kolkata news

 

বিশেষ প্রতিনিধি, কলকাতা: মারণ নভেল করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে সামনের সারিতে থেকে লড়াই করছেন রাজ্যের স্বাস্থ্যকর্মী ও পুলিশ। কলকাতার বুকে ইতিমধ্যেই বেশ কিছু পুলিশ আধিকারিক ও স্বাস্থ্যকর্মী এই মারণ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। অনেকে সেরে উঠে আবার কাজে যোগদানও করেছেন। অনেকে আবার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু এই প্রথম কলকাতার বুকে এক পুলিশকর্মীর মৃত্যুতে নজিরবিহীন ক্ষোভ ছড়ালো অনান্য পুলিশকর্মীদের মধ্যে। আক্রান্ত ওই পুলিশকর্মীর ঠিকমতো চিকিৎসা হয়নি বলে অভিযোগ তুলে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন তার সহকর্মীরা। এমনকি থানাতেও তারা ভাঙচুর চালান বলে অভিযোগ। দক্ষিণ কলকাতার গড়ফা থানায় ওই বিক্ষোভ সামাল দিতে লালবাজার থেকে ছুটে আসতে হল পুলিশের বড়বাবুদের। এদিকে দক্ষিণ কলকাতার এক কোভিড হাসপাতালেও এদিন সুরক্ষার দাবিতে সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখান সেখানকার স্বাস্থ্যকর্মীরা।

জানা গিয়েছে, গড়ফা থানার এক অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইন্সপেক্টর কয়েক দিন আগে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। কোভিড-১৯ পরীক্ষার জন্য তাঁর দেহরসের নমুনাও সংগ্রহ করা হয়েছিল। সেই কারণে তাঁকে ও তাঁর সংস্পর্শে আসা আরও ৪ জন পুলিশকর্মীকে হাওড়ার ডুমুরজলা ইন্ডোর স্টেডিয়ামের কোয়ারেন্টিন সেন্টারে রাখা হয়। বাকি চারজনেরও কোভিড-১৯ পরীক্ষা করতে তাঁদেরও দেহরসের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এরইমধ্যে গতকাল থেকে ওই এএসআই প্রবল শ্বাসকষ্টে ভুগতে শুরু করেন। তার জেরে তাঁকে তড়িঘড়ি করে কলকাতার বাঙ্গুর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু এদিন সকালেই তাঁর মৃত্যু হয়। সেই খবর ছড়াতেই এদিন বিক্ষোভে ফেটে পড়েন গড়ফা থানার অনান্য পুলিশকর্মীরা।  বিক্ষোভে নামা পুলিশকর্মীদের অভিযোগ, ওই পুলিশ আধিকারিকের করোনার যাবতীয় উপসর্গ ছিল। সময়মত সঠিক চিকিৎসা হলে তাঁর মৃত্যু এড়ানো যেত। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা না করানোর জন্যই ওই আধিকারিকের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনা ঘিরেই গড়ফা থানা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধেই বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন সেখানে কাজ করা অনান্য পুলিশকর্মীরা।

খোদ থানার ভেতরেই এহেন বিক্ষোভ শুরু হতেই শোরগোল পড়ে যায়। লালবাজার থেকে আসেন পুলিশের বড়কর্তারা। কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওই পুলিশ আধিকারিকের রিপোর্ট আসার পরেই বোঝা যাবে ঠিক কী কারনে এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। তবে যে সব অভিযোগ উঠেছে সে সব কিছু খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর আগেও সুরক্ষার দাবিতে কলকাতার পুলিশ-ট্রেনিং স্কুলে বিক্ষোভ দেখাতে দেখা গিয়েছে পুলিশকর্মীদের। খোদ মুখ্যমন্ত্রী গিয়ে সেবার পরিস্থিতি সামাল দেন। তবে পুলিশ কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের যে চোরাস্রোত বইছে এ দিনের ঘটনা তারই প্রমাণ বলে প্রশাসনিক মহলের অভিমত।

অন্যদিকে করোনার সংক্রমণ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সুরক্ষার দাবি তুলে এদিন অবস্থান বিক্ষোভে সামিল হন কেপিসি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নার্স-স্বাস্থ্যকর্মীরা। কিছুদিন আগেই কেপিসি মেডিকেল কলেজকে কোভিড হাসপাতাল রূপে চিহ্নিত করা হয়েছে। কিন্তু এরই মাঝে সুরক্ষার দাবি তুলে চিকিৎসা থামিয়ে অবস্থান বিক্ষোভ হাসপাতালের ৪০০ নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীর।  বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ মিলছে না পিপিই, একই পিপিই একাধিক বার পরে কাজ করতে হচ্ছে। আবার কখনও পিপিই ছাড়াই ডিউটি করতে হচ্ছে। এই রকমই নানান অভিযোগে তুলে কর্মবিরতিতে সামিল কেপিসি মেডিক্যাল কলেজের নার্স সহ স্বাস্থ্যকর্মীরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here