ্য সরকারকে। বিচারপতি রাজ্যের এজি কিশোর দত্তের কাছে জানতে চান, যেখানে বিজেপির তরফে দীর্ঘদিন আগে আবেদন করা হয়েছিল এই রথযাত্রার সেখানে টানা একমাসের এই শীতঘুম কেন প্রশাসনের। ৫ নভেম্বর থেকে ৬ ডিসেম্বর টানা এতদিনের মধ্যে কেন কোনও উত্তর দেয়নি প্রশাসন। এই এক মাসের মধ্যে এই র‍্যালি হবে, কি না তাতো একটা চিঠি লিখেও জানাতে পারত। রথযাত্রায় কোথায় সমস্যা তা স্পষ্ট করে জানাতে পারত প্রশাসন। অন্তত ছোট করেও র‍্যালি করার অনুমতি দিতে পারত। শুধুমাত্র গোলমালের আশঙ্কায় কোনও মিছিল আটকাতে পারে না।

অন্যদিকে, ধুপগুড়িতে পুলিশের মার খাওয়ার বিষয়টিকে হাতিয়ার করে আদালতে সরব হন অ্যাডভোকেড জেনারেন কিশোর দত্ত। তিনি বলেন, সভা হয়নি তাতেই এই অবস্থা। অশান্ত কোচবিহারে মার খাচ্ছেন পুলিশ অফিসার। কিছু একটা ঘটে গেলে তার দায় কি বিজেপি নেবে? পাশাপাশি বিচারপতি বিশ্বনাথ সমাদ্দার জানান, গোটা পরিস্থিতি বিচার করে সিদ্ধান্ত নিন, শুধুমাত্র রং দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন না। বলাই বাহুল্য আদালতে একের পর এক প্রশ্নের মুখে পড়ে বেশ খানিকটা চাপে সরকার। পাশাপাশি নতুন করে রথযাত্রায় আশার আলো দেখছে গেরুয়া শিবির।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here