ডেস্ক: রাহুল বনাম মোদীর মুখোমুখি লড়াইতে কংগ্রেস সভাপতি যে আর জমি পাচ্ছেন না তা আর বুঝতে বাকি নেই সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদেরও। গুজরাত ও কর্ণাটক, উভয় বিধানসভা নির্বাচনেই পরপর ডাহা ফেল করেছেন রাহুল গান্ধি। ত্রিপুরাতেও উড়েছে গেরুয়া ঝাণ্ডা। ফলে যা পরিস্থিতি, মোট ভারতীয় জনসংখ্যার মাত্র ২.৫ শতাংশ বর্তমানে রয়েছে কংগ্রেসের ছত্রছায়ায়। ভারতের অন্যতম পুরনো রাজনৈতিক দল হওয়া সত্ত্বেও এহেন ব্যর্থতার দায় রাহুল গান্ধি ছাড়া আর কেই বা নেবেন? আর এখানেই প্রশ্ন উঠে যাচ্ছে, তবে কি ২০১৯ সালে প্রধান বিরোধী মুখ এবং প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই হতে চলেছেন?

কর্ণাটক বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল এখনও ধীরে ধীরে প্রকাশ পাচ্ছে। সেই ফলাফল পর্যালোচনা করলে দেখা যাচ্ছে, ঠিক যেই যেই কেন্দ্রে কংগ্রেসের হয়ে রাহুল প্রচারে নেমেছিলেন। সেখানেই পিছিয়ে রয়েছে তাঁর দল। অন্যদিকে, যেই যেই কেন্দ্রে বিজেপির হয়ে নরেন্দ্র মোদী প্রচারে নেমেছেন সেখানেই বিপুল ব্যবধানে জয়লাভ করেছে গেরুয়া শিবির। ফলে একটা বিষয় জলের মতোই পরিস্কার। রাহুল বনাম মোদীর ম্যাচে গো হারা হেরেছেন রাহুল। আর এই অবস্থায় মোদীর প্রধান বিরোধী মুখ হিসাবে গোটা দেশে একমাত্র একটিই নাম সামনে এসেছে তা হল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কারণ, কর্ণাটক বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের প্রচারে সমর্থন করতে রাহুল অখিলেশ যাদবকে আমন্ত্রণ জানালেও তিনি সরাসরি তা নস্যাৎ করে দেন।

ফলে, বিরোধী দলগুলির কাছে ক্রমশ যেন দূরে চলে যাচ্ছেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধি। কংগ্রেস সভাপতিকেও ভালভাবে বুঝতে হবে যে, এই অবস্থায় আঞ্চলিক দলগুলির সাহায্য ছাড়া বিজেপিকে কোনও ভাবেই হারাতে পারবেন না রাহুল। এবং আঞ্চলিক বিরোধী শক্তিগুলি যেমন এসপি-বিএসপি, টিডিএস বা তৃণমূল এগুলির মধ্যে প্রধান মোদী বিরোধী মুখ একমাত্র মমতা। মা সোনিয়া গান্ধির হাত ব্যাটন তুলে নিলেও রাহুল যে ব্যর্থ তা প্রমাণিত। ফলে রাহুল গান্ধি যদি নিজের ব্যর্থতা স্বীকার না করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘১-র বিরুদ্ধে ১’ ফর্মুলা না অনুসরণ করেন তবে বিজেপিকে হারানো স্বপ্নই হয়ে রইবে তাঁর। চলতি ফলাফল দেখে জাতীয় স্তরে রাহুলের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রধান বিরোধী মুখ এবং প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হওয়ার দাবিও যেন আরও অক্সিজেন পেয়ে গেল।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here