ছবি: প্রতীকী

রাজেশ সাহা: কলকাতার চারু মার্কেট থানা এলাকার একটি পরিত্যক্ত গোডাউন থেকে এক মানসিক ভারসাম্যহীন যুবকের দেহ উদ্ধারে চাঞ্চল্য ছড়াল। এদিন বিকেলে ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে এম আর বাঙুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে, তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিত্সকরা। খুনের মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে চারু মার্কেট থানার পুলিশ।

সূত্রের খবর, চারু মার্কেট থানা এলাকার ডক্টর দেওধর আহমেদ রোডের উপর একটি পরিত্যক্ত গুদাম থেকে এদিন সোমনাথ সর্দার নামে এক মানসিক ভারসাম্যহীন যুবকের দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় চারু মার্কেট থানার পুলিশ। তাকে ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় গুদামের মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। পুলিশ এসে দেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে, আগেই মৃত্যু হয় বলে জানান চিকিত্সকরা। এরপর এই ঘটনার তদন্ত শুরু করলে, ঘটনাস্থল থেকে দুই প্রত্যক্ষদর্শী নাবালকের সন্ধান পায় পুলিশ। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায়, বুধবার দুপুর সাড়ে তিনটে নাগাদ ওই পরিত্যক্ত গুদামের মধ্যেই বুম্বা দে নামে স্থানীয় এক দুষ্কৃতীর সঙ্গে বচসা হয় সোমনাথের। সূত্রের খবর প্রায় তিন বছর আগে নিজের বাড়ি ছেড়েছিলেন সোমনাথ। তিনি ছিলেন মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। বাড়ি ছাড়ারর পর থেকে ওই পরিত্যক্ত গুদামেই রাত কাটত সোমনাথের।

সূত্রের খবর, প্রত্যক্ষদর্শীরা পুলিশকে জানিয়েছেন, এদিন দুপুরে মদ্যপ অবস্থায় ওই পরিত্যক্ত গোডাউনে আসে স্থানীয় দুষ্কৃতী বুম্বা। আশেপাশের বেশ কিছু এলাকায় চুরি, মারধর ও হুমকি দেওয়ার মতো ঘটনায় সে অভিযুক্ত বলে জানা গিয়েছে। এদিন গোডাউনে আসার পর থেকেই সোমনাথের সঙ্গে বচসা শুরু হয় বুম্বার। বচসার জল গড়ায় হাতাহাতি পর্যন্ত। এরপরেই মানসিক ভারসাম্যহীন সোমনাথের সোমনাথকে কিল চড় ঘুষি মেরেসহ বেধরক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বুম্বার মারধরের জেরে ক্রমেই জ্ঞান হারায় সোমনাথ। এরপরেই মৃত্যু হয় তাঁর। ঘটনাস্থল থেকে দেহটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য পাঠিয়েছে পুলিশ।

এই ঘটনার পর থেকেই এলাকা ছাড়া হয়ে গিয়েছে অভিযুক্ত বুম্বা দে। বুধবার রাত পর্যন্ত গোটা এলাকায় তল্লাশি চালিয়েও নাগাল পায়নি পুলিশ। যদিও খুব শীঘ্রই ওই কুখ্যাত দুষ্কৃতীকে বাগে আনা যাবে বলে মনে করছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। এই ঘটনায় খুনের মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে চারু মার্কেট থানার পুলিশ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here