ছেলেধরা সন্দেহে গণপ্রহারের ঘটনা দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলে, পুলিশের তৎপরতায় বাঁচল যুবক

0
178
kolkata bengali news

নিজস্ব প্রতিবেদক, দুর্গাপুর: মাত্র ১২ ঘণ্টার ব্যবধান। তার মধ্যেই তৎপরতা বাড়ল পুলিশের। তার জেরেই বেঁচে গেল নিরীহ একটি প্রাণ। ১২ঘন্টা আগে একই পুলিশ কমিশনারেটের এলাকায় পুলিশের কাছে খবর দেরি করে পৌঁছানোয় প্রাণ বাঁচানো যায়নি ছেলেধরা সন্দেহে মার খাওয়া এক যুবকের। কিন্তু এবার আরেক যুবকের প্রাণ বাঁচল ঠিক সময়ে পুলিশ খবর পেয়ে যাওয়ায়। ছবিটা পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোল-দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের। যেখানে বুধবার সকালে ছেলেধরা সন্দেহে এক যুবককে পিটিয়ে মারা হয়। সেই একই জেলায় ওই দিন সন্ধ্যাতেই আরেক যুবককে ফের মারধর করা হয় ছেলেধরা সন্দেহে। ভাগ্য ভাল এবার পুলিশের কাছে ঠিক সময়ে খবর পৌছে যাওয়ায় তাকে প্রাণে বাঁচানো গিয়েছে। তবে ছেলেধরা নিয়ে যে গুজব এই জেলার শিল্পাঞ্চলে ছড়িয়েছে তার জেরে স্কুলে কচিকাঁচাদের হাজিরাও কমেছে। সব মিলিয়ে বেশ উদ্বিগ্নতার ছবি দেখা যাচ্ছে আসানসোল-দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলে।

বুধবার সকালে আসানসোল মহকুমার হিরাপুর থানার ভালোটিয়া গ্রামে এক যুবককে পিটিয়ে মেরে দেওয়া হয় শুধুমাত্র ছেলেধরা সন্দেহের বশে। পুলিশ সেই ঘটনায় অনেক দেরিতে খবর পেয়েছিল। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই যুবককে উদ্ধার করতে গিয়ে জার্যত হিমসিম খায়। জনতা-পুলিশ সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ওই এলাকা। পুলিশ দীর্ঘক্ষন বাদে সেই যুবককে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যেতে সক্ষম হলেও তার প্রাণ বাঁচানো যায়নি। এরপরই পুলিশ আসানসোল-দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলে মাইকিং শুরু করে অযথা কাউকে সন্দেহের জেরে মারধর না করতে। বুধবার রাতেই তার ফল মেলে। জেলার দুর্গাপুর মহকুমার অন্ডাল থানা এলাকার ছোড়া গ্রামে বুধবার রাতে এক যুবককে আটক করে স্থানীয় বাসিন্দারা। ওই যুবক অসংলগ্ন কথাবার্তা বলায় তাকে ছেলেধরা সন্দেহে স্থানীয় একটি ক্লাবে নিয়ে গিয়ে শুরু হয় গণপ্রহার। যদিও সেই খবর ঠিক সময়ে পৌছে গিয়েছিল পুলিশের কাছে। তার জেরেই উখড়া ফাঁড়ির পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই যুবককে উদ্ধার করে। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য প্রথমে খান্দ্রা গ্রামীণ হাসপাতালে ও পরে দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে ওই যুবক সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায় এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্কের ছাপ রয়েছে। স্থানীয় শিশু শিক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষিকা শাকিলা খাতুন জানান, ছেলেধরার আতঙ্কে গত কয়েকদিন ধরেই স্কুলে পুড়ুয়ার সংখ্যা কমে গেছে। এদিন স্কুলে এসেছে মাত্র দুজন পড়ুয়া। আতঙ্কের কারণে অভিভাবকরা তাদের ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন বলে জানান তিনি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও রকম গুজব না ছড়ানোও আইন নিজের হাতে না তুলে নিতে আবেদন জানান হয়। কিন্তু কেন এই পরিস্থিতি? প্রচার সত্ত্বেও কেনও হুঁশ ফিরছে না মানুষের? কেন বারবার আক্রান্ত হচ্ছেন মানুষ? উঠছে সেই প্রশ্নও।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here