kolkata bengali news

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিউড়ি: বীরভূমের সিউড়িতে যুবক খুনের ঘটনার ধৃতদের নিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করল পুলিশ। যদিও ধৃতদের দাবি ওই যুবক নিজেই গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছিল। কোন ভাবেই তাকে খুন করা হয়নি। পুলিশের ভয়ে বাড়ি থেকে মৃতদেহ অন্যত্র সরানো হয়েছিল। ঘটনার অন্যতম অভিযুক্ত বেবি বিবির দাবি আত্মহত্যা করেছে শামীম। বুধবার দুপুরে ওই খুনের ঘটনার ধৃতদের নিয়ে পুলিশের পুনর্নির্মাণে এমনই তত্ত্ব উঠে এল। এদিন পুনর্নির্মাণের মাধ্যমে বেবি বিবি দেখান, শুক্রবার দুপুরে তিনি বাড়িতে ছিলেন না, সেই সময় বাড়িতে ছিল তার নাবালক সন্তান। সেই সময় শামীম তার বাড়িতে আসে। এরপর শামীম বাচ্চাটিকে বাড়ির বাইরে যেতে বলে এবং ভিতরে ঢুকে ওড়না দিয়ে চালের বাঁশে ঝুলে আত্মঘাতী হয়। এরপর বাড়ি ফিরে এসে ওই ঘটনা দেখে বেবী বিবি তার মা ভাই ও বাবাকে খবর দেয়। সেদিন বাড়িতেই মৃতদেহ রেখে ভাই লালনের ট্রলি ভ্যানে করে গভীর রাতে মৃতদেহটি এক ব্যক্তির বারান্দার সামনে রেখে দিয়ে আসে। মৃতদেহ লোপাটের ঘটনাটি ওই এলাকারই এক ব্যক্তির বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরায় রেকর্ড হয়ে যায়। শনিবার সকালে স্থানীয় একটি পুকুরে আত্মহত্যার ঘটনায় ব্যবহৃত দড়িটি পুঁতে আসে বেবি বিবি। তবে খুন না আত্মহত্যা এই নিয়ে দানা বাঁধতে শুরু করেছে রহস্য।

পুলিশের দাবি, ময়না তদন্তের রিপোর্টে খুন না আত্মহত্যা সে বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে। প্রসঙ্গত গত শনিবার সকালে সিউড়ি শহরের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে সোনাতরপাড়া এলাকায় শামীম শাহ নামে ২২ বছর বয়সী এক যুবকের রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধার হয়। তার বাড়ি শহরের ৩ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায়। গত সোমবার ওই এলাকার বাসিন্দা মনসুর আলম নামে এক ব্যক্তির বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরা থেকে মৃতদেহ লোপাটের ভিডিও উদ্ধার হয়। ওই ভিডিওতে দেখা যায় ঘটনার দিন রাত ১টা ৪২ নাগাদ একটি ট্রলি ভ্যানে করে শামীমের মৃতদেহ নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ওই ট্রলি ভ্যানটি চালাচ্ছিল লালন সেখ ও পিছন থেকে ঠেলা দিচ্ছিল তার দিদি বেবি খাতুন ও তার মা তসলিমা বিবি। খুনের ঘটনার পরদিন শামীমের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে সিউড়ি থানার পুলিশ ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেফতারের পর ওই এলাকার জনপ্রতিনিধি কাজী ফরজউদ্দিন নিজ উদ্যোগ নিয়ে বিষয়টি তদন্ত শুরু করেন। তারপরই মনসুর আলমের বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরা থেকে শামীমের দেহ লোপাটের ভিডিও উদ্ধার হয়। তথ্য প্রমাণের জন্য সেই ভিডিও সিউড়ি থানা পুলিশের হাতে তুলে দেন তারা। মৃত শেখ শামীম পেশায় ছিলেন রাজমিস্ত্রি। তার পরিবারের দাবি সম্প্রতি সোনাতরপাড়ার বাসিন্দা ঝুমা খাতুনের সঙ্গে বিয়ে ঠিক হয়েছিল। কিন্তু ওই মেয়েটি অন্য যুবকের সঙ্গে পালিয়ে যায়। তারপরেই তার বিধবা দিদি বেবি খাতুন সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে শামীম। সেই থেকেই ওদের দুজনের মধ্যে বাড়ি যাওয়ার আসা ছিল। তবে বেশিরভাগ সময়ই বেবিদের বাড়িতেই থাকতো শামীম। তারপরে কোন বিষয়ে গন্ডগোল হওয়াতেই শামীমকে খুন করে প্রেমিকা ও তার পরিবার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here