ডেস্ক: বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ছেলেমেয়েদের হয়ে পরীক্ষার খাতায় লিখে দিয়ে ‘রাইটার’-এর কাজ করাই তাঁর ব্রত। এ পর্যন্ত অন্তত ৭০০ জন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ছেলেমেয়ের হয়ে লেখিকা হিসেবে কাজ করেছেন বেঙ্গালুরুর পুষ্পা। পুরো নাম পুষ্পা এন এম। বেঙ্গালুরুর বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ছেলেমেয়েদের পরিবারের কাছে পুষ্পার সম্মান প্রায় ঈশ্বরের মত। কত পরিবার যে পুষ্পার সাহায্যে কৃতজ্ঞ তার ইয়ত্তা নেই। তিনি আদতে সফটওয়্যার প্রযুক্তিবিদ। কাজ করেন বেঙ্গালুরুর একটি বহুজাতিক সংস্থায়। সেটা তাঁর পেশা। আর বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ছেলেমেয়ের হয়ে পরীক্ষায় রাইটারের কাজ পুষ্পার নেশা। একত্রিশ বছরের পুষ্পা এই সুবাদে ২০১৮ সালে নারীশক্তি পুরস্কার পেয়েছেন।

পুষ্পা জানিয়েছেন, ক্লাস সেভেনে পড়ার সময় এতই আর্থিক দৈন্যদশার মধ্যে পড়ে তাঁর পরিবার যে, স্কুলে ফি দিতে পারছিলেন না তারা। সেই সময় একজন পোলিও আক্রান্ত পড়শি তাদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি ফি-এর টাকা দেওয়ায় সে যাত্রায় স্কুলছুট হতে হয়নি পুষ্পাকে। তার পর থেকে হতদরিদ্রদের পাশে দাঁড়ানোর নেশায় পেয়ে বসে পুষ্পাকে। ২০০৭ সালে প্রথম সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত কার্তিক মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসার সময় পুষ্পা তার হয়ে রাইটারের কাজ করেন। ভালভাবেই পাশ করে কার্তিক। তখন থেকে চারিদিকে রটে যায় পুষ্পার কথা।

পরীক্ষার সময় অন্তত তিন- সাড়ে তিনঘণ্টা পরীক্ষার্থীর পাশে বসে থাকতে হয়। এ জন্য অফিস থেকেও ছাড় পান। অফিস থেকে বলে দেওয়া হয়েছে, রাইটার হিসেবে কাজ করার জন্য অফিস কোনও বাধা দেবে না তাঁকে। কারণ এই কাজের জন্য কোনও পারিশ্রমিক নেন না পুষ্পা। তিনি বিনা পারিশ্রমিকে এই কাজ করে আসছেন গত ১২ বছর ধরে। বছরে অন্তত ৬০ জন ছাত্রছাত্রীর জন্য রাইটার হিসেবে কাজ করেন তিনি।

অভিজ্ঞতা থেকে পুষ্পা বলেন, ‘অত্যন্ত ধৈর্যশীল হতে হয়। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ছেলেমেয়েরা সব সময় ছোট ছোট বাক্যে উত্তর দেয়। সেটা মাথায় রাখতে হয়। ওদের কথা শুনে গুছিয়ে লিখে দিই। আজ পর্যন্ত যাদের হয়ে রাইটার হিসেবে কাজ করেছেন, সেই পরীক্ষার্থীদের কেউ ফেল করেছে এমনটা হয়নি। এটাই তাঁর বড় সাফল্য হিসেবে মনে করেন পুষ্পা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here