kolkata bengali news

নিজস্ব প্রতিবেদক, বালুরঘাট: ভোটদানের দিন যতই এগিয়ে আসছে উত্তরবঙ্গের দক্ষিন দিনাজপুর জেলায় শাসক দল বনাম বিজেপির বিবাদ ও বিরোধের ঘটনা ততই যেন বেড়ে চলেছে। বৃহস্পতিবার জেলার সদর মহকুমার কুমারগঞ্জে এই রকমই এক বিবাদ ও তা ঘিরে সংঘর্ষের ঘটনায় উত্তাপ ছড়ালো কার্যত গোটা ব্লকেই। জানা গিয়েছে, এদিন কুমারগঞ্জ ব্লকের দিওর বাজারে বিজেপি নেত্রী তথা রাজ্য সভার সংসদ রূপা গাঙ্গুলির একটি সভা ছিল। সেই সভায় যোগ দিতে প্রসাদপুর গ্রামের জনা দশেক বিজেপি কর্মী ভুটভুটি করে যাচ্ছিলেন। যাবার পথে খুলন মোড় এলাকায় তাদের ওপর লাঠিসোটা নিয়ে তৃণমূল কর্মীরা হামলা চালায় বলে অভিযোগ। লাঠির আঘাতে আহত তিন জন স্থানীয় কুমারগঞ্জ গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি। আহত ব্যক্তিরা হলেন স্বপন রায়, বিপ্লব রায় ও প্রতাপ রায়। বাকিরা কিল ঘুসি খেয়ে কোনও মতে পালতে সক্ষম হন। এরপর ওই বিজেপি কর্মীরা তাদের গ্রামে পৌঁছনোর পর গ্রামবাসীদের সব কথা জানায়। গ্রামবাসীরা তা শুনে ক্ষিপ্ত হয়ে রাস্তা অবরোধ শুরু করেন।

সেই সময় কুমারগঞ্জ ব্লকের কলাবাড়ি এলাকায় পথসভা করে বাড়ি ফিরছিলেন কুমারগঞ্জের প্রাক্তন বিধায়ক মাহমুদা বেগম। সেই সময় প্রায় শচারেক মানুষ বিশেষত মহিলারা মাহমুদা বেগমের গাড়ীকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে মাহমুদা বেগম কুমারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিককে ফোন করে সমস্ত ঘটনার বিবরণ দেন l সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ এসে আক্রান্ত বিধায়ককে ক্ষুব্ধ জনতার হাত থেকে উদ্ধার করেন এবং এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী টহল দিয়ে এলাকায় উত্তেজনা প্রশমনে আপ্রাণ চেষ্টা চালায়। এরও মধ্যে ব্লকে খবর ছড়িয়ে পড়ে যে প্রাক্তন বিধায়কের গাড়ি ভাঙচুর হয়েছে। সেই খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে তৃণমূলকর্মীরাও পাল্টা হামলা চালাবার জন্য জড়ো হতে শুরু করে। কয়েকশো তৃণমূল কর্মী ঘটনাস্থলে জমায়েত হয়ে গেলে পাল্টা আক্রমণের পরিস্থিতি তৈরী হয়। এমন উত্তেজক পরিস্থিতি সামাল দিতে আসরে নামেন দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পরিষিদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ মফিজুদ্দিন মিয়া।

এ প্রসঙ্গে মাহমুদা বেগম বলেন, ‘কি কারণে আমার ওপর এমন অতর্কিত হামলা তা আমার অজানা। কেউ যদি কোথাও বিজেপি কর্মীদের ওপর আক্রমণ করে থাকে সেটা তো আমার জানার কথা নয়। কয়েকশো ক্ষিপ্ত জনতা বিশেষত মহিলারা আমায় ঘিরে বিক্ষোভ দেখায়, অশ্রাব্য গালিগালাজ করে এবং আমার গাড়িতে ভাঙচুর চালায়। পুলিশের সাহায্য চেয়ে ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে আমায় উদ্ধার করেছে।’ জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ মফিজুদ্দিন মিঁয়া এপ্রসঙ্গে বলেন, ‘এমন ঘটনার তীব্র নিন্দা করছি। বিজেপি কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় তৃণমূলের কেউ জড়িত নয়। বিজেপি ইচ্ছাকৃত ভাবেই এমন ঘটনা ঘটিয়ে তৃণমূলকে বদনাম করতে চাইছে। লড়াই এমন না হয়ে লড়াই হোক রুটিরুজির, লড়াই হোক উন্নয়নের।’

বিজেপির কুমারগঞ্জ মন্ডল সভাপতি সুবীর সাহা অবশ্য জানিয়েছেন, ‘আমাদের কর্মীরা দিওর বাজারে পথসভায় যাচ্ছিলেন। যাবার পথে তাদের ওপর বাঁশ, লাঠিসোটা নিয়ে আক্রমণ চালায় তৃণমূল দুষ্কৃতীরা। তিনজন বিজেপি কর্মী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তারপরেও শাসক আশ্রিত দুষ্কৃতীরা তাদের গ্রামে গিয়েও ভীতি প্রদর্শন করে। প্রাক্তন বিধায়কের গাড়ির ওপর কোনও হামলার ঘটনা জানা নেই। তবে শুনেছি কয়েকশো মহিলা ওনাকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here