নিজস্ব প্রতিবেদক, রায়গঞ্জ: ”ব্রিজ তৈরির সময় যদি অতিরিক্ত জমি প্রয়োজন হয় দিয়ে দেবেন এবং ঠিকাদারদের কাজ করতে সহযোগিতা করবেন। আপনারা যত বেশি সহযোগিতা করবেন তত দ্রুত কাজ শেষ হবে।” শনিবার দলঞ্চা নদীর ওপর পানিখোয়াগছ ঘাটে মাটিকুন্ডা দ্বিতীয় কিমি আর সি সি বোর পাইল ব্রিজ নির্মাণের শিলান্যাস করতে এসে এমনই বলেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ণ মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। তিনি বলেন, কোনও নিম্ন মানের কাজ দফতর মেনে নেবে না। নিম্ন মানের কাজ হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাজ যদি দুর্বল মনে হয় তবে সরাসরি আমাদের দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন বলেও এলাকার বাসিন্দাদের অনুরোধ জানান মন্ত্রী। মন্ত্ৰী বলেন, হাটের উন্নয়ণেও তাদের দফতর কাজ করছে। ডালখোলা অগ্রসেন ভবনের উন্নয়ণে সাত কোটি চল্লিশ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী যে রাজ্যের সমস্ত কৃষকদের একশ শতাংশ কৃষি জমির খাজনা মুকুব করে দিয়েছেন, সেটা কি কৃষকরা জানেন? সরাসরি এলাকার কৃষকদের এমনই জানান মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ।

এলাকার উন্নয়ণের জন্য সরকারি প্রকল্পের দিকে নজর রাখার কথা জানান তিনি। এদিন কণ্যাশ্রী প্রকল্প নিয়ে সামগ্রিক তথ্যও তুলে ধরেন রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। মানবিক প্রকল্প নিয়েও পড়ুয়াদের সচেতন করেন।
গ্রামীণ এলাকার সবাইকে বিদ্যুতের বকেয়া বিল পরিশোধ করার কথাও শোনান মন্ত্রী। এই বিষয়ে অনেকেই বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বলে সকলকে সতর্ক করেন তিনি। সীমান্ত এলাকায় সন্দেহজনক মানুষকে চিহ্নিত করতে গ্রামবাসীদের উদ্যোগ নিতে হবে। প্রয়োজনে তাদের চায়ের দোকানে বসিয়ে কথা বলে পুলিশকে জানান।
মুখ্যমন্ত্রীর’সেভ ড্রাইভ সেভ লাইফ’ এই প্রকল্পকে সার্থক করার আহ্বানও জানান তিনি। ধানের ন্যায্য মূল্য এবার সরকারিভাবে সতেরো’শ সত্তর টাকা করা হয়েছে। যা গত বছরের থেকে দুশ টাকা বেশি। এই বিষয়টিও ঘোষণা করেন তিনি।

অন্যদিকে রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ণ দফতরের প্রতি মন্ত্রী গোলাম রাব্বানী জানান, এই জেলায় অনেক রাস্তার সেতুর কাজ করা হয়েছে। গোয়ালপোখরের জন্য একশ কোটি টাকার উন্নয়ণের কাজ হয়েছে। শুরু হয়েছে ইসলামপুরের জন্যও। মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষকে উল্লেখ করে ইসলামপুরের জন্য আরও কাজ করতে অনুরোধ জানান তিনি। অসমে বাঙালি হত্যার তীব্র সমালোচনায় মুখর হয়ে ওঠেন তিনি।

উত্তরবঙ্গ উন্নয়ণ দফতরের সচিব বরুণ রায় জানান,বাসট্টি মিটার দৈর্ঘ্য, সাত কোটি আট লক্ষ টাকা ব্যয়ে দুবছর সময় সীমার মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ করা হবে। এটি তৈরি হলে ইসলামপুরের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ণ হবে। জেলায় চৌত্রিশটি পঁচাত্তর কোটি পঁয়ষট্টি লক্ষ টাকা বরাদ্দ হয়েছে। আরও অন্যান্য প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ হয়েছে চল্লিশ কোটি টাকা। এই পিছিয়ে পড়া জেলার জন্য এসব প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। ইসলামপুরে তৈরী হবে রবীন্দ্র ভবন। পুরোনো ভবন ভেঙে প্রায় নয় কোটি টাকা ভেঙে তৈরি হবে রবীন্দ্র ভবন।

উপস্থিত ছিলেন দফতরের সচিব বরুণ রায়, জেলা শাসক অরবিন্দ কুমার মীনা, ইসলামপুরের বিধায়ক কানাইলাল আগরওয়াল, সমাজকর্মী জাকির হোসেন,গঙ্গেশ দে সরকার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here