train
train

ডেস্ক: রাজ্যে রেল পরিষেবায় এবার তুঘলকি সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে কেন্দ্র৷ বিভিন্ন শাখার আটটি গুরুত্বপূর্ণ রুটে রেল পরিষেবা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেলমন্ত্রক৷ এ ব্যাপারে নবান্নে রাজ্যের মুখ্যসচিবকে ইতিমধ্যেই চিঠি দিয়েছে রেলমন্ত্রক৷ নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছ, বালিগঞ্জ-বজবজ, সোনারপুর-ক্যানিং, বধর্মান-কোটোয়া, বারাসাত-হাসনাবাদ, নামখানা-বারুইপুর, কল্যাণী-কল্যাণী সীমান্ত, শান্তিপুর-নবদ্বীপ ঘাট এবং ভীমগড়-পলাশস্থলী৷

রেলমন্ত্রকের পক্ষ থেকে রাজ্যের মুখ্য সচিবকে একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে৷ যদি সংশ্লিষ্ট রুট গুলিতে রেল পরিষেবা চালু রাখতে হয় তাহলে লোকসানের ব্যয়ভারের অর্ধেক বহন করতে হবে রাজ্য সরকারকে৷ রেল মন্ত্রকের এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ বাংলায় আটটি লোকাল ট্রেনের রুট বন্ধের ঘটনা নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া দিলেন তিনি৷ এই ঘটনাকে মুখ্যমন্ত্রী বাংলার ও বাংলার মানুষের অপমান বলে ব্যাখ্যা করেছেন৷ ঘটনাটি পুরোপুরি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলেও তিনি দাবি করেছেন৷ তিনি বলেন, ‘আমরা কেন রুট বন্ধ করব৷ কেন্দ্র শুধু লাভ করবে আর রাজ্য লোকসান করবে৷ ওরা শুধু এটাই চায়৷ ওরা বাংলাকে বঞ্চনা করছে৷’

এই খবরে, সাধারণ মানুষ ও নিত্য যাত্রীরা খুবই বিচলিত৷ কেন্দ্রের এহেন সিদ্ধান্তে সিদুঁরে মেঘ দেখছেন এই রুটের নিত্য যাত্রীরা৷ এই রুট গুলি মূলত খেটে খাওয়া গরীব মানুষ ও মধ্যবিত্তদের কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য খুবই সুবিধাজনক৷ এখন যদি সেগুলি বন্ধ করে দেওয়া হয়, তাহলে অনেকের পক্ষেই তা মারাত্মক সমস্যার হয়ে দাঁড়াবে৷ কলকাতার সঙ্গে যোগাযোগ রাখার জন্য বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থা সাধারণের আয়ত্বের বাইরে৷ তাছাড়া বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থাগুলি অনেক সময় সাপেক্ষ৷

উল্লেখ্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দীর্ঘদিন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলেছেন৷ এ রাজ্যের জন্য অনেক প্রকল্প করেছে৷ রেলমন্ত্রী থাকাকালীন গরীব মানুষদের জন্য ২৫ টাকার মান্থলি তাঁরই মস্তিষ্ক প্রসূত৷ এছাড়া মাতৃভূমি থেকে শুরু করে অনেক প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে প্রাক্তন রেলমন্ত্রী মমতার আমলে৷ তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর রেল মন্ত্রীত্ব পেয়েছিলেন তৃণমূল সাংসদ দীনেশ ত্রিবেদি৷ ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ায় একটা সময়ে দীনেশ ত্রিবেদিকে রেলমন্ত্রকের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেন মমতা৷ দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয় প্রক্তান তৃণমূল সাংসদ তথা বর্তমানে বিজেপি নেতা মুকুল রায়কে৷ এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কেন্দ্রের শাসক দলের নেতা ও প্রাক্তন রেলমন্ত্রী মুকুল রায়ের কোনও প্রতিক্রিয়া অবশ্য পাওয়া যায়নি৷

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here