payel kolkata bengali news

মহানগর ওয়েবডেস্ক: একা আন্তর্জাতিক গোলকিপার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্রভাই দামোদরদাস মোদী নন৷ তাঁর সঙ্গে এই একই পুরস্কার পেল তাঁর দেশের সপ্তদশী পায়েল জাঙ্গিদ৷ রাজস্থানের অজ পারাগাঁর এই কিশোরীর গুরু নোবেল শান্তি পুরস্কার জয়ী কৈলাস সত্যার্থী৷ তাকে কৈলাসের যোগ্য উত্তরসূরি হিসাবে ভাবছে বিশ্ব৷ বাল্য বিবাহ আটকে আজ পায়েল বিশ্বমঞ্চে গোলকিপার৷ এই সপ্তদশীর সোজা কথা গুরু কৈলাসের মন্ত্রে আজ তার গ্রামে বাল্য বিবাহ আটকে দিতে পেরেছে সে একাই৷

রুক্ষ মরুপ্রদেশে তার লড়াই মরূদ্যান তৈরির মতোই কঠিন ছিল। অসম্ভব সেই স্বপ্নকেই সম্ভব করেছেন ১৭ বছরের পায়েল জাঙ্গিদ। যার অক্লান্ত চেষ্টায় রাজস্থানের একটি প্রান্তিক গ্রাম আজ বাল্যবিবাহের অভিশাপ থেকে মুক্ত। লড়াকু পায়েলের এই সংগ্রামকেই বুধবার স্বীকৃতি জানাল ‘বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন’। প্রথম ভারতীয় মহিলা হিসেবে ‘গোলকিপার্স গ্লোবাল গোলস চেঞ্জমেকার’ পুরস্কার পেল ।বিশ্বের অন্যতম নামী মানবকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান ‘বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন’ দারিদ্রমুক্তি, সাম্য এবং পরিবেশরক্ষার জন্য লড়াই করে চলা যোদ্ধাদের প্রতি বছর ‘চেঞ্জমেকার’ সম্মান দিয়ে থাকে। এ বার এই সম্মান পেলেন নোবেলজয়ী কৈলাস সত্যার্থীর যোগ্য উত্তরসূরি পায়েল।

রাজস্থানের হিনসলা গ্রামের মেয়ে পায়েলের মা-বাবা ১১ বছর বয়সে তার বিয়ে ঠিক করে ফেলেছিলেন। সে দিনের সেই কিশোরী সমাজ এবং পরিবারের যাবতীয় চোখরাঙানি উপেক্ষা করেই গর্জে উঠেছিল। বিয়েটা বাতিল করতে বাধ্য হয়েছিল পরিবার। সেখান থেকেই লড়াইয়ের শুরু। তার পর গ্রামের নানা প্রান্তে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ করে, কখনও আবার পথচলতি মানুষকে বুঝিয়ে বাল্যবিবাহের মতো কুপ্রথাগুলির বিরুদ্ধে সচেতনতা গড়ার কাজে নামে পায়েল। ছোটদের পঞ্চায়েতের প্রধানও নির্বাচিত হয় সে। অক্লান্ত এই শ্রমই সাফল্য এনে দেয় তাকে। সফল হয় তার চেষ্টা, শিশু নির্যাতনের হাত থেকে মুক্তি পায় তার গ্রাম। বর্তমানে ‘বাল মিত্র গ্রাম’ বা শিশুদের জন্য বন্ধুত্বপূর্ণ গ্রামের শিরোপা রয়েছে পায়েলের এই গ্রামের মুকুটে। এ বার সম্মানিত হল পায়েল নিজেও।

মঞ্চে দাঁড়িয়ে মেন্টরকে স্মরণ করে পায়েল বলে, ‘শিশুদের অধিকারের জন্য লড়াই করার সুযোগ আমাকে কৈলাস সত্যার্থী পাইয়ে দিয়েছেন। এর জন্য আমি তাঁর কাছে কৃতজ্ঞ থাকব।’ আগামী দিনে এই লড়াই চালিয়ে যাওয়ারও অঙ্গীকার করেছে সে। শিষ্যার সাফল্যে উচ্ছ্বসিত নোবেলজয়ী মেন্টরও। সত্যার্থীর কথায়, ‘পায়েলের মতো যুবরাই তাদের বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বরকে কাজে লাগিয়ে পৃথিবীতে বদল আনছে। তাদের জন্যই পরিবর্তন আমাদের দরজায় কড়া নাড়ছে। আমার আশা, এই লড়াই চলবে।’

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here