নিজস্ব প্রতিবেদক, সিউড়ি: এলাকার অর্থনীতি দাঁড়িয়ে আছে পাথর শিল্পের ওপর। তাতে কাজ করা সিংহভাগ শ্রমিকেরা এলাকার তপশিলি জাতি, তপশিলী উপজাতি এবং সংখ্যালঘু সমাজের মানুষ। বাড়ির পুরুষ-নারী সকলেই এই পাথর শিল্পের সঙ্গে জড়িত। সকাল হলেই তারা সকলে বেড়িয়ে যান পাথর খাদানে। তাই ঘরেতে থাকা ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনার ব্যাপারে অভিভাবকদের নজর থাকে না। আর তার জেরেই এলাকার স্কুলগুলিতে বাড়ছিল স্কুলছুটের সংখ্যা। সব মিলিয়ে এ সব কিছুর ছাপ পড়তে শুরু করে এলাকার আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে। তাই পরিস্থির মোড় ঘোরাতে উদ্যোগী হতে হল স্থানীয় প্রশাসনকেই। তাদের হাত ধরেই জন্ম হল ‘আলোর পথে’। সেই সংগঠনের মূল লক্ষ্যই হল বীরভূম জেলার সিউড়ি সদর মহকুমার মুহাম্মদবাজার ব্লকের ভাঁড়কাটা ও হিংলো গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় স্কুলছুট পড়ুয়াদের ফের স্কুলের পথে ফেরানো।

বুধবার মুহাম্মদবাজার ব্লকের ভাঁড়কাটা এনামল হক মল্লিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই ‘আলোর পথে’ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলেন সদর মহকুমা শাসক রাজীব মন্ডল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সর্বশিক্ষা মিশনের আধিকারিক, জেলা প্রকল্প আধিকারিক, স্থানীয় বিডিও, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি, গ্রামপঞ্চায়েতের প্রধান সহ স্থানীয় ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকেরা। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে প্রতিটি স্কুলে বিভিন্ন ধরনের সরকারী সুযোগ সুবিধা থাকা সত্ত্বেও প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে বেশ কিছু স্কুলে স্কুলছুটের সংখ্যা বাড়ছে। ওই এলাকার এলাকার আর্থসামাজিক কারণেই স্কুলগুলিতে স্কুলছুটের সংখ্যা বাড়ছে। জেলা শিক্ষা দপ্তরের মুহাম্মদবাজার নতুন চক্রের ভাড়কাঁটা গ্রাম পঞ্চায়েত এবং হিংলো গ্রাম পঞ্চায়েতের ২১টি স্কুলকে বেছে নেওয়া হয়েছে ‘আলোর পথে’ প্রকল্পের জন্য। জেলা শিক্ষা দপ্তরের উদ্যোগে স্কুলছুট পড়ুয়া আর তাদের বাবা-মাকে বোঝানো হচ্ছে যাতে স্কুলছুট ছেলেমেয়েদের ফের স্কুলে ফেরানো যায় ও তারা যেন প্রতিদিন স্কুলে আসে।

বুধবারের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসা সিউড়ির মহকুমা শাসক রাজীব মন্ডল বলেন,’বীরভূম জেলাশাসকের মস্তিষ্কপ্রসূত এই প্রকল্প। স্কুল ছুট কমাতে তিনি নিজে উদ্যোগী হয়ে এ প্রকল্পের কাজ শুরু করেছেন। এলাকার ওই স্কুলগুলিতে পঠন-পাঠনের অভিনবত্ব আনা হচ্ছে। ডিজিটাল ক্লাসরুম করা হচ্ছে, খেলাধুলার সাজ সরঞ্জাম দেওয়া হচ্ছে ওই স্কুলগুলিকে। পাশাপাশি আনন্দ পাঠশালা করা হয়েছে যেখানে প্রতি মাসে একদিন করে প্রত্যেক ছাত্র-ছাত্রীদের অভিবাবকরা স্কুলে আসবেন। তারা আমাদের সঙ্গে পঠন-পাঠন সহ তাদের ছেলেমেয়েদের বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করবেন।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here