ডেস্ক: সম্প্রতি খবরের শিরোনামে উঠে আসা সেন্ট পলস কান্ডের জেরে ইতিমধ্যেই অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারির নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। ঘটনায় পাঁচ মূল অভিযুক্তদের পাকড়াও করতে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগণার সমস্ত থানাগুলিকে নির্দেশও পাঠানো হয়েছে লালবাজারের তরফে। পুলিশের তরফে শুরু হয়েছে তল্লাশি। কিন্তু এখনও বেপাত্তা ওই ৫ অভিযুক্ত। যদিও পুলিশের দাবি খুব শীঘ্রই গ্রেপ্তার করা হবে তাদের।

এদিকে ঘটনার তদন্তে নেমে যে তথ্য উঠে এসেছে তা চোখ কপালে তুলে দেওয়ার মতোই। সারা বছর ধরে লক্ষ লক্ষ বেহিসেবি টাকা জমা পড়ে কলেজের সিনিয়র দাদাদের কাছে। আর সেই টাকার জন্যই যতকান্ড। তদন্তে জানা গিয়েছে, কলেজে অনলাইন ফর্ম ফিলাপের ব্যাবস্থা থাকলেও ক্যাশ কাউন্টারে গিয়েই টাকা জমা দিতে হয় ছাত্রছাত্রীদের। আর সেই কাউন্টারের সামনে বসে থাকেন কলেজের সিনিয়র দাদারা। দুঃস্থ ছাত্রছাত্রীদের সাহায্যের জন্য ৩৫০ টাকা করে তোলে তারা। বছরে দুবার তোলা হয় এই টাকা। কলেজে আড়াই হাজার ছাত্রছাত্রী থাকলে টাকা আসে প্রায় ১৭ লক্ষ ৫০ হাজার। এছাড়া কলেজের অনুষ্ঠান বাবদও আসে আরও ৫ থেকে ১০ লক্ষ টাকা। যার মধ্যে থেকে খরচ হয় সামান্যই, বাকিটা যায় সিনিয়র দাদাদের পকেটে। এমনকি এই টাকার টানেই কলেজ পাশ করার পরও বহিরাগত আনাগোনা লেগেই থাকে কলেজে। সেই টাকার হিসাব চাইলে চলে এমনই নির্যাতন। আর ঠিক এই কারনেই নগ্ন করে নিগ্রহ করা হয় সেন্ট পলস কলেজের টিএমসিপি ইউনিটের ওই ছাত্রকে।

উল্লেখ্য, কলেজের টাকার হিসাব চাওয়ার অভিযোগে এক ছাত্রকে নগ্ন করে হেন্সথা করা হয় সেন্ট পলস কলেজে। সেই ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হয়ে যাওয়ার পর শুরু হয়েছে বিতর্ক। ঘটনার তদন্তে নেমে ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত অশিক্ষক কর্মীকে সাসপেন্ড করেছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়াও ঘটনার তদন্তে ৮ সদস্যের তদন্ত কমিটি গড়েছে কলেজ পরিচালন সমিতি। ঘটনায় দোষীদের কঠোরতম শাস্তি দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রীও।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here