news bengali kolkata

নিসর্গ নির্যাস: বসন্তের আমেজও জারি থাকল প্রতিবাদ। আবির মেখে এনআরসি-সিএএ বিরোধী প্রতিবাদ হয়ে উঠল আরও রঙিন। রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে বসন্ত উৎসবে মেতেছিল সকলেই। নাচ-গান-নাটকে ঋতুরাজ বসন্তের আরাধনায় মজেছিল সকলে। আবার বহিরাগত ছাত্র-ছাত্রীদের বুকে-পিঠে গালিগালাজ লেখা বা বিতর্কিত প্যারোডি আর সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নাচে নিন্দার ঝড় বয়ে গিয়েছে রাজ্য জুড়ে। সমালোচনার ঝড় উঠতেই সিঁথি থানায় অভিযোগ দায়ের করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আটক করা হয় ৫ অভিযুক্তকে। তাঁরা ক্ষমাও চেয়েছে। সেই সব ভাইরাল।

ভাইরাল হওয়া এই ঘটনার দিনেই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে লাল-সবুজ আবির মেখেই এনআরসি-সিএএ-র বিরোধিতা করল কয়েকজন। তবে তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাকি বহিরাগত তা জানা যায়নি। এক যুবকের পাঞ্জাবীর পেছনে লেখা ‘নো এনআরসি, নো সিএএ’। এভাবেই নিঃশব্দে প্রতিবাদ করলেন যুবক। অথচ তা ভাইরাল হল কই! অনেকের মতে, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ঢুকে শরীরে এভাবে গালিগালাজ দেওয়া বিকৃত গানের লাইন লিখে নিন্দার ঝড় উঠবে জানত তারাই। তবু এভাবেই ভাইরাল হতে চেয়েছিল। আর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে হচ্ছেও তাই।

বিশ্বকবির নামাঙ্কিত বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর গানেরই বিকৃতিতে মেতে উঠেছে কয়েকজন। অথচ তাদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আশেপাশে দেখাও যায়নি। অভিযোগ, বসন্ত উৎসবের নামে হুজুগে বেলেল্লাপনা করতে গিয়েছিল। সেইদিকে জাতীয় নাগরিকত্ব সংশোধন আইনের বিরুদ্ধে এই নীরব প্রতিবাদ উল্লেখযোগ্য। একাংশের অবশ্য দাবি, নিখাদ বসন্ত উৎসবে যোগ দিলেই হতো। প্রতিবাদ করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অনুষ্ঠানকেই বেছে নিতে হবে কেন? এই প্রসঙ্গে নাট্যকার ঈশিতা বলেন, সাধারণ মানুষ হোক বা শিল্পী তিনি প্রত্যক্ষ রাজনীতি করুন বা না করুন সকলেরই উচিত রাজনীতি সচেতন হওয়া। আর এই প্রতিবাদে কোনও সংস্কৃতি বিঘ্নিত হয়নি। বরং দেশের অখণ্ডতার জন্যই নীরব প্রতিবাদ। তা নিঃসন্দেহে সমর্থনযোগ্য।

এর আগে বিয়ে বা জন্মদিনের অনুষ্ঠানে দেখা গিয়েছে এনআরসি, সিএএর বিরোধিতা, সমর্থন দুইই। এবার বসন্ত উৎসবেও দেখা গেল এনআরসি প্রসঙ্গ। যদিও এই ছবি রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের কিনা তার সত্যতা যাচাই করেনি মহানগর ২৪x৭ ডট কম নিউজ পোর্টাল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here