human rights

রূপম চট্টোপাধ্যায়: সরকার, সে যে দলেরই হোক না কেন, মানবাধিকার নিয়ে কথা বলাটা খুব একটা পছন্দ করে না। মানবাধিকার দিবসে, মঙ্গলবার কলকাতার রাণুছায়া মঞ্চে পুলিশ যেভাবে মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চের (মাসুম) অনুষ্ঠান বন্ধে উদ্যোগী হয়েছে, তাতে আরও একবার স্পষ্ট হল সরকারের ভূমিকা।
বিগত একদশক ধরে মাসুম সীমান্ত অঞ্চল, ছিটমহল সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করছে। বহু ঘটনাতেই মাসুম-এর দৃঢ় পদক্ষেপের ফলে গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। এ রাজ্যের মানবাধিকার কমিশন ঠুঁটো জগন্নাথ বলে অভিযোগ। উল্টোদিকে মাসুম, এপিডিআর-এর মতো সংগঠনগুলি মানবাধিকার রক্ষায় যথেষ্ট তৎপর। আর এই কারণেই এই সংগঠনগুলির কাজের ওপর প্রশাসনের নজর অনেকটাই তীব্র।

human rights১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর ১৪২টি দেশ একটি মানবাধিকার সনদে স্বাক্ষর করেছিল। মানবাধিকার সংক্রান্ত ৩০টি ধারায় প্রতিটি দেশের নাগরিকদের মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার স্বীকৃত হয়েছিল সেদিন। ভারত অন্যতম স্বাক্ষরকারী দেশ। যদিও ভারত সহ নানা দেশেই বিভিন্ন সময়ে রাষ্ট্র মানবাধিকারের ওপর আঘাত হেনেছে। আজও আমাদের দেশে জারি আছে ইউএপিএ-র মতো দানবীয় আইন। এখনও পশ্চিমবঙ্গ সহ দেশের নানা প্রান্তে বহু মানুষ বিনা বিচারে জেলে বন্দি। শাসক বদলালেও মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারের ওপর আঘাত বাড়ছে বৈ কমছে না। ফলে মানবাধিকার দিবসের গুরুত্ব দিনদিন বাড়ছে। তাই গোটা দেশের সঙ্গে কলকাতা শহরেও মাসুম, এপিডিআর, বাঙালি পাঞ্জাবি একতা মঞ্চ সহ নানা সংগঠন এই দিনটি পালন করেছে।

human rightsমাসুম সম্পাদক কিরীটি রায় বলেন, ২২তম মানবাধিকার মেলা, সকাল ১১টা থেকে শুরু হয়েছিল রাণুছায়া মঞ্চে। হঠাৎ হেস্টিংস থানার পুলিশ এসে মাইক বন্ধ করার মৌখিক আদেশ দেন। বলে, আমাদের সাথে থানায় চলুন। আমরা বলি, থানায় যেতে রাজি, কিন্তু ১৬০ সিআরপিসি অনুযায়ী নোটিশ দিন। তাতে তারা পিছিয়ে যান। আমরা ২৮/১১/১৯ সন্ধ্যা ৬টায় কলকাতা পুলিশ কমিশনার, যুগ্ম কমিশনার, হেস্টিংস থানা সবাইকে জানাই, অনুমতি চাই। কোনও উত্তর কেউ দেননি। মাসুম মনে করে, কলকাতা পুলিশের এই আক্রমণ সংবিধান পরিপন্থী, দুর্ভাগ্যজনক, যা আমরা কঠোর ভাষায় নিন্দা জানাই। আশা করি, গণতন্ত্রপ্রিয় সকল মানুষ এই স্বৈরতান্ত্রিক কাজের নিন্দা করবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here