ডেস্ক: রাজমহলের দলবদল বহু দেখেছে রাজ্য। তা সে শাসক থেকে বিরোধী দল হোক বা বিরোধী থেকে শাসকদল, দল বদলের হিড়িকে সম্প্রতি রাজ্য থেকে ফাঁকা হয়ে গিয়েছে কংগ্রেস। খাতায় কলমে না থাকলেও রাজ্যের মূল বিরোধী হিসাবে নাম উঠে এসেছে বিজেপির। সেই বিজেপি দলের সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে ২১ জুলাইয়ের মঞ্চে তৃণমূলের ঝান্ডা হাতে নিয়েছেন বিজেপির দাপুটে নেতা চন্দন মিত্র। তৃণমূলে যোগ দেওয়ার ঠিক পরেই সম্পূর্ণ আপদ মস্তক নিজেকে পাল্টে ফেললেন তিনি। একসময় যে চন্দন মিত্রকে দেখা যেত চোখা চোখা বাক্যবাণে তৃণমূলের আগাপাশতলা ধুয়ে দিতে। সেই চন্দনবাবুই এখন বলছেন মানসিকতার পরিবর্তনের অধিকার প্রত্যেকের আছে।

একটা সময়ে তৃণমূল কর্মীদের গুন্ডা নামে সম্বোধন করতেন চন্দন মিত্র। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের বিরুদ্ধে এনেছিলেন ছাপ্পা ভোটের অভিযোগ। এছাড়াও মাঝে মধ্যেই টুইটারে অতিসক্রিয় চন্দন মিত্রের কামানের গোলার মুখ সর্বদা তাক করে থাকত তৃণমূল দলের দিকে। তৃণমূল তকমাধারী হওয়ার পর, এদিন এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে চন্দনবাবু জানান, ‘৫-৬ বছর আগে আমি কি বলেছিলাম বা কি লিখেছিলাম তার এখন কী গুরুত্ব আছে? এসব আমাকে হতাশ করার চেষ্টা। হ্যাঁ আমি যখন প্রার্থী ছিলাম এবং রাজ্য বিজেপির নেতা ছিলাম, তখন কিছু মন্তব্য করেছিলাম। কিন্তু, প্রত্যেকের অধিকার আছে নিজের মানসিকতার পরিবর্তন করার।’

তবে শুধু মানসিকতার পরিবর্তন নয়, একেবারে ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে তৃণমূলের জয়গান গেয়ে এখন তাঁর বক্তব্য, ‘আমি মনে করি, রাজ্যে তৃণমূলকে ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই। এর জনপ্রিয়তা প্রতিদ্বন্দ্বীহীন। বিজেপি এখন দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ঠিকই তবে অনেক দূরবর্তী দ্বিতীয় স্থান, তাও আবার সিপিএম ভেঙে।’

উল্লেখ্য, তৃণমূলের বিরুদ্ধে বরাবরই খড়গহস্ত ছিলেন চন্দন। ২০০৩ ও ২০১৬ সাল মোট দুইবার বিজেপির তরফে রাজ্যসভায় পাঠানো হয়েছে চন্দন মিত্রকে। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির টিকিটে হুগলী থেকে নির্বাচনে লড়েছিলেন চন্দন মিত্র। তবে তৃণমূল প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন তিনি। এরপর তৃণমূলের বিরুদ্ধে আক্রম্নের তেজ আরও বাড়ে তাঁর। তবে দ্বন্দ্ব ভুলে কিছুদিন আগেই বিজেপির রাজ্যসভার পদ থেকে ইস্তফা দেন চন্দন মিত্র। ২১ জুলাইয়ের মঞ্চে যোগ দেন তৃণমূলে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here