sudip biswas

Highlights

  • একবছর আগে আজকের দিনেই এসেছিল চরম দুঃসংবাদ
  • গত বছর আজকের দিনই পুলওয়ামা কাণ্ডে মৃত্যু হয়েছে একমাত্র ছেলে সুদীপ বিশ্বাসের
  • সেদিন মাঠে কর্মরত বাবাকে তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরে খাওয়া-দাওয়া করে নিতে বলেছিল সুদীপ

নিজস্ব প্রতিবেদক, নদিয়া ও উলুবেড়িয়া: একবছর আগে আজকের দিনেই এসেছিল চরম দুঃসংবাদ। গত বছর আজকের দিনই পুলওয়ামা কাণ্ডে মৃত্যু হয়েছে একমাত্র ছেলে সুদীপ বিশ্বাসের। সেই থেকে চোখের জলই সম্বল নদিয়ার পলাসিপাড়া হাঁসপুকুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা সুদীপের বাবা সন্ন্যাসী বিশ্বাস ও তাঁর স্ত্রীর। পেশায় কৃষক সন্ন্যাসীবাবুর সঙ্গে দুর্ঘটনার একদিন আগেও ফোনে কথা হয় সুদীপবাবুর।

সেদিন মাঠে কর্মরত বাবাকে তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরে খাওয়া-দাওয়া করে নিতে বলেছিল সুদীপ। ছেলের শেষ বলা সেই কথাটি আজও কানে বাজে বাবার। ছেলের ছবির দিকে তাকিয়ে চোখের জল মুছতে মুছতে সন্ন্যাসীবাবু বলেন, দেশের জন্য কাজ করতে গিয়ে ছেলে শহীদ হয়েছে, তবে ঘটনার পর থেকে সিআরপিএফ-এর তরফ থেকে প্রতি মাসেই এক-দু’বার করে খোঁজ নেয়। নিহত সিআরপিএফ জওয়ান সুদীপ বিশ্বাসের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ ১৪ই ফেব্রুয়ারি নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে হাঁসপুকুরিয়া এলাকায়। পাশাপাশি তাঁর স্মৃতিকে অমলিন রাখতে এলাকায় তিনটি মূর্তি বসানোরও পরিকল্পনা করা হয়েছে।

একই দিনে জঙ্গিদের আত্মঘাতী হামলায় প্রাণ হারানো বাংলার আরেক সন্তান বাবলু সাঁতরার স্মৃতির উদ্দেশ্যেও এদিন উলুবেড়িয়া পৌরসভার উদ্যোগে চেঙ্গাইল চককাশীতে ফুটবল টুর্নামেণ্টের আয়োজন হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাংসদ সাজদা আহমেদ, বিধায়ক পুলক রায়, বিধায়ক ইদ্রিস আলী। এছাড়া সকাল থেকেই শহীদ বাবলু সাঁতরার মূর্তিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা কর্মী থেকে সাধারণ মানুষ ফুলের মালা দিয়ে স্মরণ করেন। বাবলুর স্মরণে ইতিমধ্যেই এলাকায় তার মূর্তি বসানো হয়েছে এক মন্দির কমিটি ও বাবলুর পরিবারের উদ্যোগে।

কিন্তু পরিবারে এক শূন্যতা সমসময় রয়ে গেছে। বাবলুর স্মৃতিচিহ্ন তাদের কাছে আজও অমলিন পরিবারে। বাবলুর মা বনমালা দেবী বললেন, প্রতিবার বাড়িতে এসে কোনও না কোনও কাজ করতেন বাবলু সাঁতরা। নিজে হাতে তৈরি করেছিলেন বাড়ির উঠোনের ঢালাই। বাড়ির ছোট খাটো সব কাজেই রয়েছে বাবলুর হাতের ছোঁয়া। যেদিকে তাকিয়ে সেদিকেই যেন বাবলুকে আজও দেখতে পাই। বাড়িতে এসে কাটারি, শাবল, কোদাল নিয়ে খুঁটিনাটি কাজ করত। ও চলে গেলে সেসব গুছিয়ে রাখতাম।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here