ডেস্ক: উত্তর কলকাতায় তৃণমূলের বিদায়ী সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখোমুখি হয়েছেন বিজেপির কেন্দ্রীয় সম্পাদক রাহুল সিনহা। বিজেপির প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হওয়ার পরই সময় নষ্ট না করে প্রচারে নেমে পড়েছেন তিনি। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সারদা, নারদা মামলার সম্পর্ক টেনে রাহুল সিনহা দাবি করেন, এই সমস্ত কারণের জন্য সাধারণ মানুষ কখনই আর চাইবেন সুদীপবাবুকে। বঙ্গ বিজেপির এই প্রথম সারির নেতা সুদীপকে কটাক্ষ করে বলেন, পাঁচ বছরে বেশিরভাগ সময় জেলে কাটিয়েছেন উনি। চিটফাণ্ড সংস্থাগুলি সাধারণ মানুষের যে টাকা লুট করেছে তাতে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়েরও ভাগ রয়েছে। তাই উত্তর কলকাতা লোকসভা কেন্দ্রের মানুষ তাঁর হাত থেকে মুক্তি পেতে চায়।

বেশ কিছুদিন ধরেই অসুস্থতায় ভুগছেন উত্তর কলকাতার সাংসদ। জেল থেকে ছাড়াও পেয়েছেন স্বাস্থ্যের কারণ দেখিয়ে। এই প্রসঙ্গে সুদীপকে খোঁচা মেরে রাহুল বলেন, যার শরীর জেলখানায় থাকার মতো অবস্থায় নেই, তিনি প্রচারে নেমে মানুষের জন্য কাজ করবেন কীভাবে? লোকসভা কেন্দ্রে নিজের প্রতিদ্বন্দ্বীকে কটাক্ষ করা ছাড়াও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও ছিলেন রাহুলের নিশানায়। যথারীতি বালাকোটে এয়ার স্ট্রাইক নিয়ে মমতা প্রশ্ন তোলায় মুখ্যমন্ত্রীকে তুলোধোনা করেন তিনি। রাহুলের বক্তব্য, মমতা দেশের বিরোধিতা করেছেন। সেনাদের নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কিছু মুসলমান ভোটকে পুঁজি করার জন্য পাকিস্তানের পক্ষ নেওয়ার কাজ মমতা করেছেন। কিন্তু দেশের মুসলিম সম্প্রদায়ও মমতার এই বক্তব্যের সমর্থন জানায়নি।

অন্যদিকে রাহুল সিনহার কণ্ঠে আত্মবিশ্বাস ঝরে পড়লেও প্রার্থী তালিকা যে দলের অন্দরেই ক্ষোভ রয়েছে, সেই আঁচও টের পাচ্ছেন তিনি। তবে এই প্রসঙ্গে যতটা সম্ভব বিতর্ক ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টাই করেন রাহুল। তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগ দেওয়া নেতারা যেভাবে রাতারাতি লোকসভা নির্বাচন লড়ার টিকিট পেয়ে গেছেন তাতে ক্ষোভে ফেটে পড়েছে দলেরই একাংশ। এই নিয়ে সাফাই গেয়ে রাহুল বলেন, তালিকা নিয়ে কারোর কারোর অসন্তোষ থাকতেই পারে। যেখানে যা সমস্যা হচ্ছে তা আলোচনার মাধ্যমে সমধান করার চেষ্টা করে যাওয়া হচ্ছে। পরিবর্তনের জন্য নতুনদের দরকার। নতুন ও পুরনোর মিশ্রণে দল নতুন দিশা পাবে। কেবল নতুন বা কেবল পুরনো দিয়ে দল বড় হয় না। সময়ের সঙ্গে সবই ঠিকই হয়ে যাবে।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here