gita

শ্যামলেশ ঘোষ: আমরা এমন একটা সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, যখন নাগরিকের কথা বলার অধিকার খর্ব হচ্ছে। বিত্তশালী ও ক্ষমতাবানদের হাতে পরিবেশ লাঞ্ছিত হচ্ছে। ধ্বংস হচ্ছে প্রকৃতি ও মানবতা। কালজয়ী রূপক-সাংকেতিক নাটক রক্তকরবীতে এই চিন্তারই প্রকাশ করেছিলেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। সেই রক্তকরবী একক অভিনয়ে তুলে আনতে চলেছেন দেশের বিশিষ্ট থিয়েটারকর্মী গীতা গুহ। কলকাতা সহ দেশের বিভিন্ন অংশে এবং বিদেশের মাটিতে সময়োপযোগী এই পরিবেশনার দায় নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন অভিনেত্রী। আর এই কাজের বিপুল ব্যয়ভার সামলাতে তহবিল সংগ্রহের চেষ্টা করছেন তিনি। তাঁর জন্য দেশের ক্রাউডফান্ডিং ওয়েবসাইট কেট্টো-র দ্বারস্থ হয়েছেন অনুগামীরা।

কে এই গীতা? বাংলার মেয়ে গীতা দিল্লির ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামা (এনএসডি) থেকে স্নাতক এবং একজন নিয়মিত মঞ্চাভিনেত্রী তিনি। অভিনেতা হিসাবে ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামা রেপার্টরিতেও ছিলেন। আন্তর্জাতিক মঞ্চেও সাফল্যের সঙ্গে কাজ করেছেন। ২০০৫-এ সালে তিনি জার্মানির ডসেলডর্ফ-এর ফোরাম ফ্রেইস থিয়েটারেও নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করেছেন। ছিলেন কিংডম অব ড্রিমসের মতো বড়মাপের মিউজিকাল শো-্এ অন্যতম বিশিষ্ট অভিনেতা হিসেবে। কাজ করেছেন ইউনাইটেড কিংডমের নেহরু সেন্টার এবং নর্ডেন সেন্টার ফর আর্টস-এও। মুম্বইতে থিয়েটারের পাশাপাশি চলচ্চিত্র, টেলিভিশন এবং ওয়েব সিরিজেও কাজ করেছেন গীতা। তাঁর নির্দেশনায় রবি ঠাকুরের ‘স্ত্রীরপত্র’ অবলম্বনে ‘পত্নী কা পত্র’ বিবিধ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উৎসবে আমন্ত্রিত হয়েছে।

এবার ‘রক্তকরবী আ মনোলগ’। একা একা কথা বলবে এই নাটকের চরিত্র নন্দিনী। এই প্রযোজনা নির্মাণের জন্যই অনুদান যোগাড় করতে চাইছেন তাঁরা। একটি বিশ্বমানের প্রযোজনা নির্মাণে কলাকুশলীদের দীর্ঘ শ্রম-পরিশ্রম এবং সময় ব্যয় হয়। পাশাপাশি বিপুল নির্মাণখরচের বিষয়টিও রয়েছে। নাট্যের মহড়ার জন্য জায়গা ও সাউন্ড স্টুডিয়ো ভাড়ার খরচ, পেশাদার সাউন্ড এবং আলোশিল্পীদের সম্মানী ইত্যাদিও থাকে। এই প্রযোজনা নির্মাণের খরচ হিসেবে দেড় লক্ষ টাকা যোগাড় করতেই ফান্ডরাইজিংয়ের আয়োজন। (আগ্রহীদের জন্য Ketto-র লিঙ্ক দেওয়া হল।) অতিথি হিসেবে অনুদানকারীদের প্রযোজনাটি দেখার সুযোগ রয়েছে। এই ‘রক্তকরবী আ মনোলগ’ নাট্যের সঙ্গীতায়োজন মালিনী সেনগুপ্তের, কোরিয়োগ্রাফি বিক্রম মোহনের এবং ডিজাইন অবন্তী চক্রবর্তীর। নন্দিনীর ভূমিকায় গীতা গুহ।

অভিনেত্রী গীতা গুহ বলেছেন, রক্তকরবীর নন্দিনী বিশ্বকবির অন্যতম সেরা নারীচরিত্র। সেই চরিত্রকে রূপ দিতে যাচ্ছি আমি। বিশ্বজুড়ে মানুষের সীমাহীন লোভ কীভাবে জীবনের বা প্রকৃতিকে নষ্ট করছে। তার সহজ সৌন্দর্য ও স্বাভাবিকতাকে অস্বীকার করে মানুষকে নিছক যন্ত্র ও উৎপাদনের প্রয়োজনীয় উপকরণে পরিণত করছে। রক্তকরবী নাটকেও রাজার দুর্দম লোভের আগুনে পুড়ে মরে প্রজারা। মানুষ হিসেবে তাদের কোনও মূল্য থাকে না, মনুষ্যত্ব ও মানবতার চরম লাঞ্ছনার প্রকাশ ঘটে। তেমনই বর্তমান বিশ্বের শাসকরা জীবন ও প্রকৃতিকে ধ্বংস করতে, নিয়ন্ত্রণ করতে তৎপর। তারা ভালবাসার মানে এবং অপ্রতিরোধ্য শক্তি বুঝতে অক্ষম। আমাদের দেশে দেখুন। আমাজন বৃষ্টি অরণ্যের দিকে তাকিয়ে দেখুন। আজকের ‘যক্ষপুরী’তে নন্দিনীরা তাই প্রেম ও সৌন্দর্যের প্রতীক হয়ে, তারুণ্যের খোলাহাওয়া হয়ে নেমে আসুক।।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here