#ProtectPriyaSaha

বিশেষ প্রতিবেদক: একমিনিটেরও কম সময়। তারই মধ্যে এলেন, বললেন, ঝড় তুললেন প্রিয়া সাহা। মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে সাক্ষাৎ করে প্রিয়া তুলে ধরেন বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের খণ্ডচিত্র। তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৩ কোটি ৭০ লক্ষ হিন্দু নিখোঁজ হয়ে গিয়েছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘ওরা আমাদের ঘর জ্বালিয়ে দিয়েছে, ন্যায়বিচার কেড়ে নিয়েছে, রাজনৈতিক দলগুলো ওদের আশ্রয় দিচ্ছে।’ ট্রাম্প যখন প্রশ্ন করেন, ‘কারা জ্বালিয়ে দিচ্ছে? কারা কেড়ে নিচ্ছে?’ প্রিয়া সাহা নিঃসঙ্কোচে উত্তর দেন, বাংলাদেশের ইসলামী উগ্রবাদীরা। এখনও সেই ভিডিয়ো না দেখে থাকলে দেখে নিন এখান থেকে–


এতেই ঘটে যায় বিরাট এক অঘটন। প্রতিবেশী রাষ্ট্রে দীর্ঘদিনের চেপে রাখা সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঐতিহ্য একমুহূর্তে ফাঁস হয়ে যায় গোটা বিশ্বের কাছে। যে কথা লিখে দেশছাড়া হতে হয়েছিল তসলিমা নাসরিন, সালাম আজাদকে, প্রকাশ্যে চাপাতির কোপ খেয়েছিলেন হুমায়ুন আজাদ; ঘুরেফিরে সেই কথাগুলোই আজ আবার বিশ্ব আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। সৌজন্যে সামাজিক মাধ্যম ট্যুইটার। প্রিয়ার বক্তব্যের ভিডিয়ো ভাইরাল হওয়া শুরু হতেই পরিস্থিতি সামাল দিতে সক্রিয় হয়ে ওঠে বাংলাদেশের উগ্রবাদী শক্তিগুলি। ক্রমাগত ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উল্লেখ করে তারা ট্যুইট ছড়াতে থাকে, প্রিয়া সাহার বয়ান সম্পূর্ন মিথ্যা। বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ম্লান করতে সমস্তটাই পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। কোনও কোনও মহল থেকে এমন দাবিও করা হয় যে, প্রিয়া সাহার বক্তব্য খারিজ করে বিবৃতি দিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত। পরে জানা যায় যে, রাষ্ট্রদূত এমন কোনও বিবৃতি আদৌ দেননি।

#ProtectPriyaSahaপ্রশ্ন উঠতেই পারে, যে ভূখণ্ডে ৭০ বছর আগেও সংখ্যালঘুরা ছিলেন জনসংখ্যার প্রায় ৩১ শতাংশ, কী এমন হল যে, মাত্র কয়েক দশকেই তারা ৮ শতাংশেরও কমে নেমে এলেন? তাছাড়া বাংলাদেশের বিশিষ্ট গবেষক আবুল বারাকাত তাঁর দীর্ঘ গবেষণার ফলে দেখিয়েছেন, বাংলাদেশ থেকে প্রতিদিন গড়ে দেশত্যাগ করছেন ৬৩২ জন সংখ্যালঘু। প্রিয়া সাহার ট্রাম্পকে দেওয়া পরিসংখ্যানটিও বারাকাত-এর গবেষণা থেকেই নেওয়া বলে বিশিষ্টজনেরা মতামত দিয়েছেন। কয়েক বছর আগেই মার্কিন সিনেটে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু নির্যাতন বিষয়ে একটি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, যাতে তথ্যপ্রমাণ পেশ করা হয় যে, বাংলাদেশ থেকে সর্বমোট ৪ কোটি ৯০ লক্ষ হিন্দু নিখোঁজ হয়েছেন। যারা প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার এবং বাড়িয়ে বলার অভিযোগ করছেন, তারা অবশ্য মার্কিন সিনেটের এই আলোচনার ব্যাপারে অদ্ভুত নীরবতা পালন করছেন।

#ProtectPriyaSahaবাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরও প্রিয়া সাহার অভিযোগকে ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়ে দাবি করেন, দেশে ফিরলে এর জবাবদিহি করতে হবে প্রিয়া সাহাকে। তাঁর নামে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলাও দায়ের করা হতে পারে বলে ঘোষণা করেছেন তিনি। ব্যারিস্টার সৈয়দ সুমন নিজে বাদী হয়ে প্রিয়া সাহার নামে দেশদ্রোহের মামলা রুজু করার উদ্যোগ নিলে বাংলাদেশে প্রিয়া সাহার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন উঠে যায়। শুধু মামলাই নয়, তাঁর নামে ফতোয়াও জারি হয়েছে বলে খবর পাওয়া গিয়েছে। এত ফতোয়া এবং মামলার বোঝা মাথায় নিয়ে আদৌ তিনি আর দেশে ফিরতে পারবেন কি না সেটা নিয়েও সন্দেহের অবকাশ রয়েছে। এরপরেই প্রিয়া সাহার সমর্থনে জ্বলে ওঠে ট্যুইটার। প্রিয়ার কথা যে একবর্ণও মিথ্যে নয়, সেটা প্রমাণ করতে, #WeSupportPriyaSahaRigorously হ্যাশট্যাগ লিখে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তাঁর ট্যুইট ঠিকানা @realDonaldTrump-এ উল্লেখ করে আসতে থাকে একের পর এক ট্যুইট।

#ProtectPriyaSahaশুধুমাত্র ভারত-বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের প্রতিটি কোনা থেকে আসতে শুরু করে ট্যুইটের বন্যা। ফলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ট্যুইটারের অন্যতম আলোচ্য বিষয় হয়ে ওঠে #WeSupportPriyaSahaRigorously হ্যাশট্যাগটি। প্রিয়া সাহার নিরাপত্তা দাবি করে #ProtectPriyaSaha নামেও হ্যাশট্যাগ আসতে থাকে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ট্যুইটার অ্যাকাউন্টে জমা পড়তে থাকে প্রিয়া-কে রক্ষা করার অনুরোধ। প্রিয়া সাহার বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে ট্যুইট করেন বিশিষ্ট সাংবাদিক ও সমাজকর্মী তরুণ বিজয়, মেঘালয়ের রাজ্যপাল তথাগত রায় প্রমুখ। ট্যুইটারে প্রিয়া সাহার বিষয়ে ট্যুইট সংখ্যা ২ লক্ষ ছাড়িয়ে গিয়েছে। ট্যুইট করেছেন বাংলাদেশের নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিনও। বিশ্বের নানান প্রান্ত থেকে ট্যুইট করছেন মানুষ।

#ProtectPriyaSahaসকলেই প্রশ্ন করেন, যে তথ্য আবুল বারাকাত লিখেছেন, মার্কিন সিনেটে আলোচনা হয়েছে, সেই তথ্য ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দিয়ে কি ভুল করেছেন প্রিয়া সাহা? কয়েকমাস আগেই প্রিয়া সাহার বাপের বাড়ি পুড়িয়ে ছাই করে দেয় ধর্মীয় উগ্রবাদী জনতা। তার প্রতিবাদে রাস্তায় মানববন্ধন করা হলেও সুবিচার পায়নি প্রিয়ার পরিবার। ছবিসহ সেই সব তথ্যও উঠে আসে ট্যুইট আলোচনায়। কিন্তু এর জন্য তাঁর নামে মামলা, ফতোয়া, হুমকি, ধমকি কি প্রিয়া সাহার অভিযোগের সত্যতাই প্রমাণ করে দিচ্ছে না? বাংলাদেশের সরকারি দপ্তরে একটি উচ্চপদে কর্মরত আছেন প্রিয়া সাহার স্বামী। স্ত্রীর বক্তব্যের ফলে তাদের পরিবারেরও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। এমতাবস্থায় হাসিনা সরকারের উচিত তাঁদের অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা। কিন্তু তার ব্যবস্থা না করে, যেভাবে চাপ দিয়ে, ভীতিপ্রদর্শন করা হচ্ছে প্রিয়ার ওপর, তাতে করে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের বাকস্বাধীনতার হরণের অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে। গোটা বিশ্বের নজর এখন বাংলাদেশের ওপর। অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগের এই বিপুল চাপ কীভাবে সামলায় বাংলাদেশ, সেটাই এখন দেখার।

তথ্যসূত্র:-
১) https://www.kalerkantho.com/online/national/2019/07/20/793676?fbclid=IwAR3HDw4bSEGLmGy3BBHLV_TAxh0D6az3o3r9O6FeF8Fl210o0x3A-irv-bE
২) https://m.rtvonline.com/bangladesh/71640/সেই-প্রিয়া-সাহার-বিরুদ্ধে-রাষ্ট্রদ্রোহ-মামলা-করবেন-ব্যারিস্টার-সুমন-(ভিডিও)
৩) https://www.google.com/amp/s/www.ntvbd.com/bangladesh/262355/
৪) https://www.dhakatribune.com/bangladesh/dhaka/2019/07/20/quader-priya-saha-to-be-sued-for-sedition
৫) https://www.youtube.com/watch?v=RUkCKTZL1h4
৬)https://www.youtube.com/watchv=LQOghIetg3Q&fbclid=IwAR3BvoTMLyPOXoopyQD20qwaHqI_mIjm5ehGNSrBCKowb9ooKD_X0nsxPP0&app=desktop
৭) তথাগত রায়ের ট্যুইট- https://twitter.com/tathagata2/status/1152471512969969665
৮) তরুণ বিজয়ের ট্যুইট- https://twitter.com/Tarunvijay/status/1152629099992502272
৯) তসলিমা নাসরিনের ট্যুইট- https://mobile.twitter.com/taslimanasreen/status/1152779095643545601

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here