ডেস্ক: দীর্ঘদিন ধরে দলের বিরুদ্ধে জমে থাকা ক্ষোভ উগরে পঞ্চায়েত পূর্বে পদ্ম পতাকা হাতে তুলে নিয়েছিলেন পুরুলিয়ার বলরামপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মনিকা মাহাতোকে। কিন্তু তা আর দীর্ঘস্থায়ী হল না ২৪ ঘন্টা কাটতে না কাটতেই বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে ফিরে এলেন মনিকা দেবী। তাঁর এই সিদ্ধান্তে নিঃসন্দেহে রীতিমতো ধাক্কা খেল রাজ্য বিজেপি।

অনেকদিন থেকেই খবর ছিল বলরামপুর পঞ্চায়েত সমিতির বর্তমান সভাপতি বিজেপিতে আসছেন। সেই মতো গতকাল বিজেপির হুচুক পাড়ার জেলা দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে জেলা সভাপতি বিদ্যাসাগর চক্রবর্তীর হাত থেকে পদ্মফুলের ঝান্ডা ধরে বিজেপিতে যোগদান করেন। তৃনমুল থেকে জয়লাভ করে সভাপতির আসনে পাঁচ বছর বসার পরেও হটাৎ গেরুয়া শিবিরে যোগদান কেন? তখন মনিকা মাহাতোর উত্তর ছিল ‘দলে থেকে কোনো কাজ করতে পারিনি। গরীব মানুষকে সে ভাবে সুযোগ সুবিধা দিতে পারিনি। আমি আবার বিজেপি থেকে ওই এলাকা থেকে ভোটে দাঁড়াবো। তাই বিজেপিতে এলাম। এখানে এলে কাজ করতে পারবো। পঞ্চায়েত নির্বাচনের প্রাক্কালে মনিকা মাহাতোর হটাৎ করেই বিজেপিতে যোগদানের ফলে চাপে পড়ে যায় ঘাসফুল শিবিরে। এরপরই মনিকা দেবীর সঙ্গে বৈঠকে বসেন মন্ত্রী শান্তিরাম মাহাতো। তাঁকে বোঝানো হয় ফিরে আসার জন্য। ওই এলাকা থেকেই তাঁকে পার্থী করার আশ্বাসও দেন শান্তিরাম বাবু। এরপর শনিবার সকালেই তৃণমূলের সঙ্গে সমস্ত বিবাদ ভুলে তৃণমূলে যোগ দেন তিনি। ঘাসফুলের ঝান্ডা ধরিয়ে একেবারে বরণ করার কায়ফায় তৃনমুল যোগদান করানো হয় মনিকা দেবীকে।

এদিকে নিজেদের শক্তি বাড়াতে গিয়ে পুরুলিয়ায় রীতিমতো মুখ থুবড়ে পড়ল বিজেপি। নিশ্চিত ভাবে তীরে এসে তরী ডোবায় কপালে ভাঁজ পড়েছে বিজেপির। যদিও মনিকা দেবী প্রসঙ্গে বিজেপির জেলা সভাপতি বিদ্যাসাগর চক্রবর্তী বলেন, ‘ওকে রাতের মধ্যেই ভয় দেখিয়ে আবার নিয়ে যাওয়া হল। উনি আমাকে বলেছিলেন বিজেপিতে যোগদান করে আমার ভালো লাগলেও খুব ভয় আছি।’ বিদ্যাসাগর বাবু বলেন, ‘উনি প্রচন্ড আতংকে ছিলেন। আর তারই সুযোগ নিল তৃণমুল।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here