ডেস্ক: অন্তঃসত্ত্বা মৃত্যু ঘটনায় উত্তেজনা ছড়াল লেডি ডাফরিন ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে। বিবি গাঙ্গুলি স্ট্রিটের বাসিন্দা স্বপ্না হেলা (৩৫) প্রসবের আগেই বিনা চিকিৎসায় মারা যান৷ গর্ভাবস্থায় মৃত্যু হয় সন্তানেরও৷ এবার অবশ্য প্রথম নয়, আগেও এই হাসপাতালের বিরুদ্ধে এমনই অভিযোগ উঠেছিল । এবারের ঘটনা আবারও প্রমাণ করে দিল, লেডি ডাফরিন ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে চিকিৎসার গাফিলতি আছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, স্বপ্না হেলা সন্তানসম্ভাবনা হওয়ার পর থেকে নিজের চেক-আপ করানোর জন্য নিয়মিত আসতেন এই হাসপাতালে। চেক-আপের জন্য গত ৯ জুন তিনি হাসপাতালে যান। চিকিৎসকরা জানান, তাঁর প্রসবের এখনও দেরি আছে। ২০ দিন পর তাঁকে ফের চেক-আপের জন্য আসতে বলা হয়। কিন্তু সোমবার রাত থেকেই হঠাৎ তাঁর প্রসব যন্ত্রনা শুরু হয়। এরপরই পরিবারের লোকেরা তাঁকে তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরিবারের অভিযোগ, প্রসব যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকে স্বপ্না, কিন্তু দ্রুততার সঙ্গে তাঁর কোনও চিকিৎসায় আগ্রহ দেখায়নি হাসপাতাল। প্রায় দেড়ঘণ্টা বিনা চিকিৎসায় ছটফট করতে করতে অবশেষে নিস্তেজ হয়ে পড়েন স্বপ্নাদেবী৷ পরে চিকিৎসকরা জানান তিনি ও তাঁর গর্ভে থাকা সন্তান মারা গিয়েছে।

পরিবারের লোকেদের অভিযোগ, যদি ঠিক সময়ে স্বপ্নার প্রসবের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শুরু করা যেত, তাহলে স্বপ্না ও তাঁর সন্তানকে বাঁচানো যেত। এই ঘটনার পরই স্থানীয়রা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। পরিজনদের সঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকদের বচসা শুরু হয়। লেগে যায় হাতাতাতি৷ উত্তেজনা এতটাই চরম আকার ধারণ করে যে, ভাঙচুর শুরু হয়৷ রোগীর পরিবারের বিরুদ্ধে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সম্পত্তি নষ্টের অভিযোগ এনেছে। এরপরই ঘটনাস্থলে আসে বিশাল পুলিশ বাহিনী৷ পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।

পরিবারের লোকেদের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ এই বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করে। মৃতদেহ ময়না তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্বপ্নাদেবীর পরিবারের সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে৷ হাসপাতালের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, স্বপ্নাদেবী আসার পরই তাঁর প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু করা হয়েছিল। কিন্তু আচমকা সপ্নাদেবীর শারীরিক অবস্থার অবনতির ঘটে৷ এবং পরে তিনি মারা যান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here