নিজস্ব প্রতিবেদক, মালদা: সাত সকালে বৃষ্টিজলের মধ্য দিয়ে শ্লথ গতিতে ভোটগ্রহন শুরু হয় মালদায়। বেলা বাড়তেই ভয়াবহ রূপ নেয় পঞ্চায়েত ভোট। শুরু হয় গুলি বোমা ইট বৃষ্টি । চলে বুথ জ্যাম, ছাপ্পা ভোট ও ব্যলট লুঠ। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অভিযোগের তির তৃণমূলের দিকে। সকাল থেকেই দফায় দফায় সংঘর্ষে উত্তাল হয়ে ওঠে মালদা। রতুয়ার বাহারালের ৬৬ ও ৬৭ নং বুথে শুন্যে গুলি চালিয়ে বুথের দখল নেয় তৃণমূল । বাখরাবাদে ৭৯ নং বুথে ব্যলট বাক্স লুঠ করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে তৃণমুল আশ্রিত দুষ্কৃতিরা। গ্রামবাসীরা বাধা দিলে ব্যলট বাক্স পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এরপর উত্তেজিত গ্রামবাসীরা তাদের তিনটি মোটর বাইক পুড়িয়ে দেয়। ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন রতুয়া থানার ওসি দেবব্রত চক্রবর্ত্তী। উত্তেজিত গ্রামবাসীদের ছোঁড়া ইটে মাথা ফেটে যায় তাঁর। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে মালদা মেডিক্যাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এছাড়াও রতুয়ার বহু বুথ লুঠ করা হয়েছে বলে অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধে। বিকেলে এখানে বানিকান্তটোলা গ্রামে বিজেপি কর্মী সঞ্জয় মন্ডলেয় মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। হরিশচন্দ্রপুর ব্লকের বিভিন্ন বুথে তৃণমুল ও কংগ্রেসের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। বহু বুথ লুঠ হয়। এদিকে কালিয়াচকের সুজাপুরের ১১১, ১৩৩, ১৩২,১২৫ ও ১২৬ নং বুথে পুলিশের মদতে ৩৫ নং জেলাপরিষধ প্রার্থী হাজি কেতাবউদ্দিনের নেতৃত্বে ব্যাপক ছাপ্পা ভোট দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করছেন হাজি কেতাবউদ্দিন। বামোনগোলার মাধববাটিতে নির্দল প্রার্থীকে তির মারার অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। বৈঙ্ষবনগরের ১১৩ নং বুথে ভোট কর্মীদের বার করে বুথ দখল করে তৃণমূল বলে অভিযোগ। এছাড়াও ইংরেজবাজারের মোহদিপুরের নরেন্দ্রেপুর, চাঁচল মানিকচক হবিবপুর প্রভৃতি বিভিন্ন বুথ লুঠের অভিযোগ ওঠে শাষক দলের বিরুদ্ধে।

জেলা কংগ্রেস সভাপতি মৌসম নুর বলেন, ‘তৃণমূল জেলার বেশিরভাগ বুথ হয় লুঠ করেছে না হয় ছাপ্পা মেরেছে। আমরা বুথ গুলিতে রি-পোলের দাবী জানাব। জেলা সিপিএম সাধারণ সম্পাদক অম্বর মিত্র বলেন, ‘এত বাজে নির্বাচন কোনো দিন হয়নি। ভোটের নামে শুধুই প্রহশন হয়েছে। আমরা অনেক বুথে রি-পোলের দাবী জানাব’। যদিও জেলা তৃণমূল সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘বিরোধীদের চক্রান্তেই কিছু হিংসার ঘটনা ঘটেছে। আমরা কোন বুথ দখল বা ছাপ্পা দেয়নি। সবই বিরোধীদের চক্রান্ত’।

বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত জেলায় ভোটের হার ৬৩,৩৩ শতাংশ ।  যদিও বিকেল পর্যন্ত হিংসায় কোন মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। কিন্তু পুলিশ সহ আহত বহু।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here