নিজস্ব প্রতিবেদক, বনগাঁ: শাসক দলের আদি বনাম নব্যের লড়াই এখন আর কারও অজানা নয় দিদির বাংলায়। কিন্তু বিজেপিতে আদি-নব্য এখনও অতটা জাঁকিয়ে বসেনি। সেভাবে গেরুয়া শিবিরে এখনও প্রকট হয়নি আদি বনাম নব্যের দ্বন্দ্ব। ব্যতিক্রম উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁ মহকুমা এলাকা। বাংলাদেশ সীমান্ত ঘেঁষা এই এলাকাটি বরাবরই মতুয়া ভোট ব্যাঙ্কের খাস তালুক। আর সেই মতুয়াদের ধর্মসাংস্কৃতিক জীবনের প্রাণকেন্দ্র হল ঠাকুরনগরের ঠাকুরবাড়ি। রাজনীতির জাঁতাকলে পড়ে সেই ঠাকুরবাড়িই এখন দ্বিধাবিভক্ত। সাংসদ মমতাবালা ঠাকুর ও তার পরিবার তৃণমূল ঘেঁষা এবং প্রাক্তন মন্ত্রী মঞ্জুলকৃষ্ণ ঠাকুর ও তার পরিবার বিজেপি ঘেঁষা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঠাকুরনগরে সভা করে যাওয়ার পর থেকেই শোনা যাচ্ছিল বনগাঁয়ে প্রার্থী হতে পারেন মঞ্জুলের ছোট ছেলে শান্তনু ঠাকুর। কিন্তু কিছুদিন আগেই বাগদা বিধানসভা কেন্দ্রের কংগ্রেস বিধায়ক দুলাল বর বিজেপিতে যোগদান করায় এখন কার্যত দড়ি টানাটানি শুরু হয়েছে দুলাল ও শান্তনু শিবিরের মধ্যে, যে কে হবে বিজেপি প্রার্থী। তার মধ্যেই বনগাঁ শহর থেকে ট্রেন-বাস-টোটো-অটো সর্বত্র ছেয়েছে এক পোস্টারে। যাতে লেখা,’বিজেপির ঘরের প্রার্থী না হলে ভোট এবার অন্য ফুলে।’

এই পোস্টার ঘিরেই এখন জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে মহকুমার বিজেপি শিবিরে। ওই পোস্টারে ওপরের দিকে এক কোনে দুলাল বরেরও ছবি রয়েছে। কিন্তু সেই ছবিতে কাটা দাগ দেওয়া হয়েছে। পোস্টার ছড়ানো হয়েছে বনগাঁ লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি কর্মীদের নামে। জানা গিয়েছে, এই ঘটনার সুত্রপাত দিন তিনেক আগে। ঠাকুরনগরে মতুয়া মহাসংঘের উপদেষ্টা বীনাপানি দেবীর নিয়মভঙ্গ অনুষ্ঠানে হাজির হয়েছিলেন দুলাল বর। সেই সময় তাকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে মতুয়া ধর্মের কিছু মানুষ। বেগতিক বুঝে সেদিন সঙ্গে সঙ্গে গাড়িতে উঠে ঠাকুরবাড়ি ছেড়ে চলে চান দুলাল। ঘটনার দুদিন পরে বনগাঁ শহরের বিভিন্ন এলাকায় এবং ট্রেনের গায়ে হটাৎ করে পোষ্টার দেখা যায় দুলাল বরের ছবিতে কাটা চিহ্ন দিয়ে লেখা আছে বিজেপির ঘরের প্রার্থী না হলে ভোট এবার অন্য ফুলে। এই ঘটনা নিয়ে বনগাঁর বিজেপি নেতা দেবদাস মন্ডল জানান, ‘এই সমস্ত কাজ তৃণমূলের। আমাদের দল যে প্রার্থী দেবে তার জন্য কর্মীরা কাজ করবে। আমরা প্রার্থী দেখি না, আমরা দলীয় প্রতীক দেখি।’ অন্যদিকে তৃনমূলের নেতারা জানিয়েছেনীই ঘটনা আদতে বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্ধের ফল। এই সমস্ত নোংরামির সঙ্গে তৃণমূল যুক্ত থাকে না।’

 

অন্যদিকে এলাকাবাসীর তরফে জানা গিয়েছে, ঠাকুরনগরে মতুয়া ধর্মের প্রাণকেন্দ্র ঠাকুরবাড়ি ঘিরে ভক্তদের আত্ম্যাধিক টান কিছু কম নয়। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেন ঠাকুরবাড়ির সদস্যদের জীবনযাত্রা ও বিবাদ নিয়ে মতুয়াদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। কিন্তু বড়মা বীণাপাণি দেবীর জীবতকালে এই নিয়ে কেউ কোনদিন মুখও খোলেননি। কিন্তু বীণাপাণি দেবীর অবর্তমানে সেই ক্ষোভ আর চাপা দিয়ে রাখা যাচ্ছে না। মতুয়াদের এই ক্ষোভ নিয়ে যথেষ্ট অবগত রাজনৈতিক দলগুলিও। বিজেপি প্রথমে শান্তনু ঠাকুরকে বনগাঁ লোকসভা কেন্দ্রে প্রার্থী করার কথা ভেবেছিল। রাজ্য বিজেপি সুত্রে জানা গিয়েছে, শান্তনুকে ঘিরে দলের নীচুতলার নেতাকর্মীদের কিছু ক্ষোভের কথা দিল্লি অবধি পৌঁছেছে। তারপরেই বিকল্প হিসাবে তারা দুলাল বরের নাম ভাবনা চিন্তা করছে। এখনও বিজেপির প্রার্থী তালিকা ঘোষিত না হলেও কার্যত ঠান্ডাযুদ্ধ শুরু হয়ে গিয়েছে শান্তনু আর দুলাল শিবিরের মধ্যে প্রার্থী পদ ঘিরে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here