ডেস্ক: কোনও ভণ্ডবাবার আস্তানা নয়, এক্কেবারে সরকারী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চলছে বুজরুকি৷ অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে অসুস্থ্য-অসহায় রোগীদের নিয়ে চলছে ছেলেখেলা৷ হচ্ছে তুকতাক৷ ওষুধের পরিবর্তে দেওয়া হচ্ছে জলপড়া-তেলপড়া৷ হ্যাঁ, এ রাজ্যেরই এক সরকারী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে দিনের পর দিন মানুষের জীবন নিয়ে চলছে এমন অবৈধ কারবার৷

ঘটনা হুগলী জেলার সিঙ্গুরে বিঘাটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র৷ প্রতিদিনই সকাল থেকে দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীদের ঢল নামে সেখানে৷ মূলত, গরিব ও নিন্মবিত্ত পরিবারের মানুষজন এখানে রোগ নিরাময়ের আশায় প্রতিদিন লাইন দেন৷ আর সেখানেই চলছে তেলপড়া, জলপড়ার দাওয়াই। তবে এখানকার চিকিৎসক কোনও ডিগ্রিধারী নন, তিনি নাকি ঈশ্বরের ‘বরপুত্র’! হাত ছোঁয়ালেই নিমেশে ভ্যানিস হয়ে যায় দুরারোগ্য ব্যধিও! আর তার অলৌকিক কৃপা লাভের আশায় উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে উপচে পড়ে ভিড়।

ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসা জনপ্রিয় আর ওষুধ এতটাই মহার্ঘ যে, আবাল-বৃদ্ধবনিতা তুকতাক আর জলপড়া-তেলপড়া নিতে ভোর হতে না হতেই লাইন লাগিয়ে দেন৷ বাতের অব্যর্থ ওষুধ নিতে মা-কাকিমারা কোমড়ের যন্ত্রণা নিয়েও একটু জলপড়ার-তেলপড়ার আশায় ঘন্টার ঘন্টা দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করেন৷ সবার হাতেই থাকে তেল-জল মেশানো প্লাস্টিকের বোতল। রোগীদের অবশ্য কু-সংস্কারের তত্ত্ব নয়, ভরসা তুকতাকেই৷ তাঁদের দাবি, মন্ত্রোচ্চারণের পর সেই তেল-জলের মিশ্রণেই ম্যাজিকের হয়ে যাচ্ছে। হাতেনাতে মিলছে উপকার৷ নিমেষে উধাও হয়ে যাচ্ছে ব্যথা-বেদনা।

শুধুমাত্র শারীরিক ব্যধি নয়, পাশাপাশি পারিবারিক অশান্তি, দাম্পত্য কলহ, বাস্তুদোষ প্রভৃতি সবই নাকি সমাধান হয়ে যাচ্ছে তুকতাকে। তেলপড়া-জলপড়া যেমন ব্যথা-বেদনা উপশম করছে, ঠিক একই ভাবে ওই তেল-জল বাড়ির চারপাশে ছড়িয়ে দিলে মিটে যাচ্ছে সাংসারিক অশান্তিও! এরপর বিজ্ঞান-যুক্তি সম্ভবত মনে মনে হাসছে আর বলছে, ‘‘সত্য সেলুকাস, কি বিচিত্র এই দেশ!’’

সবচেয়ে মজার বিষয়, প্রশাসনের নাকের ডগায় দিনের পর দিন সরকারী উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে এমন ঘটনা ঘটে চলেছে৷ স্থানীয়দের অভিযোদ, পুলিশ সব জেনেও কোনও ব্যবস্থা নেয়নি৷ অবশ্য এখন বিষয়টি চাউর হওয়ায় টনক নড়েছে প্রশাসনের। ঘটনার কবর পেয়েই সেখানে ছুটে যান স্বাস্থ্যদফতরের আধিকারিকরা, সঙ্গে যায় পুলিশও।

ছবি- প্রতীকী

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here