kolkata news
Highlights

  • খোলা আকাশের নিচেই ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠ দিচ্ছেন আইসিডিএস কেন্দ্রের সহায়িকা
  • খোলা আকাশের নিচেই খাবার খাচ্ছে শিশুরা
  • গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত- বছরের ছয়টি ঋতু এই ভাবে পার করেন কেন্দ্রের দিদিমণি ও খুদে ছাত্র-ছাত্রীরা


নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া:
এ যেন রবীন্দ্রনাথের ঠাকুরের শান্তিনিকেতন। ছাতিম গাছের তলায় চলছে পঠন-পাঠন। দীর্ঘদিন ধরে খোলা আকাশের নিচে চলছে পড়াশোনা। রান্নার জায়গা বলতে পার্শ্ববর্তী সুভাষপল্লি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভাঙা অ্যাসবেস্টসের ওপর ত্রিপলের ছাওনি দেওয়া একটি চালা। চাল,ডাল-সহ রান্নার সামগ্রী রাখার নিদিষ্ট কোনও জায়গা নেই। এমন পরিবেশে দিনের পর দিন ধরে চলছে শিশুশিক্ষা কেন্দ্রটি। বারবার পঞ্চায়েত প্রধান থেকে বিডিও-র কাছে আবেদন-নিবেদন করেও কোনও লাভ হয়নি। কর্ণপাত করেননি প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা। এমনই ভাবে চলছে বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুর ব্লকের দ্বারিকা পঞ্চায়েতের সুভাষপল্লি গ্রামের আইসিডিএস কেন্দ্র।

দেখা যাচ্ছে, খোলা আকাশের নিচেই ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠ দিচ্ছেন আইসিডিএস কেন্দ্রের সহায়িকা। খোলা আকাশের নিচেই খাবার খাচ্ছে শিশুরা। গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত- বছরের ছয়টি ঋতু এই ভাবে পার করেন কেন্দ্রের দিদিমণি ও খুদে ছাত্র-ছাত্রীরা। এছাড়াও আইসিডিএস কেন্দ্রের নেই চালডাল রাখারও কোনও জায়গা। ভাঙা অ্যাসবেস্টসের ওপর ত্রিপলের ছাওনি দেওয়া একটি চালাঘরে চলছে কচিকাঁচাদের রন্ধনশালা। সেটিও আবার পার্শ্ববর্তী সুভাষপল্লি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দয়ায়। সুভাষপল্লি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের করুনায় একটি ঘরে রাখা হয় চাল, ডাল ও অন্যান্য সামগ্রী।

গ্রীষ্মকালে সুভাষপল্লি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পড়ন্ত ছায়ায় চলে পড়াশোনা। ঘাসের ওপর যে যার মত চট বা মাদুর পেতে বসে যায় পড়তে। সমস্যা বাড়ে বর্ষাকালে। সেই সময় কাঁদায় প্যাচপ্যাচে উঠোনে পড়াশোনা শিকেতে ওঠে। গড়িয়ে পড়ে বৃষ্টির জল। রান্নাবান্না চুলোয় উঠে। বর্ষায় বৃষ্টির কারণে ছাত্রছাত্রীরা আইসিডিএস কেন্দ্রে আসতে চায় না। তখন উপস্থিতির হার থাকে না বললেই চলে। আর যারা নিতান্তই নিরুপায় হয়ে আসে, তাদের না হয় পড়াশুনা না হয় খাওয়া-দাওয়া। অসুবিধায় কারণে বর্ষার ক’দিন বন্ধ থাকে পঠন-পাঠন। এভাবেই এত সমস্যা মাথায় নিয়ে আইসিডিএস কেন্দ্রটি চলছে দীর্ঘদিন ধরেই।
স্কুলছুট ও শিশুদের পুষ্টির কথা মাথায় রেখেই খোলা হয়েছিল শিশুশিক্ষা কেন্দ্রগুলি। কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য সরকার সেন্টারগুলির মানোন্নয়নের কথা আওড়ালেও বেশির ভাগ শিশুশিক্ষা কেন্দ্র খাতায়-কলমে একরকম, আদতে হাল হকিকত অন্য কথা বলে। অতি দ্রুত সমস্যার সমাধানের জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের কথা বলছেন এই আইসিডিএস সেন্টারের পড়ুয়া ও অভিভাবকরা।

আইসিডিএস কেন্দ্রের সহায়িকার দাবি, খুবই অসুবিধার মধ্যে রয়েছি। রান্নার জায়গা নেই। বসার জায়গা নেই। ফাঁকা জায়গায় ক্লাস করতে হয়। বৃষ্টি এলে খুবই অসুবিধা পড়তে হয়। এই সমস্যা নিয়ে অনেকবার বিডিও অফিসে বা পঞ্চায়েতে দরখাস্ত করেছি। চার বছর ধরে শুনছি অনুমোদন হয়ে গেছে। তবে এখনও পর্যন্ত কিছুই হচ্ছে না।
দ্রুত এই সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন স্থানীয় দ্বারিকা পঞ্চায়েতের উপপ্রধান। তার দাবি, সেন্টারটির জায়গা নিয়ে একটু সমস্যা ছিল। তা মিটে গেছে। খুব দ্রুততার সঙ্গে এবার শিশুশিক্ষা কেন্দ্রটির নির্মাণ কাজ শুরু হবে।
আশ্বসই সার না সত্যি শুরু হবে আইসিডিএস কেন্দ্রের নির্মাণ কাজ, তা বলবে সময়ই। কবে নাগাদ ছেলেমেয়েরা সুস্থ পরিবেশে পড়াশোনা করতে পারবে। আর কতদিন শিশুদের বর্ষার বৃষ্টি ও শৈত্যপ্রবাহ মাথায় নিয়ে ক্লাস করতে হবে- সে প্রশ্নের জবাব সময়ই দেবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here