kolkata bengali news

ডেস্ক: লোকসভা নির্বাচনের আগে বুধবার ব্রিগেডে নরেন্দ্র মোদীর সভাকে ঘিরে উত্তেজনার পারদ চরমে। তবে তাঁর আসার আগে গেরুয়া শিবিরের নেতা মন্ত্রীরা ব্রিগেড মঞ্চ কাঁপাতে উদ্যোগী হয়েছেন। একে একে মন্তব্য রাখতে শুরু করেন বসিরহাটের বিজেপি প্রার্থী সায়ন্তন বসু দমদমের শমীক ভট্টাচার্য এবং রাহুল সিনহা।

রাহুল সিনহা বলেন, সাত বছরে তৃণমূল কী করছে? দিদিভাইকে বলতে চাই, দিদিভাই প্রথমে ছিলেন মমতা, পরে হলেন মমতাজ পরে আবার চেষ্টা করছেন মমতা হতে। আপনি একবার যখন মুসলমান হয়ে গেছেন আর হিন্দু হবেন না। বোরখা পরছেন, আকাশে তাকিয়ে আল্লাহকে ডাকছেন। মুখে এখন আপনি লক্ষ্মীমাতা, বিষ্ণুমাতা বলছেন কিন্তু কোনও মাতাই আপনাকে আর বাঁচাতে পারবেন না। আমি রাহুল সিনহা, আমি একজন হিন্দু। কোটি টাকা দিলেও আমি মুসলমান সেজে নামাজ পড়তে পারব না। কিন্তু মমতা মুসলমান সেজে হিজাব পরে আকাশের দিকে নামাজ পরেন। নামাজ পড়তে তো উনি জানেন না তাহলে কী করেন? একজন সাংবাদিক বলেন, উনি আকাশের দিকে তাকিয়ে মোদী মোদী করে। যে পাপ মমতা করছে তা কখনও ক্ষমা যোগ্য নয়। আমাদের সেনারা পাকিস্তানে ঢুকে জঙ্গিদের খতম করেছে। পাকিস্থান চুপ, ইমরান খান চুপ। আর এদিকে মমতা জিজ্ঞেস করছে সেনারা কতজনকে মেরেছে? কী করেছে। একজন সাংবাদিক আমাকে বলছে, পাকিস্থানে মমতার জনপ্রিয়তা বাড়ছে। তাই যেখানে তাঁর জনপ্রিয়তা বাড়ছে সেখানেই তাঁর চলে যাওয়া উচিৎ। মমতা জিতলে পশ্চিমবঙ্গ পাকিস্তানে পরিণত হয়ে যাবে।

 

তাঁর আরও বক্তব্য, বাংলা থেকে সারদা, নারদাখোরদের সরাতে হবে। সবাই টাকা খেয়েছে। স্বামী, স্ত্রী সকলেই জড়িত। তাই বিজেপিকে ভোট দিয়ে তৃণমূলকে বাংলা থেকে সরিয়ে দিন। বাংলা বাঁচানোর লড়াইয়ে সবাইকে নামতে হবে। এই অভিশাপকে দূর করতেই হবে। তৃণমূল কংগ্রেসের লোকেরা ভীত। মাথায় যার অক্সিজেন কম যায় সেই একমাত্র থাকবে। বাকিরা বেরিয়ে আসুন। তৃণমূলের কর্মীদের বলতে চাই আপনারা আসুন, আমাদের দলে যোগ দিন। আপনাদের নেতারা পরে আসবে। তারা বিজেপিকে সমর্থন করছে কিন্তু দিদির পুলিশ আর সিআইডি আসতে দিচ্ছে না। মমতা ব্যানার্জিকে বলতে চাই, ‘আয় দিদি দেখে যা মোদীজির ক্ষমতা’। ওই ‘পাপ্পু’ বা ‘পাপ্পুনিকে’ দিয়েও মোদীজিকে হারানো যাবে না। এখানে বিজেপি আনুন দেখবেন কারখানা হবে, চাকরি হবে, বেকারত্ব কমবে, মা বোনের সম্মান প্রতিষ্ঠা হবে। আমরা পশ্চিমবঙ্গে ৩২টি আসন জিতব।

সায়ন্তন বসু বলেন, যারা বলছিলেন, ব্রিগেড বিজেপি ভরাতে পারবে না। তারা দেখুন ব্রিগেডে মানুষের জনজোয়ার নেমেছে। তৃণমূলও ব্রিগেড ভরাতে পারেনি। আমরা ডবল ব্রিগেড করলাম, একটা শিলিগুড়িতে আর একটা ব্রিগেডে। বাংলায় পরিবর্তনের দরকার। বাংলার বাইরে তৃণমূল ভ্যানিশ। বাইরে গিয়ে সকলে দেখুন তৃণমূলকে কেউ চেনেই না। বিহারে বলবে, তৃণমূল কী? খায় না চুলে লাগায়। ২০১৯-এ মমতার সরকারের পতন হবে। হত্যালীলা, লুঠের সরকারকে ফেলে দিতে হবে। ভারতীয় জনতা পার্টিদের পদ্মফুলে ভোট দিয়ে জয়ী করুন।

দমদমের বিজেপি প্রার্থী শমীক ভট্টাচার্য বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, ২০১১ সালে মানুষ ভোট দিয়েছে সিপিএমের বিরুদ্ধে, সেজন্য মমতাকে ভোট দিয়েছিলেন। তিনি বিশ্বাস করাতে পেরেছিলেন সিপিএম হারতে চলেছে। তৃণমূল যদি বিশ্বাস করাতে পারে যে মোদীকে পরাজিত করতে পারবে তাহলে জিতবে। ভোটের আগে সবাইকে ছেড়ে এখন রামকৃষ্ণকে ধরেছে। বলছে যত মত তত পথ। শুনুন রামকৃষ্ণের কথা, উনি কাঁদছেন আর নরেনকে ‘যত মত তত পথ’ বলেছিলাম কিন্তু এরা তা বদলে দিল। কামারহাটিতে ভোট করতে দেয়নি। রক্তাতে পরিণত করেছে। বাংলায় মানুষের হৃদয় পদ্মফুল ফুটছে। দিদি এখন দিল্লিতে চলে যাচ্ছেন। আমরা দিদিকে দিল্লি যেতে দেব না। আমরা তোমায় নবান্নে দেখতে ভাই, দুর্গাপুজোর কার্নিভালে, খাইখাই উৎসব এবং মাটি উৎসবে দেখতে চাই। তাঁকে সসম্মানে নবান্নে গঙ্গার ধারে রেখে দিতে চাই। কংগ্রেসের সমর্থনে ভারতবর্ষের কোনও সরকার বেশিদিন চলতে পারেনবি। কংগ্রেস অশান্তির সৃষ্টি করছে। বাংলার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছে। দিদি লুকোচুরি খেলা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর আবাস যোজন প্রকল্পে মোদীর নাম ছোট আর ওপরে দিদির নাম বড়ো করে লেখা রয়েছে। আর কতদিন লুকোচুরি খেলবেন দিদি? গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে বিজেপি জিতবে, তৃণমূল হারবে। শেষ কথা বলবে মানুষ।

 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here