kolkata bengali news, district news

জেলা ডেস্ক: কলকাতার লেক টাউনে বিজেপি রাজ্য সভাপতি তথা সাংসদ দিলীপ ঘোষের ওপর হামলার ঘটনায় রাজ্য জুড়ে প্রতিবাদ বিক্ষোভ কর্মসূচিতে নামল বিজেপি৷ শুক্রবার বিকেলে পূর্ব মেদিনীপুরের এগরা মির্জাপুরে বাসস্ট্যাণ্ডের কাছে বিজেপি সর্মথকরা রাস্তা অবরোধ করে। এর জেরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে রাস্তা। এক ঘন্টা অবরোধ চলার পর অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। এদিন চায় পে চর্চায় লেকটাউনে দিলীপ ঘোষের ওপর যে আক্রমণ হয়েছিল তারই প্রতিবাদে হাওড়া ময়দানেও বিজেপির ঘণ্টাখানেকের অবরোধ দেখা গেল৷ যে কারণে বিশাল যানজটের সৃষ্টি হয়৷ পাশাপাশি দুর্গাপুরের ভরিঙ্গী এলাকাতেও বিজেপি কর্মীদের বিক্ষোভ দেখা যায়৷ বিজেপি যুব মোর্চার পক্ষ থেকে ভিরিঙ্গী দুনম্বর জাতীয় সড়কে প্রায় ৩০ মিনিট রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায় ভারতীয় জনতা পার্টির যুব মোর্চা কর্মী-সমর্থকরা৷ পরবর্তীকালে পুলিশ এসে অবরোধ তুলে দেয় এবং দুনম্বর জাতীয় সড়কে যানচলাচল পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়৷

উল্লেখ্য, তৃণমূলের ‘দিদিকে বলো’র পাল্টা বিজেপির হয়ে ‘চায় পে চর্চা’ শুরু করেন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। সেই উদ্দেশ্যে নিজের লোকসভা কেন্দ্র পশ্চিম মেদিনীপুর সহ অন্যান্য জেলায় চা চক্রে বসেছেন তিনি। শুক্রবার উত্তর কলকাতার লেকটাউনে চা সহ আলাপ-আলোচনার আড্ডায় বসতে গিয়ে ঘটে বিপত্তি। সাত সকালে রণক্ষেত্রের আকার নেয় লেকটাউনের দক্ষিণদাঁড়ি এলাকা। তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে বিজেপির এই কর্মসূচি চলাকালীন হামলার অভিযোগ উঠেছে।

শুধু তাই নয়, স্থানীয় কাউন্সিলরও নাকি বিজেপি রাজ্য সভাপতির ওপর হামলা চালানোর চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ। বিজেপি সূত্রে দাবি করা হয়, এদিন লেকটাউনে দিলীপের ‘চায় পে চর্চা’ চলার সময় আচমকা প্রায় ২৫০ জন দুষ্কৃতী হামলা চালায় বিজেপি কর্মিদের ওপর। বিজেপির দলীয় পতাকা, ফ্লেক্স ছিঁড়ে ফেলা হয় বলে অভিযোগ। হামলার ঘটনায় বিজেপির দুই কর্মী গুরুতরভাবে জখম হয়েছেন। তাদের মাথায় চোট লেগেছে বলে জানা গিয়েছে। গোটা ঘটনায় পুলিশও নিষ্ক্রিয় থেকে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে বলে অভিযোগ।

কিন্তু ঠিক কী কারণে সাত সকালে উত্তপ্ত হয়ে উঠল পরিস্থিতি? স্থানীয় সূত্রে খবর, এদিন সকালে দিলীপ ঘোষ এলাকায় ঢুকতেই তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখানো শুরু করে তৃণমূল। এরপর ক্রমেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে থাকে। ‘দিলীপ ঘোষ গো ব্যাক’ স্লোগানও উঠতে থাকে। হাতাহাতি থেকে শুরু করে মারপিট অব্দি গড়ায় পরিস্থিতি। যদিও এই বিক্ষোভ সত্ত্বেও এলাকায় বসে চা খান দিলীপ। একইসঙ্গে বলেন, ‘এটা আমার কাছে নতুন নয়। আমি যেখানেই যাই তৃণমূল এভাবেই প্রচার দিয়ে থাকে আমাকে। সুতরাং টিএমসি যে ভয় পেয়েছে তা স্পষ্ট।’

অন্যদিকে এলাকার তৃণমূল বিধায়ক সুজিত বসু নিজের প্রতিক্রিয়া দিয়ে বলেন, ‘চা খাবার জায়গা প্রচুর রয়েছে। সেখানে গিয়ে ওনারা চা খান। জায়গাটা আসলে ভুল বেছে ফেলেছিলেন। যেখানে ওনারা এসেছিলেন সেটা দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের জায়গা। অন্য কোথাও গিয়ে চা খেলে কোনও ক্ষতি নেই।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here