kolkata news

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পদ খোয়াতেই দলের বিরুদ্ধে বিষাদ উগরে দিলেন রাহুল সিনহা। শনিবার দল ছাড়ারও ইঙ্গিত দেন বিজেপির প্রাক্তন কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক। গোটা বিষয়টা নিয়ে আগামী ১০, ১১ দিনের মধ্যেই তাঁর সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেবেন বলেও তিনি জানান রাহুল।

এদিন এক ভিডিও বার্তায় রাহুল সিনহা বলেন, ‘কুড়ি বছর ধরে বিজেপির সৈনিক হিসেবে কাজ করে এসেছি। দলের জন্ম লগ্ন থেকে বিজেপির সেবা করে এসেছি। দলের এই সেবা করার পুরস্কার হিসেবে প্রাপ্য এটাই, যে তৃণমূল নেতারা আসছে তাই আমাকে সরে যেতে হবে। এর চেয়ে বড় দুর্ভাগ্যের আর কিছু হতে পারেনা। আগামী দশ বারো দিনের মধ্যে আমি আমার সিদ্ধান্ত দলকে জানাবো।’ রাহুল সিনহার এ দিনের বার্তা প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। তাঁর এই বার্তাকেই দল ছাড়ার আভাস বলে মনে করছেন দলের একাংশ। যদিও এ বিষয়ে বঙ্গ বিজেপির কোনও নেতৃত্ব মন্তব্য করতে চাননি।

উল্লেখ্য, শনিবার জাতীয় স্তরের পদাধিকারীকদের তালিকা প্রকাশ করে বিজেপি। এই নতুন তালিকা বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি করা হয়েছে মুকুল রায়কে। অন্যদিকে, বিজেপির কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক পদ থেকে সরানো হয় রাহুল সিনহারকে। কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক হিসেবে স্থান পান তৃণমূল থেকে দলে সদ্য যোগ হওয়া তরুণ নেতা অনুপম হাজরা। এছাড়া দলের মুখপাত্র করা হয়েছে রাজু বিস্তকে। এই গোটা কমিটি তালিকায় সীলমোহর বসিয়েছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জগত প্রকাশ নাড্ডা। আর এই তালিকা প্রকাশের পরই পদ খুলিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন রাহুল সিনহা।

তবে এই প্রথম নয়, নতুনদের আগমনে কিছুটা হলেও ফিকে হয়েছে পুরোনোদের অস্তিত্ব। বেশ কিছুদিন ধরেই এই অভিযোগ এই ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে রাজ্য বিজেপির সর্বস্তরে। তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যাঁরা যোগ দিয়েছেন, তাঁদের বেশিরভাগই মুকুল রায়ের হাত ধরে। মুকুল রায় ঘনিষ্ঠ সৌমিত্র খাঁ, নিশীথ প্রামাণিক, অর্জুন সিংরা বর্তমানে সবাই রাজ্য বিজেপির শীর্ষ স্তরে স্থান পেয়েছেন। বিজেপির অন্দরমহলে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছিল, এই নিয়ে পুরনোদের অসন্তোষ শুরু হয়েছিল অনেক দিন আগেই। এদিন জাতীয় স্তরের তালিকা প্রকাশের পরে সরাসরি সেই অভিযোগ করেন রাহুল সিনহা।

তবে দলের ছোটখাটো অভাব-অভিযোগের দিকে এই মুহূর্তে যে তাকাতে নারাজ শীর্ষ নেতৃত্ব তা আজকের তালিকা থেকেই স্পষ্ট। বিজেপি সূত্রে খবর, এই মুহূর্তে পাখির চোখ একুশের নির্বাচন। সে দিক থেকে কোনও মতেই দৃষ্টি সরাতে নারাজ কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। তাই একদিকে দিলীপ যেমন ঘোষের ‘ডোন্ট কেয়ার’ ইম্প্রেশনকে কাজে লাগাতে চাইছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব, অন্যদিকে, মুকুল শিবিরকে শক্ত করেও রাজ্যে পদ্ম ফুল ফোটাতে মরিয়া বিজেপি। আর সেই কারণেই মুকুল ঘনিষ্ঠ অনুপম হাজরাকে বড় পদ দেওয়া হলো বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এর থেকে মুকুল রায়কে যেমন কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তরফ থেকে একটা পজিটিভ বার্তা দেওয়া হল, তার সাথেই যুবদেরও উদ্বুদ্ধ করা হলো বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যেহেতু বিজেপির যুব মোর্চার সহ-সভাপতি পদে রয়েছেন অনুপম হাজরা। এখন দেখার বিষয় অন্তর্দ্বন্দ্ব কাটিয়ে কতটা প্রশস্ত হতে পারে গেরুয়া শিবির।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here