চুলোয়ে যাক আইন! রাতারাতি হচ্ছে পুকুর ভরাট, প্রমোটিং গেমে ‘ওপেনার’ শাসকদলই

0
203
kolkata bengali news

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এ যেন সুকুমার রায়ের গল্প। গল্পে যেমন রুমাল রাতারাতি বেড়াল হয়ে উঠতে পারে বাস্তবে তেমনি রাতারাতি বিশাল পুকুর হয়ে উঠেছে বাস্তু জমি। চমকে দেওয়ার মত এই ঘটনা তৃণমূল পরিচালিত উত্তরপাড়া কোতরং পুরসভা এলাকায়। রাতারাতি পুকুর ভরাট করে সেই জমিতে প্রোমোটিংয়ের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের তত্পরতায় আপাতত পুকুর ভরাট করে তৈরি জমিতে নির্মান আটকানো গিয়েছে। কিন্তু পুকুরটিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে পুরো কর্তৃপক্ষের কোন সদিচ্ছা চোখে পড়ছে না বলে তাদের অভিযোগ।হৈচৈ বন্ধ হলে ফের সেখানে প্রোমোটিং শুরু করা হবে কিনা তা নিয়েও সংশয়ে স্থানীয়রা।সেই সংশয় আরও বাড়িয়ে দিয়েছে তৃণমূল পরিচালিত পুরো প্রশাসনের দৃষ্টিভঙ্গী।ওই পুকুরের মালিক পরিবারের সুরে সুর মিলিয়ে ওখানে আদৌ পুকুর ছিল কিনা তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে পুর প্রশাসন। একই সঙ্গে অবশ্য তাদের আশ্বাস বিষয়টি নিয়ে তদন্ত হচ্ছে । যদি ওই পুকুরের অস্তিত্ব প্রমাণিত হয় তবে তা আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়া হবে।

হুগলির উত্তরপাড়া, ভদ্রেশ্বর, কোন্নগরের মত এলাকায় পুকুর বা জলাশয় ভরাট করে প্রোমোটিং-এর অভিযোগ নতুন নয়। জমি ও ফ্ল্যাটের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসনের একাংশের মদতে এই ধরণের ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলেছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। তবে বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই শাসক ঘনিষ্ঠ প্রভাবশালী প্রোমোটারদের ভয়ে মুখ খুলতে ভয় পান তারা।তবে ওপরের ঘটনা ব্যতিক্রম। এখানে পুকুর বাঁচাতে একজোট হয়েছেন স্থানীয়রা। তাঁদের বাধাতেই কোতরং পুরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ৫২কাটার ওই পুকুর ভরাট করলেও নির্মান শুরু করতে পারেননি অভিযুক্ত প্রোমোটার। টনক নড়েছে প্রশাসনেরও।এ ব্যপারে রিপোর্ট তলব করেছে পুরো ও নগরোন্নয়ন দপ্তর। সেই মতো ওই ব্লকের ভূমি রাজস্ব অধিকারিক এসাকায় গিয়ে বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন।স্থানীয় কাউন্সিলর অবশ্য এ ব্যপারে কোন দায় নিতে নারাজ। ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রত্না সিংহ রায়কে ওই পুকুরের ব্যপারে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘আমি অভিযোগ পেয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু জমির বর্তমান মালিক বলছেন ওখানে কোন পুকুর ছিলনা।’ উত্তরপাড়া কোতরং পুরসভার পুরপ্রধান দীলিপ যাদব বিষয়টি খতিয়ে দেখার পর উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।তিনি বলেন, ‘যদি কোনো জায়গায় পুকুর বুজিয়ে প্রমোটিং করার অভিযোগ প্রমানিত হয় তবে দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি হবে।পুরসভা সেই জায়গায় পুকুর কাটিয়ে দেওয়ারও ব্যবস্থা করবে।’

বেআইনিভাবে পুকুর বা জলাশয় ভরাট আটকাতে কড়া শাস্তির কথা ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার ।আইনে দোষীদের ৭ বছরের জেল এবং জরিমানার সংস্থান রয়েছে। ইতিমধ্যেই বিষয়টি জেলাশাসক ও পুরসভাগুলির চেয়ারম্যানদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।এই ঘটনাতেও দোষীদের উপযুক্ত শাস্তির পাশাপাশি পুকুরটিকে আগের রূপে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বাসিন্দারা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here