kolkata bengali news

নিজস্ব প্রতিবেদক, হলদিয়া: পূর্ব মেদিনীপুরে ফের আক্রান্ত পুলিশ। ক্লাবের বেপরোয়া সদস্যরা চড়াও হয় পুলিশের ওপর। উচ্চ স্বরে মাইক বাজানো বন্ধ করতে গিয়ে এমনই ঘটনার শিকার আইন রক্ষকরা। হলদিয়ার দুর্গাচক থানার বাসুদেবপুর গ্রামের এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে এলাকা জুড়ে। পুলিশ নিরুপায় কেন সে নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।

মঙ্গলবার রাতে বাসুদেবপুরে ১০০ মিটারের মধ্যে দুটি ক্লাব জলসার আয়োজন করে। লক্ষ্মীপুজো উপলক্ষেই অনুষ্ঠান। প্রচন্ড জোরে মাইক বাজিয়ে জলসা হওয়ায় স্থানীয়রা থানায় অভিযোগ জানায়। দুর্গাচক থানা থেকে বারবার নিষেধ করা হলেও মাইক বন্ধ বা শব্দ না কমালে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। আইন রক্ষকেরা কিছু করে ওঠার আগেই দুই ক্লাবের উন্মত্ত সদস্যরা পুলিশের ওপর চড়াও হয়। মারধর করে বলেও অভিযোগ। থানা সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনায় চারজন পুলিশ কর্মী আহত হয়েছে। আয়োজকদের পাল্টা অভিযোগ, গ্রামে পুলিশ এসে তল্লাশির নাম করে বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর চালায় এবং নির্দোষীদের তুলে নিয়ে যায়। ক্লাবের অনুষ্ঠান বন্ধ করতে এসে এই ভাবে বাড়িতে চড়াও হওয়া গ্রামবাসীরা মেনে নিতে পারেনি। তাই এই ঘটনা। অভিযোগ আর তার পাল্টা দোষারোপ এবং ওইদিনের ঘটনায় উত্তপ্ত হলদিয়ার বাসুদেবপুর গ্রাম।

পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, তীব্র স্বরে মাইক বাজানোর জন্য গ্রামবাসীরা দুই ক্লাবের নামে অভিযোগ করে। বারবার দুই ক্লাবের সদস্যদের মাইকের শব্দ কমানোর জন্য ব্লা হয়েছিল। তা না শোনায় পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শব্দ কিমি. করতে বলে এবং রাত হলে মাইক বন্ধ করার অনুরোধ করে। আর তখনই পুলিশ কর্মীদের ওপর চড়াও হয় ক্লাবের উল্লসিত সদস্যরা। ঘটনায় অভিজিৎ জানা, মৃনাল দাস উকিল, শুভঙ্কর দাস, রাজু কুন্ডু নামে চার পুলিশ কর্মী আহত হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। এই ঘটনার পর জয়দেব দিন্ডা, শুভেন্দু মাইতি, রবীন্দ্র সামন্ত, বনমালী দন্ডপাট, শ্রীমন্ত আদককে দুর্গাচক থানার পুলিশ গ্রেপ্তার করে।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালে ৩ মার্চ পূর্ব মেদিনীপুরের এগরা এলাকাও মাইক বাজানো নিয়ে উত্তপ্ত হয়। অনুষ্ঠান আয়োজক- পুলিশ বিবাদে ছড়িয়ে পড়ে চাঞ্চল্য। কী হয়েছিল? শব্দবাজি ও জোরে মাইক বাজানোর অভিযোগ পেয়ে পুলিশ শব্দবাজি বন্ধ করতে বলে। পাশাপাশি নির্দিষ্ট শব্দে মাইক বাজাতে উদ্যোক্তাদের অনুরোধ করে। রাত হলে মাইক বন্ধ করার কথা বলা হয়। এনিয়েই আয়োজক ও পুলিশের মধ্যে বিবাদ হয়। ঠিক তারপরের দিন ভোরে এগরা এসডিপিও’র কোয়ার্টার ও অফিসে গিয়ে হামলা চালায় উন্মত্ত অনুষ্ঠান উদ্যক্তারা। তৎকালীন এস ডি পি ও মনোরঞ্জন ঘোষের কোয়ার্টারে তখন স্ত্রী ও ছোট মেয়ে। ক্ষুব্ধ আয়োজকরা লাঠি, বাঁশ, রড নিয়ে আক্রমণ করে ভাঙচুর চালাতে শুরু করে। অবস্থা নিয়ন্ত্রণে আনতে ওই পুলিশ অফিসার নিরাপদ দূরত্বে গুলি চালান। এতে পিছু হঠে পুজো আয়োজকরা। কিন্তু তারা অভিযোগ করে, ওই পুলিশ অফিসার মদ্যপ অবস্থায় এলোপাথাড়ি গুলি করতে থাকেন বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে। পুলিশ অফিসার জানিয়েছিলেন, মিথ্যে অভিযোগ করা হচ্ছে। মেডিক্যাল টেস্ট করলে প্রমাণ হবে তিনি মদ্যপ ছিলেন না। ঊর্ধ্বতন আধিকারিকদের তিনি জানান, সরকারি সম্পত্তি, স্ত্রী, মেয়ে ও আত্মরক্ষার জন্যই তিনি সজ্ঞানে নিরাপদ দূরত্বে গুলি ছুঁড়েছিলেন। তাতে কেউ আহত হয়নি এবং বিক্ষোভকারীরা পিছু হঠতে বাধ্য হয়। বাধ্য হয়ে এই পদক্ষেপ না নিলে বড় ধরণের দুর্ঘটনা হতে পারত।

২০১৯ সালে পূর্ব মেদিনীপুরে চারজন পুলিশ কর্মীর ওপর ক্লাব সদস্যদের চড়াও হওয়ার ফলে জখম হওয়ার ঘটনা ও তার ৩ বছর আগে উন্মত্ত আয়োজকদের পিছু হঠার ঘটনা ঠিক উল্টো। ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হলেও ফল হল উল্টো। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক পুলিশ আধিকারিক বলেন, ‘পুলিশের হাতে বন্দুক থাকলেও বাস্তবে তা কাজে লাগাতে দেওয়া হয় না। উল্টে মার খেতে হয়। প্রতিবাদ করলেই চুপ করিয়ে দেওয়া হয় বা বদলি! একমাত্র মনোরঞ্জন পেরেছিলেন। সবাই মনো স্যার হন না’। সকলকে ওনার মত সাহসী হতে হবে। আমরা আইন বিরুদ্ধ কাজ করি না। আইন রক্ষক আমরা। তা ভুলে গেলে চলবে না।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here