মহানগর ওয়েবডেস্ক : তবে কি তৃণমূলে মুশল পর্বের শুরু? বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের কথাই কি সত্যি হবে? রাজনৈতিক মহলে এমন কথাই ঘুরপাক খাচ্ছে। তৃণমূল কংগ্রেসের হেভিওয়েট নেতা শুভেন্দু অধিকারীর দলত্যাগের বিষয়ে নেতৃত্বে যখন পাত্তা দিতে নারাজ ঠিক তখনই বেসুরো মন্তব্য করে বসলেন দলের প্রথম সারির নেতা তথা মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়।

এদিন এক অরাজনৈতিক অনুষ্ঠানে হাজির থেকে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন বনমন্ত্রী। রাজীব এদিন বলেন, ‘ যাঁরা আমরা রাজনীতিতে আছি, অনেক সময়ে ভাবি রাজনীতিতে ক্ষমতটাই সব। অর্থাৎ আমি ক্ষমতা ভোগ করতে পারি। এখন এই ধরনের মানুষ অনেক রয়েছে। আমি রাজনীতিটা করি মানুষের স্বার্থে। গণতন্ত্রে মানুষই শেষ কথা। যাঁরা যোগ্যতার সঙ্গে কাজ করছে, যাঁদের মধ্যে দক্ষতা রয়েছে, যাঁরা মানুষের সঙ্গে মিশতে পারে, মানুষের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রমের চেষ্টা করে তাঁরাই প্রাধান্য পাচ্ছে না। এটা আমাকে কষ্ট দেয়। যাঁরা ঠান্ডা ঘরে থাকে, যাঁরা মনে করে মানুষকে সহজে বোকা বানানো যায়, তাঁদের ঠকিয়ে দিলে বোধহয় আমার কাজ সফল। আজ তাঁরাই বিভিন্ন জায়গায় সামনের সারিতে চলে আসছেন।’

তিনি আরও জানান, ‘ যখন যোগ্যতার সঙ্গে কাজ করার চেষ্টা করেছি, সঙ্গে সঙ্গে পিছনের সারিতে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। যে মুখগুলোকে মানুষ দেখতে চায় না, দুর্নীতিগ্রস্ত, স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করতে পারে না যাঁরা, সত্যি কথা বলতে পারে না, তাঁরা স্তাবক বলে সামনের সারিতে আনা হচ্ছে। এ কী যন্ত্রণা বোঝাতে পারব না! এটা স্তাবকতার যুগ। আমি ভাল বললে ভাল বলতে হবে। খারাপ বললে খারাপ বলতে হবে। হ্যাঁ-তে হ্যাঁ, না-তে না মেলাতে পারলে তুমি ভাল নইলে তুমি খারাপ। মানুষের পালস বুঝতে পারছে না। মানুষ রাজনীতি থেকে বিমুখ হয়ে যাচ্ছে।’

শুভেন্দু অধিকারীর পাশপাশি, অতিন ঘোষ, সাধন পান্ডে, এবার রাজীব ব্যানার্জী দলের কিছু মানুষের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে এই মন্তব্য কিছুটা হলেও অস্বস্তিতে ফেলছে বলে মত রাজনৈতিক মহলের। ইতিমধ্যেই দলের কলকাতার নেতা ও আই প্যাকের দিকে আঙুল তুলে তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙেছেন বিধায়ক মিহির গোস্বামী, ক্ষোভ প্রকাশ করছেন ব্যারাকপুরের বিধায়ক শীলভদ্র দত্ত।

রাজনৈতিক মহলের মত, মূলত হাওড়ায় রাজীব ব্যানার্জী বনাম অরূপ রায়ের যুদ্ধ নেত্রী শান্ত করতে লক্ষীরতন শুক্লকে ওই জেলার সভাপতি করেন। কিন্তু তাতেও ফল হয়নি, হাওড়ায় দলের মধ্যে অসন্তোষ দূর করতে ইতিমধ্যেই প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গে একপ্রস্থ আলোচনা করেছেন রাজীব, অরূপ ও লক্ষ্মীরতন শুক্লা। এর আগে আম্ফান এর সময় দলের অন্দরেরর দুর্নীতির বিরুদ্ধে তৎকালীন হাওড়া জেলা সভাপতি অরূপ রায়ের ভূমিকা নিয়ে নাম না করেই ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন জনপ্রিয় নেতা রাজীব ব্যানার্জী, এবারে টালিগঞ্জের এক অরাজনৈতিক সভায় রাজীবের বিস্ফোরক মন্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে নতুন জল্পনা সৃষ্টি করল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here