তৃণমূল নেতাদের কাছে কাটমানি ফেরতের দাবি! গ্রামবাসীর ওপর লাঠিচার্জ পুলিশের

0
290
kolkata bengali news

নিসজ্ব প্রতিবেদক, মেদিনীপুর: কাটমানি ফেরতের দাবিতে গ্রামবাসীদের কাছে তৃণমূল নেতাদের হেনস্তা হওয়ার অনেক ঘটনা রয়েছে৷ এবার কাটমানি ফেরতের দাবি জানাতে গিয়ে পুলিশের হাতে আক্রান্ত হল গ্রামবাসীরা৷ শনিবার রাতে পশ্চিম মেদিনীপুরের আনন্দপুর থানার ডলং গ্রামে এই ঘটনা ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে৷ আনন্দপুর থানার পুলিশের বিরুদ্ধে গ্রামবাসীদের ওপর জুলুমবাজির অভিযোগও তুলেছে বিজেপি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কাটমানি ফেরতের দাবিতে শনিবার বিজেপির নেতৃত্বে ডলং গ্রামের কিছু বাসিন্দা স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের বাড়ির সামনে গিয়ে বিক্ষোভ-মিছিল করেন। এটা ঘিরে শনিবার বিকাল থেকেই গ্রামে উত্তেজনা দেখা দেয়৷ তারপর সন্ধ্যা নাগাদ আনন্দপুর থানার পুলিশ গ্রামে এসে বিজেপি নেতাদের গ্রেফতারের চেষ্টা করে। পুলিশের অভিযোগ, গ্রামে উত্তেজনা ছড়ানোর পিছনে রয়েছে বিজেপি নেতৃবৃন্দ৷ কিন্তু পুলিশের এই অভিযোগ মানতে নারাজ গ্রামবাসীরা৷ তারা বিজেপি নেতৃবৃন্দকে গ্রেফতারে পুলিশকে বাধাও দেয়৷ তখনই পুলিশ গ্রামবাসীদের ওপর লাঠিচার্জ করে বলে অভিযোগ। যদিও এব্যাপারে জেলা পুলিশ সুপার দীনেশ কুমারের সাফাই, ‘পুলিশের কাজে বাধা দেওয়া হয়েছে। পুলিশের ওপরে আক্রমণের চেষ্টা করা হয়েছে। কোনও পুলিশকর্মী সেভাবে আহত না হলেও এই ঘটনায় আমরা একটি মামলা দায়ের করেছি।’

অন্যদিকে, গ্রামবাসীদের উপর পুলিশের লাঠিচার্জের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বিজেপি নেতা আশিস চট্টোপাধ্যায়৷ তৃণমূলের নির্দেশেই পুলিশ একাজ করেছে অভিযোগ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিজেপি নেতা-কর্মীরা শান্তিপূর্ণভাবে গ্রামবাসীদের সঙ্গে নিয়ে কাটমানির টাকা ফেরতের দাবি জানিয়েছিলেন। আর পুলিশ তৃণমূলের ইশারায় গ্রামবাসীর উপর লাঠিচার্জ করল৷’ যদিও বিজেপির অভিযোগ অস্বীকার করে
তৃণমূলের জেলা সভাপতি অসিত মাইতির পাল্টা দাবি, ‘বিজেপি নেতারা গ্রামের উত্তেজনা তৈরি করে তৃণমূলের উপর হামলার চেষ্টা করেছিল। গ্রামে উত্তেজনা তৈরি করে নিজেরা ফায়দা নিতে চেষ্টা করছিল। আমরা পুলিশকে অভিযোগ করেছিলাম৷ পুলিশ ব্যবস্থা নিয়েছে।’

উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগেও ডলংয়ের পার্শ্ববর্তী শ্যামচাঁদপুর গ্রামে আনন্দপুর থানার পুলিশের সঙ্গে গ্রামবাসীদের সংঘর্ষ বেধেছিল৷ সেবারও পুলিশ কয়েকজন বিজেপি কর্মীকে গ্রেফতার করতে গিয়েছিল৷ গ্রামবাসীরা বাধা দিলে তাদের সঙ্গে পুলিশের খণ্ডযুদ্ধ বেধে যায়৷ তারপর পুলিশের লাঠিচার্জে কয়েকজন গ্রামবাসী আহতও হন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here