rahul sinha bengali news

নিজস্ব প্রতিনিধি: নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনকে কেন্দ্র করে রাজ্যের সমস্ত জায়গায় যে অশান্তির সৃষ্টি হয়েছে, তার জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই দায়ী করলেন বিজেপির কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক রাহুল সিনহা। এই ঘটনা জামায়েত জঙ্গিদের পূর্ব পরিকল্পিত বলেই এদিন দাবি করেন তিনি। শনিবার রাজ্য বিজেপির সদর দফতরে সাংবাদিক সম্মেলনে একথা বলেন রাহুল সিনহা।

এদিন রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় হামলা প্রসঙ্গে একটি বিবৃতি দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই বিবৃতিতে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গণতান্ত্রিক পথে আন্দোলন করুন, কিন্তু আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না। পথ অবরোধ, রেল অবরোধ করবেন না। সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বরদাস্ত করা হবে না। যাঁরা গন্ডগোল করছেন, রাস্তায় নেমে আইন হাতে তুলে নিচ্ছেন, তাঁদের কাউকে ছেড়ে দেওয়া হবে না। বাসে আগুন লাগিয়ে, ট্রেনে পাথর ছুড়ে, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করলে, আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

কিন্তু ‘দাঙ্গা’ অনুযায়ী সেই বিবৃতি যথেষ্ট নয় বলেই এদিন দাবি করেন রাহুল সিনহা। এবিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ করে রাহুল সিনহা বলেন, ‘এই জামায়েত জঙ্গিরা মুখ্যমন্ত্রীর ভাইয়ের সমান, তাই মুখ্যমন্ত্রীর এই ভাইয়েরা দাঙ্গা চালানোর পরেও মুখ্যমন্ত্রীর সুর নরম।’ তাঁর কথায়, মুখ্যমন্ত্রীর বিবৃতিটি যথেষ্ট প্ররোচনামূলক। তিনি দাঙ্গার ভয়ংকর রূপ দেখেও আন্দোলন না থামিয়ে তা বজায় রাখার কথা বলেছেন যা অত্যন্ত দুঃখজনক। এই দাঙ্গাকে দমন করার জন্য আরও কড়া বিবৃতির প্রয়োজন ছিল মুখ্যমন্ত্রীর তরফ থেকে।

নাগরিকত্ব আইনকে কেন্দ্র করে এই দাঙ্গা দমনের জন্য দাঙ্গাবাজদের বিরুদ্ধে গুলি চালানোর জন্য মুখ্যমন্ত্রীর কাছে দাবি জানান রাহুল সিনহা। তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর উচিত এই দাঙ্গা দমনের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর এখনই উচিত দাঙ্গাবাজদের চিহ্নিত করা। এবং তাদের গুলি করে হত্যা করার নির্দেশ দেওয়া। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী তা না করে দাঙ্গাবাজদের উস্কানি দিয়ে যাচ্ছে, তাই নবান্নের থেকে কিছু দুরত্বেই ১৫ টি বাস জ্বালানোর মত সাহস দেখায় দাঙ্গাবাজরা। এই দাঙ্গাকারীদের এদিন বাংলাদেশী মুসলমান অনুপ্রবেশকারী বলেই উল্লেখ করেন রাহুল সিনহা। তাঁর কথায়, এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে ভবিষ্যতে রাজ্য রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হয়ে যাবে বলেও এদিন মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here