bengali news

 

মহানগর ডেস্ক: তামিলনাডু, কেরল, অসম এবং পুদুচেরিতে নির্বাচনী প্রচারে গেলেও এখনও পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে পা রাখেননি কংগ্রেসের অন্যতম শীর্ষনেতা রাহুল গান্ধি৷ যা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে নানারকম জল্পনা-কল্পনা চলছিল৷ এবার হয়ত তার অবসান হতে চলেছে৷ সূত্রের খবর, সপ্তম এবং অষ্টম দফায় এ রাজ্যে ভোট প্রচারে আসতে পারেন রাহুল৷ প্রশ্ন উঠেছে প্রিয়াঙ্কা গান্ধিকে নিয়েও৷ রাহুল-প্রিয়াঙ্কা জুটি কেরল, অসমে প্রচার করেছেন৷ কিন্তু এ রাজ্যে তিনদফা ভোট হয়ে গিয়েছে এবং আজ বৃহস্পতিবার চতুর্থদফা প্রচারের দিন শেষ হয়ে গেল৷ কিন্তু এখনও কংগ্রেসের জাতীয়স্তরের কোনও উল্লেখযোগ্য নেতা বাংলায় ভোট প্রচারে আসেননি৷ অথচ বিজেপির শীর্ষ কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব প্রায় দিনই বাংলায় প্রচার করতে আসছেন৷ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা থেকে শুরু করে উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের মতো হেভিওয়েট নেতারা প্রতিটা দফায় ম্যারাথন প্রচার করছেন৷ সেখানে কংগ্রেসের জাতীয় নেতাদের অনুপস্থিতি জোরদার চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছিল৷

প্রশ্ন উঠেছিল তিন তিনটে দফায় ভোট হয়ে গেলেও কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি সাংসদ রাহুল গান্ধি এবং তাঁর বোন এআইসিসি-র সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধির মতো তারকা প্রচারক কেন এখনও বাংলা থেকে দূরত্ব বজায় রাখছেন৷ এ রাজ্যে কংগ্রেসের রাজনৈতিক অবস্থান বা প্রভাব তেমন উল্লেখযোগ্য না হলেও ডুবন্ত জাহাজ প্রদেশ কংগ্রেসকে চাঙা করতে সিপিএম তথা বামফ্রন্ট এবং আইএসএফ-এর সঙ্গে জোট করেছে কংগ্রেস৷ উল্লেখ্য, এই জোটের অন্যতম কুশিলব প্রদেশ সভাপতি সাংসদ অধীর রঞ্জন চৌধুরী৷ যা নিয়ে কংগ্রেসের কেন্দ্রীয়নেতা তথা প্রাক্তন বিদেশ প্রতিমন্ত্রী আনন্দ শর্মার সঙ্গে একপ্রস্থ বিতর্কেও জড়িয়ে পড়েন অধীর৷ বাংলায় সংযুক্ত মোর্চার জোট শরিক হতে আপত্তি ছিল শর্মার৷ তাঁর বক্তব্য ছিল, কংগ্রেস জাতীয় দল৷ তাই অন্য কোনও দলকে আঁকড়ে ধরে পরজীবী হয়ে পায়ের নীচে মাটি খোঁজা কংগ্রেসের জন্য শোভনীয় নয়৷

এমতাবস্থায় কংগ্রেস মহল থেকে বলা হয়, অসম, কেরলে তিনদফায় এবং তামিলনাডু এবং পুদুচেরিতে একদফায় ভোট থাকায় সেখানেই প্রচারে ব্যস্ত ছিলেন রাহুল, প্রিয়াঙ্কা প্রমুখ কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব৷ উল্লেখ্য, তামিলনাডুতে জোট শরিক ডিএমকে-র হয়ে এবং কেরলে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ জোটের শরিক দলগুলোর হয়েও প্রচার করেন রাহুল, প্রিয়াঙ্কা৷ তাহলে পশ্চিমবঙ্গে কেন সংযুক্ত মোর্চার শরিক দল সিপিএম, সিপিআই, আরএসপি, ফরওয়ার্ড ব্লক এবং আইএসএফ-এর হয়ে কেন প্রচারে বিমুখ গান্ধি ভাইবোন৷ অথচ এ রাজ্যে জোটধর্ম মেনে কংগ্রেস প্রার্থীদের হয়ে প্রচার করেছেন বিমান বসু, সূর্যকান্ত মিশ্র এমনকী সীতারাম ইয়েচুরি থেকে ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মাণিক সরকাররা৷ কংগ্রেসের কোনও নেতা কিন্তু এখনও পর্যন্ত বাম-আইএসএফ প্রার্থীদের হয়ে কোথাও প্রচারে নামেননি৷ এর মধ্যে ব্যতিক্রম ছিল গতকাল বুধবার দক্ষিণ কলকাতায় রাসবিহারী, যাদবপুর, কসবা এবং টালিগঞ্জের জোট প্রার্থীদের নিয়ে একসঙ্গে প্রচার করেন অধীর চৌধুরী৷ এদিকে দুদিন আগেই অধীর এমন একটা ইঙ্গিত দিয়েছেন, ভোট পরবর্তী পরিস্থিতিতে তৃণমূলের সঙ্গে জোট় করে মিলিজুলি সরকারে অংশ নিতে পারে কংগ্রেস৷

কিন্তু তবুও এ রাজ্যের প্রচারে কংগ্রেসের শীর্ষনেতৃত্বের অনুপস্থিতি নিয়ে তীর্যক সমালোচনা চলছে৷ এই রহস্য উদঘাটন করতে পারছেন না রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা৷ রাজ্যে ২৯৪ আসনেই প্রার্থী দিয়েছে সংযুক্ত মোর্চা৷ এর মধ্যে ৯২ আসনে লড়ছে কংগ্রেস৷ রাজ্যসভার কংগ্রেসী সাংসদ প্রদীপ ভট্টাচার্য নিশ্চিত করেছেন, রাহুল গান্ধি আসছেন৷ যতদূর শোনা যাচ্ছে উত্তরবঙ্গের নকশালবাড়িতে প্রচারে আসতে পারেন রাহুল৷ সেখানে কংগ্রেসের প্রার্থী শঙ্কর মালাকার৷ নকশালবাড়ি থেকে মাটিগাড়া পর্যন্ত ২০ কিমি. রোড শো করবেন রাহুল৷ এ ছাড়াও মালদা, মুর্শিদাবাদ, শিলিগুড়ি, দার্জিলিংয়েও প্রচার করবেন তিনি৷ তবে ঠিক কোন কোন বিধানসভা কেন্দ্রে কোন কোন প্রার্থীর হয়ে প্রচার করবেন তা জানা যায়নি৷ তবে বাংলায় রাহুলের প্রচারের সম্ভাব্য দিনস্থির হয়েছে ১১ থেকে ১৩ এপ্রিল৷

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here