FotoJet-127

বিশেষ প্রতিবেদন: ‘রাজনৈতিক বহির্ভূত’ সাক্ষাৎকারেই আরও বড় রাজনৈতিক সমীকরণের সম্ভাবনা তৈরি করে দিতে পারেন তিনি। রাজনীতির চরম শত্রুকেও নিজের বন্ধু বলতে পারেন। আবার কয়েক ঘন্টা পর তাঁর রাজ্যে এসেই তাঁকে তুলধনাও করে যেতে পারেন। তিনি নরেন্দ্র দামোদর মোদী।

বলিউডের খিলাড়ি অক্ষয় কুমারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তৃণমূল নেত্রীকে নিয়ে করা তাঁর মন্তব্যই এখন ভাইরাল। যা আপাত দৃষ্টিতে রাজনৈতিক সৌজন্য মনে হতেই পারে। কিন্তু যদি কেউ একটু গভীরে ঢুকে দেখতে চান, অনেক কিছুই দেখতে পাবেন।

আজকের সাক্ষাৎকারে কংগ্রেস নেতা গুলাম নবি আজাদের পাশাপাশি বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিষয়েও ইতিবাচক আলোচনা করেন। দু’জনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের পাশাপাশি তিনি এও জানান, প্রত্যেক বছর মমতা নিজেই পছন্দ করে একটা-দুটো কুর্তা ও মিষ্টি পাঠান মোদীকে। যেই খবর স্বাভাবিকভাবেই ঝড় তুলেছে জাতীয় রাজনীতিতে। বড় বড় রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরাও বিরোধী নেতা নেত্রীদের ব্যাপারে মোদীর মুখে মধু দেখে অবাকই হয়েছেন। যার কারণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে, আদতে মমতার প্রশংসা করে আগামীর বৃহৎ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনের চেষ্টা করছেন মোদী।

কী সেই উদ্দেশ্য? সে কথায় একটু পরে আসা যাক। কিন্তু মনে করিয়ে দেই, বাংলা থেকে কিন্তু ২৩টি আসন পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছে বিজেপি। দিনরাত ছুটে চলেছেন মোদী-শাহ সহ অন্যান্য প্রথম সারির নেতারা। এই অবস্থায় মমতার সম্পর্কে মধুর মন্তব্য করে আত্মঘাতী গোল করছেন না তো মোদী? অনেকে মনে করছেন হ্যাঁ। কিন্তু একটু বিস্তারিত পর্যবেক্ষণ করলে বোঝা যাবে, এই মন্তব্যের মাধ্যমে আসলে মমতাকেই একটু ফ্যাসাদে ফেলতে পারেন মোদী। এমনকি তৃণমূলের একটা সিংহভাগ ভোটব্যাঙ্কও প্রশ্নের মুখে পড়ে যেতে পারে।

মোদীর এই প্রশংসার পিছনে বেশ কয়েকটি কারণ থাকতে পারে বলে ধারনা রাজনৈতিক পন্ডিতদের। প্রথমত, ২০১৪ সালে মোদী ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তাঁর বিরোধিতার ক্ষেত্রে প্রথম সারিতে রয়েছেন মমতা। যে বিরোধিতা ২০১৯ সালে চরমে পৌঁছেছে। এ হেন অবস্থায় কুর্তা আর মিষ্টির কথা বলে পরোক্ষে মমতার ‘মোদী বিরোধিতার’ ভাবমূর্তিকেই নাড়িয়ে দিতে চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি বামেদের পক্ষ থেকে চিরকালই মমতা-মোদী শত্রুতাকে ‘লোক দেখানো’ বলে অ্যাখ্যা দিয়ে আসা হয়েছে। ফলে মোদীর এই কুর্তা-মিষ্টির গল্প বামেদের দাবিকেই আরও শক্ত জমি দেয়।

দ্বিতীয়ত, অধিকাংশ সমীক্ষা জানাচ্ছে, এবারে ইউপিএ বা এনডিএ কেউই একা সরকার দখল করতে পারবে না। আঞ্চলিক দলগুলি অনেকটাই ভূমিকা নেবে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে। এ রাজ্যে ৪২-এ ৪২টি আসন তুলে দিল্লিতে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে প্রথম সারিতে থাকতে চাইছেন মমতা। যদি আগামীদিনে এনডিএ-র সরকার গঠনের সময় ৩০-৩৫টি আসন কম পড়ে, সে ক্ষেত্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ভোট পরবর্তী জোটের রাস্তাও খোলা রাখতে চাইছেন মোদী। ভুলে গেলে চলবে না, ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর বাংলায় সভা করতে এসে মোদী বলেছিলেন, আপনাদের দু হাতে দুটো লাড্ডু। দিল্লিতে মোদী, আর এখানে দিদি। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে শুনতে একটু অবাস্তব মনে হলেও, এমন হওয়াটা রাজনীতিতে অসম্ভব নয়।

তৃতীয়ত, সংখ্যালঘু ভোটের একটি বড় অংশ আসে তৃণমূলের ঝুলিতে। সেদিক দিয়ে দেখতে গেলে বিজেপির ঝুলিতে সংখ্যালঘু ভোট যায় না বললেই চলে। ফলে মমতার বিষয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করে সংখ্যালঘু ভোটারদের মনে যদি মোদী সংশয় তৈরি করতে পারেন, তবে তা তৃণমূল কংগ্রেসের বিপরীতে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here