নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ২১-এর বিধানসভা ভোটকে পাখির চোখ করে, বড়সড় রদবদল হল রাজ্য বিজেপির সাংগঠনিক পদে। রাজ্য বিজেপি সভাপতির পদে দিলীপ ঘোষকে রেখেই সাজানো হল নতুন টিম। রাজ্য বিজেপির মহিলা মোর্চা সভাপতির পদ থেকে সরানো হল লকেট চট্টোপাধ্যায়কে। তার জায়গায় সভাপতি হলেন অগ্নিমিত্রা পল। অন্যদিকে যুব মোর্চার সভাপতি পদ থেকে সরানো হল দেবজিৎ সরকারকে। তার জায়গায় যুব মোর্চার সভাপতি হলেন সৌমিত্র খাঁ।

দিলীপ ঘোষকে সাংগঠনিক প্রধান রেখেই সদ্য দলে আগত একগুচ্ছ নতুন মুখকে সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে সদ্য বিজেপিতে আগত অর্জুন সিং, সব্যসাচী দত্ত সহ খগেন মুর্মুকে। রাজ্য বিজেপির সহ-সভাপতি করা হয়েছে অর্জুন সিং। অন্যদিকে, সহ সভাপতির তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন দলের মধ্যে সবচেয়ে বিতর্কিত চন্দ্র বসু। শুধুমাত্র সহ সভাপতির তালিকতেই নয়, নতুন টিমের কোথাও খুঁজে পাওয়া যায়নি তার নাম। এসটি মোর্চার সভাপতি করা হয়েছে সদ্য সিপিএম থেকে আগত খগেন মুর্মুকে। দলের সম্পাদক পদে স্থান পেয়েছেন তৃণমূল থেকে বিধাননগরের প্রাক্তন মেয়র আগত সব্যসাচী দত্তকে। দলের সদ্য যুক্তদের যোগ্যতাকে কাজে লাগাতেই নতুনদের অগ্রাধিকার। এদিন এমনটাই জানান রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ।

অন্যদিকে, গুরুত্ব বাড়ানো হয়েছে লকেট চট্টোপাধ্যাইয়ের। মহিলা মোর্চার সভাপতি থেকে সাধারণ সম্পাদকের পদে আনা হয়েছে তাঁকে। ১২ জন সহ-সভাপতি মধ্যে আগের জায়গাতেই রয়েছেন জয়প্রকাশ মজুমদার। সাধারণ সম্পাদক থেকে উত্তীর্ণ হয়ে এই তালিকায় যুক্ত হয়েছেন প্রতাপ বন্দ্যোপাধ্যায়। সহ সভাপতির তালিকা নতুন মুখ হিসেবে যুক্ত হিসেবে হয়েছেন রিতেশ তেওয়ারি, অর্জুন সিং, ভারতী ঘোষ, সুভাষ সরকার, বিশ্বপ্রিয় রায়চৌধুরী, রাজকমল পাঠক, বাপি মিত্র, রিতেশ তেওয়ারী, অনিন্দ্য ব্যানার্জি, দীপেন প্রামানিক ও মাফুজা খাতুন।

৫ জনকে নিয়ে সাজানো হয়েছে দলের সাধারণ সম্পাদকের টিমকে। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে লকেট চট্টোপাধ্যায়কে। কিভাবে এই পদে নতুন মুখ হিসেবে রয়েছেন জ্যোতির্ময় মাহাতো। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আগের পদেই রয়ে গিয়েছেন সায়ন্তন বসু। এছাড়াও রয়েছেন সঞ্জয় সিং, রথীন্দ্রনাথ বসু। দশজনকে নিয়ে তৈরি হয়েছে সম্পাদকের টিমটি। অন্যদিকে, কিষান মোর্চা সভাপতি করা হয়েছে মহাদেব সরকারকে। এস সি মোর্চা সভাপতি হয়েছেন দুলাল বর। এস টি মোর্চা সভাপতি করা হয়েছে সিপিএম থেকে আগত খগেন মুর্মুকে। সংখ্যালঘু মোর্চার ক্ষেত্রে সভাপতি রয়ে গিয়েছেন আলী হোসেনই।

উল্লেখ্য, ১৬ জানুয়ারি দ্বিতীয় বার রাজ্য সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন দিলীপ ঘোষ। এরপরেই জানুয়ারিতেই নতুন সাংগঠনিক টিমের ঘোষণা হওয়ার কথা ছিল। যদিও দলের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন কারণে তা পিছিয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে করোনা ও লকডাউনের চক্করে নতুন টিম সাজানোর প্রক্রিয়া স্থগিত হয়ে যায়। অবশেষে চার মাস পরে এই নতুন টিমের ঘোষণা করেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি।

এই নতুন টিমকে নিয়ে চলতি সপ্তাহেই ভোট প্রচার শুরু করে দেবে রাজ্য বিজেপি। ৮ জুন হবে প্রথম সভা। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে চলবে প্রচার। এই সভায় প্রধান বক্তা থাকবেন অমিত শাহ। প্রত্যেক মিটিংয়ে এক হাজার লোক যুক্ত হতে পারবেন। তারা সরাসরি প্রশ্ন রাখতে পারেন অমিত শহর কাছে। সকাল 11 টায় শুরু হবে সভা। আগামী পাঁচ দিন ধরে চলবে এই সভাপর্ব। প্রধানমন্ত্রী বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে সরাসরি পৌঁছে দিতেই এই ভার্চুয়াল মিটিংয়ের আয়োজন বলে জানান রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here